০৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারাকান্দায় ছোট ভাইবোনদের ঠকিয়ে বাবার সম্পত্তি বড়ো ভাইয়ের আত্মসাৎ

ময়মনসিংহের তারাকান্দার নগুয়া গ্রামে মৃত বাবার সম্পত্তি ছোট ভাই বোনদের মধ্যে সমানভাগে ভাগ না করে অধিকাংশ সম্পদ নিজেই ভোগ করার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাই আব্দুল হাই (৬০) ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে। সম্পদের হিসাব চাইতে গিয়ে উল্টো মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছয় ভাইবোন ও তাদের মা আদালতে বন্টননামা দলিল করতে মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়াও তাদের মারধরের ঘটনায় তারাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানাযায়, তারাকান্দা উপজেলার নগুয়া গ্রামে মৃত ওসমান গনি পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে ২০০৬ সালে মারা যান। ওসমান গনির মৃত্যুর পর বড় ছেলে আব্দুল হাই সকল সম্পদের হিসাব রাখতেন। সেই সুযোগটি তিনি কাজে লাগিয়েছে। বাকী চার ভাই ও দুই বোনকে বাবার সম্পদ সঠিক ভাবে বন্টন না করে, রাস্তার পাশের দামি জমিগুলো রেখেছেন নিজের ভাগে। অপেক্ষাকৃত কম দাম ও নিচু এলাকার জমি দিয়েছেন ভাইবোনদের।
দীর্ঘ দিন এনিয়ে পারিবারিক ভাবে আপোষ মীমাংসা করতে চাইলেও সেটি সম্ভব হয়নি। তাই নিরুপায় হয়ে গত ২০ নভেম্বর আদালতের দারস্থ হয় ভুক্তভোগী চার ভাই, দুই বোন ও তাদের মা।
ভুক্তভোগীদের এক ভাই আব্দুল হামিদ (৬০), জানান, আমাদের বাবা মারা যাওয়ার পর অনেক সময় আমার বাবার জমির দলিল দেখতে চাইলে কোন ভাইবোনকে দেখাতেন না। কোন ফসলের হিসাব দেইনি। নিজে রাস্তার পাশে দামি জমি গুলো নিয়ে আমাদেরকে নিচু এলাকার জমি দিয়েছে তাও পরিমাণে কম।
ভুক্তভোগী আরেক ভাই বলেন, বিআরএস এ আমার বাবার নামে ২ একর ৬০ শতাংশ জমি পাওয়া গেছে।  এর মাধ্যে ১ একর ১২ শতাংশ জমি আমাদের বড় ভাই আব্দুল হাই ও তার ছেলেরা ভোগ দখল করছেন। আমরা আমাদের প্রাপ্য অংশ চাইলে প্রায় ৩০ বছর আগে তার বিক্রি করা জমিতে যেতে বলে। তাই নিরুপায় হয়ে চলতি নভেম্বর মাসের ২০ তারিখ আমার চার ভাই,  দুই বোন ও আমাদের মাকে নিয়ে আদালতে বন্টন নামা দলিল করতে মামলা করেছি।
ভুক্তভোগী আরেক বোন আনোয়ারা পারভীন বলেন, বড় ভাই আমাদের সব ভাই বোনকে বাবার সম্পদ থেকে ঠকিয়েছে। আমরা আমাদের ন্যায্য পাওনা চাই।
ভুক্তভোগী আব্দুল হামিদের ছেলে গোলাম মোস্তফা জানান, বাবা, চাচা ও ফুফুদের সম্পত্তির সঠিক বন্টন চাইতে আদালতে মামলা করায় আমার জেঠা আব্দুল হাই ও তার ছেলে মাদ্রাসা শিক্ষক আল আমিন সহ জেঠার অন্যান্য ছেলে, মেয়ে ও মেয়ের জামাইরা এসে আমার বাবা ও চাচাদের উপর হামলা চালায়, আমাদের বাড়ি-ঘরে ভাংচুর করে। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে গত ২৫ নভেম্বর তারাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আশাকরি পুলিশ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
এ বিষয়ে আব্দুল হাইকে ফোন করে জানতে চাইলে তিনি তার ছেলে কোদালিয়া ফাজিলিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আল আমিনের কাছে ফোন দিয়ে দেন।
আল আমিন বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করেছে তারা আমার চাচা ও চাচাতো ভাই। আমার দাদার পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে। ওরা যে বাটোয়ারা মামলা করেছে সেটা শুধু আমার বাবার ভাগের জমির উপর করেছে। তাদের ভাগের টার উপর করেনি। এটাতো ঠিকনা। তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ বিষয়ে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করারও অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে তারাকান্দা থানার সেকেন্ড অফিসার লিটন পাল জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নগুয়া গ্রামের দুই পক্ষের দুইটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখনো কোনটি মামলা হয়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে বিএনপি: মোতাহার

মদনে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সাংবাদিকের ওপর হামলা, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি

