০৮:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাইব্রেকারে ভারতকে উড়িয়ে সাফের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

 

মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচটি গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুচাপ সামলে ৪-৩ ব্যবধানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়ে টানা আধিপত্য ধরে রাখে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

 

খেলার শুরুতেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে নামে ভারত। ম্যাচের প্রথম কয়েক মিনিটেই তারা একটি দারুণ সুযোগ তৈরি করে, তবে সেটি কাজে লাগাতে পারেনি। শুরুর এই চাপ কাটিয়ে ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দে ফিরে আসে বাংলাদেশ। বিশেষ করে দুই প্রান্ত দিয়ে দ্রুত আক্রমণ সাজিয়ে ভারতের রক্ষণভাগকে বেশ চাপে রাখে তারা।

 

বিজ্ঞাপন

 

 

বাংলাদেশের অধিনায়ক ও মিডফিল্ডাররা মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলার গতি নিজেদের দিকে টেনে আনেন। ফ্রি-কিক ও সেটপিস থেকেও গোলের সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা মেলেনি।

 

প্রথমার্ধজুড়ে দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করে। বাংলাদেশের আক্রমণগুলো ছিল তুলনামূলক বেশি সংগঠিত, তবে ভারতের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

 

অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে ভারতও কয়েকবার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। বাংলাদেশের গোলরক্ষকও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সজাগ থেকে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন।

 

প্রথমার্ধের শেষদিকে বাংলাদেশ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং দূরপাল্লার শট ও ক্রস থেকে গোলের চেষ্টা করে, কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় স্কোরলাইন অপরিবর্তিতই থাকে। বিরতির পর ম্যাচের চিত্র কিছুটা বদলে যায়। দুই দলই ঝুঁকি কম নিয়ে খেলতে শুরু করে। বাংলাদেশ রক্ষণকে শক্ত করে রেখে সুযোগ বুঝে আক্রমণে যাওয়ার কৌশল নেয়। ভারত এই সময়ে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিং দুর্বলতায় ভুগতে থাকে। বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক সমন্বিতভাবে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয়।

 

বিজ্ঞাপন

 

 

ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে আক্রমণের ধার বাড়াতে কোচ মার্ক বদলি খেলোয়াড় নামান। নতুন খেলোয়াড়দের মাধ্যমে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করা হলেও কাঙ্ক্ষিত গোল আসেনি। তবে ম্যাচের শেষ দশ মিনিটে আবারও উত্তেজনা বাড়ে। ভারত একটি সুবর্ণ সুযোগ পেলেও সেটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশও পাল্টা আক্রমণে গোলের চেষ্টা চালায়, কিন্তু দুই দলের কেউই শেষ মুহূর্তে জালের দেখা পায়নি। রেফারি যোগ করা সময় দিলেও গোলের অচলাবস্থা কাটেনি। ফলে ম্যাচটি ০-০ অবস্থায় টাইব্রেকারে গড়ায়।

 

টাইব্রেকারে স্নায়ুর লড়াইয়ে বাংলাদেশ স্থিরতা দেখায়। গুরুত্বপূর্ণ শটে সফল হয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে শিরোপা নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

আওয়ামী অপতৎপরতা ও মাদকের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ বিএনপির বিক্ষোভ-সমাবেশ

বর্ণাঢ্য আয়োজনে শেষ হলো বাকৃবি সোহরাওয়ার্দী হলের ‘ক্রিমসন হাইস্ট’ ফিস্ট

20 June 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

টাইব্রেকারে ভারতকে উড়িয়ে সাফের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

পোষ্টের সময় : ১২:০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

 

মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচটি গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুচাপ সামলে ৪-৩ ব্যবধানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়ে টানা আধিপত্য ধরে রাখে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

 

খেলার শুরুতেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে নামে ভারত। ম্যাচের প্রথম কয়েক মিনিটেই তারা একটি দারুণ সুযোগ তৈরি করে, তবে সেটি কাজে লাগাতে পারেনি। শুরুর এই চাপ কাটিয়ে ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দে ফিরে আসে বাংলাদেশ। বিশেষ করে দুই প্রান্ত দিয়ে দ্রুত আক্রমণ সাজিয়ে ভারতের রক্ষণভাগকে বেশ চাপে রাখে তারা।

 

বিজ্ঞাপন

 

 

বাংলাদেশের অধিনায়ক ও মিডফিল্ডাররা মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলার গতি নিজেদের দিকে টেনে আনেন। ফ্রি-কিক ও সেটপিস থেকেও গোলের সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা মেলেনি।

 

প্রথমার্ধজুড়ে দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করে। বাংলাদেশের আক্রমণগুলো ছিল তুলনামূলক বেশি সংগঠিত, তবে ভারতের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

 

অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে ভারতও কয়েকবার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। বাংলাদেশের গোলরক্ষকও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সজাগ থেকে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন।

 

প্রথমার্ধের শেষদিকে বাংলাদেশ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং দূরপাল্লার শট ও ক্রস থেকে গোলের চেষ্টা করে, কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় স্কোরলাইন অপরিবর্তিতই থাকে। বিরতির পর ম্যাচের চিত্র কিছুটা বদলে যায়। দুই দলই ঝুঁকি কম নিয়ে খেলতে শুরু করে। বাংলাদেশ রক্ষণকে শক্ত করে রেখে সুযোগ বুঝে আক্রমণে যাওয়ার কৌশল নেয়। ভারত এই সময়ে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিং দুর্বলতায় ভুগতে থাকে। বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক সমন্বিতভাবে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয়।

 

বিজ্ঞাপন

 

 

ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে আক্রমণের ধার বাড়াতে কোচ মার্ক বদলি খেলোয়াড় নামান। নতুন খেলোয়াড়দের মাধ্যমে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করা হলেও কাঙ্ক্ষিত গোল আসেনি। তবে ম্যাচের শেষ দশ মিনিটে আবারও উত্তেজনা বাড়ে। ভারত একটি সুবর্ণ সুযোগ পেলেও সেটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশও পাল্টা আক্রমণে গোলের চেষ্টা চালায়, কিন্তু দুই দলের কেউই শেষ মুহূর্তে জালের দেখা পায়নি। রেফারি যোগ করা সময় দিলেও গোলের অচলাবস্থা কাটেনি। ফলে ম্যাচটি ০-০ অবস্থায় টাইব্রেকারে গড়ায়।

 

টাইব্রেকারে স্নায়ুর লড়াইয়ে বাংলাদেশ স্থিরতা দেখায়। গুরুত্বপূর্ণ শটে সফল হয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে শিরোপা নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।

 

Share this news as a Photo Card