১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রিশালে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

 

ময়মনসিংহের ত্রিশালে মোজাদ্দেদীয়া ফিলিং স্টেশনের মালিক ব্যবসায়ী সোহেল রানাকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ত্রিশাল উপজেলা ও ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমরান হাছান অলি এবং তার বড় ভাই, যুবলীগ নেতা বদরুদ্দোজা হায়দার অভির বিরুদ্ধে। নিজের চাচা ব্যবসায়ী সোহেল রানার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।

 

মঙ্গলবার দুপুরে ত্রিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ব্যবসায়ী সোহেল রানা। পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

লিখিত বক্তব্যে সোহেল রানা বলেন, ২০১৯ সালে ত্রিশাল উপজেলার রাগামারা বাজারের দক্ষিণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে একটি ফিলিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেন। এ সময় তার বড় ভাই আব্দুল মান্নান অংশীদার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্মাণ ব্যয়ের ৪০ শতাংশ বহনের শর্তে একটি চুক্তি হয়।

 

তিনি বলেন, পরবর্তীতে আব্দুল মান্নান প্রতিশ্রুত অর্থ বিনিয়োগ করতে ব্যর্থ হন এবং যৌথভাবে ফিলিং স্টেশন পরিচালনায় অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর পূর্বে তার নামে হেবা করা ০.০৬ শতাংশ জমি পুনরায় হেবা দলিলের মাধ্যমে সোহেল রানার নামে ফিরিয়ে দেন। পরে তিনি নিজস্ব অর্থায়নে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নিয়ে ফিলিং স্টেশন নির্মাণ ও পরিচালনা শুরু করেন।

 

সোহেল রানা অভিযোগ করেন, বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার পরও ২০২৩ ও ২০২৫ সালে ত্রিশাল থানায়, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কার্যালয়ে, পাশাপাশি ২০২৫ সালে র‌্যাব-১৪-এর কার্যালয়ে একই বিষয়ে তাকে শুনানিতে অংশ নিতে হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালে প্রাপ্ত একটি আইনজীবীর নোটিশেরও তিনি আইনানুগ জবাব দিয়েছেন বলে জানান।

 

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিলেও সম্প্রতি আব্দুল মান্নানের দুই ছেলে—যুবলীগ নেতা বদরুদ্দোজা হায়দার অভি ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমরান হাছান অলি—তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসভবনে হামলা চালান। এ ঘটনায় তিনি ত্রিশাল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই দুই ভাই তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

 

সোহেল রানা বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। বর্তমানে অভি ও পলাতক অলি আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করছে। কয়েকদিন আগে তারা আমার নির্মাণাধীন ভবনে গিয়ে হামলা চালিয়ে শ্রমিকদের আহত করেছে। এ ঘটনায় আমি থানায় অভিযোগ করেছি। আমি হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে গণমাধ্যমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল মান্নান বলেন, “ফিলিং স্টেশনের জমির মালিকানা নিয়ে আমার কোনো দাবি নেই। তবে ফিলিং স্টেশন চালুর সময় শেয়ার সংক্রান্ত একটি চুক্তিপত্র হয়েছিল। আমার ছেলেরা সেই বিষয়টি দেখছে।”

 

চুক্তি অনুযায়ী তিনি কত টাকা বিনিয়োগ করেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মান্নান বলেন, “যখন যেখানে প্রয়োজন হয়েছে, সহায়তা করেছি। তবে নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়নি।”

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ময়মনসিংহে মদের বোতল নিয়ে টিকটকে ভিডিও, মাদক মামলায় কারাগারে নারী

এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি

07 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ত্রিশালে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

পোষ্টের সময় : ১১:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

 

ময়মনসিংহের ত্রিশালে মোজাদ্দেদীয়া ফিলিং স্টেশনের মালিক ব্যবসায়ী সোহেল রানাকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ত্রিশাল উপজেলা ও ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমরান হাছান অলি এবং তার বড় ভাই, যুবলীগ নেতা বদরুদ্দোজা হায়দার অভির বিরুদ্ধে। নিজের চাচা ব্যবসায়ী সোহেল রানার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।

 

মঙ্গলবার দুপুরে ত্রিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ব্যবসায়ী সোহেল রানা। পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

লিখিত বক্তব্যে সোহেল রানা বলেন, ২০১৯ সালে ত্রিশাল উপজেলার রাগামারা বাজারের দক্ষিণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে একটি ফিলিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেন। এ সময় তার বড় ভাই আব্দুল মান্নান অংশীদার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্মাণ ব্যয়ের ৪০ শতাংশ বহনের শর্তে একটি চুক্তি হয়।

 

তিনি বলেন, পরবর্তীতে আব্দুল মান্নান প্রতিশ্রুত অর্থ বিনিয়োগ করতে ব্যর্থ হন এবং যৌথভাবে ফিলিং স্টেশন পরিচালনায় অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর পূর্বে তার নামে হেবা করা ০.০৬ শতাংশ জমি পুনরায় হেবা দলিলের মাধ্যমে সোহেল রানার নামে ফিরিয়ে দেন। পরে তিনি নিজস্ব অর্থায়নে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নিয়ে ফিলিং স্টেশন নির্মাণ ও পরিচালনা শুরু করেন।

 

সোহেল রানা অভিযোগ করেন, বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার পরও ২০২৩ ও ২০২৫ সালে ত্রিশাল থানায়, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কার্যালয়ে, পাশাপাশি ২০২৫ সালে র‌্যাব-১৪-এর কার্যালয়ে একই বিষয়ে তাকে শুনানিতে অংশ নিতে হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালে প্রাপ্ত একটি আইনজীবীর নোটিশেরও তিনি আইনানুগ জবাব দিয়েছেন বলে জানান।

 

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিলেও সম্প্রতি আব্দুল মান্নানের দুই ছেলে—যুবলীগ নেতা বদরুদ্দোজা হায়দার অভি ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমরান হাছান অলি—তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসভবনে হামলা চালান। এ ঘটনায় তিনি ত্রিশাল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই দুই ভাই তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

 

সোহেল রানা বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। বর্তমানে অভি ও পলাতক অলি আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করছে। কয়েকদিন আগে তারা আমার নির্মাণাধীন ভবনে গিয়ে হামলা চালিয়ে শ্রমিকদের আহত করেছে। এ ঘটনায় আমি থানায় অভিযোগ করেছি। আমি হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে গণমাধ্যমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল মান্নান বলেন, “ফিলিং স্টেশনের জমির মালিকানা নিয়ে আমার কোনো দাবি নেই। তবে ফিলিং স্টেশন চালুর সময় শেয়ার সংক্রান্ত একটি চুক্তিপত্র হয়েছিল। আমার ছেলেরা সেই বিষয়টি দেখছে।”

 

চুক্তি অনুযায়ী তিনি কত টাকা বিনিয়োগ করেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মান্নান বলেন, “যখন যেখানে প্রয়োজন হয়েছে, সহায়তা করেছি। তবে নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়নি।”

 

Share this news as a Photo Card