০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের পর এবার চীন সফরে পুতিন

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার আলোচিত চীন সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফিরে যাওয়ার চার দিনের মাথায় বেইজিং সফরে গিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গতকাল স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১৫ মিনিটে বেইজিংয়ের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে পুতিনকে বহনকারী উড়োজাহাজটি।

 

বিমানবন্দরে পুতিন ও তার নেতৃত্বাধীন সফরকারী দলকে অভ্যর্থনা জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। গত ১৩ মে বুধবার ট্রাম্প বেইজিংয়ে অবতরণের পর তাকে লাল গোলাপ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল, চীনের সামরিক বাহিনীর একটি ব্যান্ডদল ট্রাম্প এবং তার নেতৃত্বাধীন সফরকারী দলকে স্বাগত জানিয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করেছিল, বিমানবন্দরে তরুণ-তরুণীরা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা নাড়াতে নাড়াতে ‘স্বাগতম, স্বাগতম’ স্লোগান দিয়েছিল; গতকাল পুতিন ও তার নেতৃত্বাধীন সফরকারী দলের বেলাতেও একইভাবে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এএফপি।

 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি দপ্তর ও বাসস্থান ক্রেমলিন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পুতিনের এই সফর সম্পর্কে বলা হয়েছে, “আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মত বিনিময় করাই প্রেসিডেন্ট পুতিনের এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য।”

 

চীন এবং রাশিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক গভীর হওয়া শুরু করেছে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে। সেই অভিযান এখনও চলছে এবং এর কারণে গত চার বছরে একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে রাশিয়ার দূরত্ব বেড়েছে, তেমনি অন্যদিকে কাছাকাছি এসেছে মস্কো এবং বেইজিং।

 

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুনের মতে, চীন এবং রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক র্বতমান বিশ্বে সবচেয়ে ‘সহনশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্কের উদাহারণ।

 

মঙ্গলবার বেইজিংয়ে পৌঁছানোর আগে চীনের জনগণের উদ্দেশে একটি ভিডিওবার্তা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। সেই ভিডিওবার্তায় তিনি বলেছেন, রাশিয়া ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সত্যিকার অর্থে ‘অভাবনীয় উচ্চতায়’ পৌঁছেছে এবং দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যসম্পর্ক দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে।

 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বহু বার পরস্পরকে ‘দীর্ঘদিনের ভালো বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছেন।

 

চীনে জ্বালানি তেলের কোনো খনি নেই; তবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে চীনের অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রুশ জ্বালানি তেলের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা চীন।

 

গত শুক্রবার বেইজিং সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফিরে ট্রাম্প বলেছেন, চীন তার ‘অনিঃশেষ’ জ্বালানির চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে রাজি হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাংক সংস্থা এশিয়া সোসাইটির কর্মকর্তা লায়েল মরিস মনে করেন, পুতিনের এই সফরের উদ্দেশ্য ২টি— তেল এবং মধ্যপ্রাচ্য।

 

এএফপিকে তিনি বলেন, “চীন রুশ তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশ এবং পুতিন কোনোভাবেই তা হারাতে চান না। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে চীনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে— তা জানতেও আগ্রহী পুতিন। কারণ সর্বশেষ সফরে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আশা করছেন যে সামনের দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে বেইজিং নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় আসবে।”

 

সূত্র : এএফপি

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ময়মনসিংহে প্রথমবারের মতো টার্ফ ফুটবল মাঠ উদ্বোধন

মুক্তাগাছায় ফায়ারস সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উদ্বোধন

20 May 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ট্রাম্পের পর এবার চীন সফরে পুতিন

পোষ্টের সময় : ১০:৩১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার আলোচিত চীন সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফিরে যাওয়ার চার দিনের মাথায় বেইজিং সফরে গিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গতকাল স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১৫ মিনিটে বেইজিংয়ের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে পুতিনকে বহনকারী উড়োজাহাজটি।

 

বিমানবন্দরে পুতিন ও তার নেতৃত্বাধীন সফরকারী দলকে অভ্যর্থনা জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। গত ১৩ মে বুধবার ট্রাম্প বেইজিংয়ে অবতরণের পর তাকে লাল গোলাপ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল, চীনের সামরিক বাহিনীর একটি ব্যান্ডদল ট্রাম্প এবং তার নেতৃত্বাধীন সফরকারী দলকে স্বাগত জানিয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করেছিল, বিমানবন্দরে তরুণ-তরুণীরা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা নাড়াতে নাড়াতে ‘স্বাগতম, স্বাগতম’ স্লোগান দিয়েছিল; গতকাল পুতিন ও তার নেতৃত্বাধীন সফরকারী দলের বেলাতেও একইভাবে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এএফপি।

 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি দপ্তর ও বাসস্থান ক্রেমলিন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পুতিনের এই সফর সম্পর্কে বলা হয়েছে, “আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মত বিনিময় করাই প্রেসিডেন্ট পুতিনের এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য।”

 

চীন এবং রাশিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক গভীর হওয়া শুরু করেছে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে। সেই অভিযান এখনও চলছে এবং এর কারণে গত চার বছরে একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে রাশিয়ার দূরত্ব বেড়েছে, তেমনি অন্যদিকে কাছাকাছি এসেছে মস্কো এবং বেইজিং।

 

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুনের মতে, চীন এবং রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক র্বতমান বিশ্বে সবচেয়ে ‘সহনশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্কের উদাহারণ।

 

মঙ্গলবার বেইজিংয়ে পৌঁছানোর আগে চীনের জনগণের উদ্দেশে একটি ভিডিওবার্তা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। সেই ভিডিওবার্তায় তিনি বলেছেন, রাশিয়া ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সত্যিকার অর্থে ‘অভাবনীয় উচ্চতায়’ পৌঁছেছে এবং দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যসম্পর্ক দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে।

 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বহু বার পরস্পরকে ‘দীর্ঘদিনের ভালো বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছেন।

 

চীনে জ্বালানি তেলের কোনো খনি নেই; তবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে চীনের অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রুশ জ্বালানি তেলের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা চীন।

 

গত শুক্রবার বেইজিং সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফিরে ট্রাম্প বলেছেন, চীন তার ‘অনিঃশেষ’ জ্বালানির চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে রাজি হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাংক সংস্থা এশিয়া সোসাইটির কর্মকর্তা লায়েল মরিস মনে করেন, পুতিনের এই সফরের উদ্দেশ্য ২টি— তেল এবং মধ্যপ্রাচ্য।

 

এএফপিকে তিনি বলেন, “চীন রুশ তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশ এবং পুতিন কোনোভাবেই তা হারাতে চান না। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে চীনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে— তা জানতেও আগ্রহী পুতিন। কারণ সর্বশেষ সফরে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আশা করছেন যে সামনের দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে বেইজিং নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় আসবে।”

 

সূত্র : এএফপি

 

Share this news as a Photo Card