কুমিল্লায় বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা ও দ্বন্দ্ব ক্রমশ বেড়ে চলেছে। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরও মনোনয়ন না পাওয়া নেতারা মাঠে সক্রিয় থাকছেন। বিভিন্ন শোভাযাত্রা, মিছিল এবং সমাবেশের মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রভাব এবং জনপ্রিয়তা প্রদর্শন করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
অধিকাংশ নেতারা বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়ন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা এবং ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তোলার ব্যানারে কর্মসূচি করছেন। তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, এগুলো মূলত মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের ‘জনপ্রিয়তা প্রমাণের’ প্রয়াস।
কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন আন্দোলন স্থগিত করেছেন। তার দৈনন্দিন কর্মসূচি এখনও অব্যাহত রয়েছে। মনিরুল হক চৌধুরী তার মনোনয়ন অনুযায়ী প্রচার চালাচ্ছেন। এতে শহরের বিভিন্ন অংশে সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে।
কুমিল্লা-৫ আসনে সাবেক জেলা সদস্য সচিব জসিম উদ্দিন মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে বঞ্চিত নেতারা মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ চালাচ্ছেন। জসিম উদ্দিন বলেছেন, প্রাথমিক তালিকা প্রকাশিত হলেও দল পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে, তাই সবাইকে একত্রে কাজ করতে আহ্বান জানাচ্ছেন।
কুমিল্লা-৯ এবং কুমিল্লা-১০ আসনে মধ্যস্থতার পরও নেতারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। কুমিল্লা-২ ও কুমিল্লা-৭ আসনে এখনও চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা হয়নি। কিছু আসনে বিএনপি তাদের শরিক দলের জন্য আসন ছাড়ার পরিকল্পনা করছে, যা নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে কুমিল্লার বিএনপি নেতাদের মধ্যে বিভাজন ও উত্তেজনা বেড়ে গেছে। স্থানীয় ভোটার ও নেতাদের সক্রিয়তা দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। দলীয় হাই কমান্ড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নির্বাচনের আগে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের এই কর্মসূচি রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করছে।
স্টাফ রিপোর্টার 
























