★ মনোনয়ন ঘিরে গ্রুপিং, বিক্ষোভ মিছিল
★ ভেতরের বিভক্তি প্রকাশ্যে, দলের ভেতরে অসন্তোষ
★ মিছিলের সাথে আমি জড়িত নই, সংগঠন ভুল বুঝেছে: জসিম উদ্দিন
★ শৃঙ্খলার প্রশ্নে আপোষহীন জামায়াত : মোজাম্মেল হক
দীর্ঘদিন শারীরিক অসুস্থতার কারণে সংগঠনে নিষ্ক্রিয় ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক জসিম উদ্দিন। তিনি ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসন থেকে জামায়াতের মনোনয়নে তিন দফা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রতিবারই ব্যর্থ হন।
অসুস্থতা ও দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে ২০২২ সাল থেকে কেন্দ্রের নির্দেশে ফুলবাড়িয়া উপজেলায় গণসংযোগ শুরু করেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়নও পেয়েছেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলের ভেতরে একটি অংশ আবারও অধ্যাপক জসিম উদ্দিনকে সামনে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবির ব্যাপারে সোচ্চার হয়ে উঠে এবং এ নিয়ে গ্রুপিং স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু নেতা-কর্মী তাকে ঘিরে অবস্থান নেন। গত শনিবার ফুলবাড়িয়ায় ‘ফুলবাড়িয়া ঐক্যবদ্ধ জনতা’র ব্যানারে এক বিক্ষোভ মিছিলও হয়, যেখানে অধ্যাপক জসীম উদ্দিনকে প্রার্থী করার দাবি তোলা হয়। এর মধ্য দিয়ে ভেতরের বিভক্তি প্রকাশ্যে চলে আসে।
এ পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় সাবেক জেলা আমীর অধ্যাপক জসিম উদ্দিনের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সদস্যপদ (রুকনিয়াত) স্থগিত ঘোষণা করেছে। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অধ্যাপক জসিম উদ্দিনের সামগ্রিক তৎপরতায় দলের সুনাম, ঐতিহ্য ও শৃঙ্খলা ক্ষুণ্ন হচ্ছে, যা গঠনতন্ত্রের ধারা ৬২ এর উপধারা ২ (ক) ও (খ) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এজন্য গত সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তার সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দ বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠার পর থেকে শৃঙ্খলার প্রশ্নে আপোষহীন। ব্যক্তিবিশেষ বা গোষ্ঠীর উর্ধ্বে থেকেও আমরা শৃঙ্খলা রক্ষা করেছি, ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর ফজলুল হক শামীম বলেন, অধ্যাপক জসিম উদ্দিনের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়ে জেলার চিঠি আমরা হাতে পেয়েছি।
এ ব্যাপারে জসিম উদ্দিন বলেন, আমি সংগঠনের সুনামহানিকর বা গঠনতন্ত্রবিরোধী কোনো কাজ করিনি। কারণ, এরকম কোন কাজ করলে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সদস্যপদ (রুকনিয়াত) স্থগিত হওয়ার আগে শোকজ পেতাম। কিন্তু সংগঠন থেকে আমি কোন শোকজ পাইনি।
তিনি আরও বলেন, গত শনিবার আমার পক্ষ থেকে কোন মিছিল হয়নি। সাধারণ জনগণ ও জামায়াতের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরা ওই মিছিলটি করেছে। যেহেতু ওই মিছিলে জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল সেটি জামায়াত-শিবিরের আড়ালে কিছু হয়েছে বলে মনে করি না। সংগঠন হয়তবা আমাকে ভুল বুঝেছে। আমি আবারও আশ্বস্ত করতে চাই যে, ওই মিছিলের সাথে আমি জড়িত নই। আমাকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করার জন্য ষড়যন্ত্র করেও কোন মহল ওই মিছিলটি করাতে পারে। তবে আমি সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বাইরে কিছুই করব না। সংগঠনের সিদ্ধান্তের বাইরে আমার এমপি হওয়ার কোন ইচ্ছা নেই।
বিশেষ প্রতিবেদক 





