28 September 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

তারাকান্দায় ছোট ভাইবোনদের ঠকিয়ে বাবার সম্পত্তি বড়ো ভাইয়ের আত্মসাৎ

পোষ্টের সময় : ০৮:৩২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
ময়মনসিংহের তারাকান্দার নগুয়া গ্রামে মৃত বাবার সম্পত্তি ছোট ভাই বোনদের মধ্যে সমানভাগে ভাগ না করে অধিকাংশ সম্পদ নিজেই ভোগ করার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাই আব্দুল হাই (৬০) ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে। সম্পদের হিসাব চাইতে গিয়ে উল্টো মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছয় ভাইবোন ও তাদের মা আদালতে বন্টননামা দলিল করতে মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়াও তাদের মারধরের ঘটনায় তারাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানাযায়, তারাকান্দা উপজেলার নগুয়া গ্রামে মৃত ওসমান গনি পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে ২০০৬ সালে মারা যান। ওসমান গনির মৃত্যুর পর বড় ছেলে আব্দুল হাই সকল সম্পদের হিসাব রাখতেন। সেই সুযোগটি তিনি কাজে লাগিয়েছে। বাকী চার ভাই ও দুই বোনকে বাবার সম্পদ সঠিক ভাবে বন্টন না করে, রাস্তার পাশের দামি জমিগুলো রেখেছেন নিজের ভাগে। অপেক্ষাকৃত কম দাম ও নিচু এলাকার জমি দিয়েছেন ভাইবোনদের।
দীর্ঘ দিন এনিয়ে পারিবারিক ভাবে আপোষ মীমাংসা করতে চাইলেও সেটি সম্ভব হয়নি। তাই নিরুপায় হয়ে গত ২০ নভেম্বর আদালতের দারস্থ হয় ভুক্তভোগী চার ভাই, দুই বোন ও তাদের মা।
ভুক্তভোগীদের এক ভাই আব্দুল হামিদ (৬০), জানান, আমাদের বাবা মারা যাওয়ার পর অনেক সময় আমার বাবার জমির দলিল দেখতে চাইলে কোন ভাইবোনকে দেখাতেন না। কোন ফসলের হিসাব দেইনি। নিজে রাস্তার পাশে দামি জমি গুলো নিয়ে আমাদেরকে নিচু এলাকার জমি দিয়েছে তাও পরিমাণে কম।
ভুক্তভোগী আরেক ভাই বলেন, বিআরএস এ আমার বাবার নামে ২ একর ৬০ শতাংশ জমি পাওয়া গেছে।  এর মাধ্যে ১ একর ১২ শতাংশ জমি আমাদের বড় ভাই আব্দুল হাই ও তার ছেলেরা ভোগ দখল করছেন। আমরা আমাদের প্রাপ্য অংশ চাইলে প্রায় ৩০ বছর আগে তার বিক্রি করা জমিতে যেতে বলে। তাই নিরুপায় হয়ে চলতি নভেম্বর মাসের ২০ তারিখ আমার চার ভাই,  দুই বোন ও আমাদের মাকে নিয়ে আদালতে বন্টন নামা দলিল করতে মামলা করেছি।
ভুক্তভোগী আরেক বোন আনোয়ারা পারভীন বলেন, বড় ভাই আমাদের সব ভাই বোনকে বাবার সম্পদ থেকে ঠকিয়েছে। আমরা আমাদের ন্যায্য পাওনা চাই।
ভুক্তভোগী আব্দুল হামিদের ছেলে গোলাম মোস্তফা জানান, বাবা, চাচা ও ফুফুদের সম্পত্তির সঠিক বন্টন চাইতে আদালতে মামলা করায় আমার জেঠা আব্দুল হাই ও তার ছেলে মাদ্রাসা শিক্ষক আল আমিন সহ জেঠার অন্যান্য ছেলে, মেয়ে ও মেয়ের জামাইরা এসে আমার বাবা ও চাচাদের উপর হামলা চালায়, আমাদের বাড়ি-ঘরে ভাংচুর করে। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে গত ২৫ নভেম্বর তারাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আশাকরি পুলিশ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
এ বিষয়ে আব্দুল হাইকে ফোন করে জানতে চাইলে তিনি তার ছেলে কোদালিয়া ফাজিলিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আল আমিনের কাছে ফোন দিয়ে দেন।
আল আমিন বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করেছে তারা আমার চাচা ও চাচাতো ভাই। আমার দাদার পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে। ওরা যে বাটোয়ারা মামলা করেছে সেটা শুধু আমার বাবার ভাগের জমির উপর করেছে। তাদের ভাগের টার উপর করেনি। এটাতো ঠিকনা। তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ বিষয়ে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করারও অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে তারাকান্দা থানার সেকেন্ড অফিসার লিটন পাল জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নগুয়া গ্রামের দুই পক্ষের দুইটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখনো কোনটি মামলা হয়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে।

Share this news as a Photo Card