নেত্রকোনায় কয়েক মাস ধরে দুটি লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। ময়মনসিংহ–মোহনগঞ্জ ও ময়মনসিংহ–জারিয়া রুটের ট্রেন বন্ধ থাকায় প্রতিদিন হাজারো চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীকে বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ উভয়ই বাড়িয়ে দিয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ৬৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার রেলপথে আগে দুটি আন্তনগর (হাওর এক্সপ্রেস, মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস) ও একটি লোকাল ট্রেন চলত। এই লোকাল ট্রেনটি ভোর ও বিকেলে নিয়মিত যাতায়াত করত। কিন্তু গত ৩১ মে থেকে ট্রেনটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় চলাচল বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাত্রীদের অভিযোগ, স্বল্প ভাড়ার এই ট্রেন বন্ধ থাকায় তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবী সাদিয়া রহমান বলেন, “লোকাল ট্রেনেই সহজে অফিসে যাওয়া-আসা করা যেত, এখন সময়মতো পৌঁছানোই দুঃস্বপ্ন।” একই অভিযোগ করেন স্কুলশিক্ষক তরিকুল হাসান, যিনি বলেন, “ময়মনসিংহ থেকে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত প্রতিটি স্টেশনেই যাত্রীরা এই ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।”
নেত্রকোনা স্টেশনমাস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ইঞ্জিনটি মেরামতের জন্য চট্টগ্রাম পাঠানো হয়েছে, তবে কবে সেটি ফেরত আসবে তা নিশ্চিত নয়।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহ–জারিয়া রুটেও একই চিত্র। গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ওই লোকাল ট্রেনটি বন্ধ রয়েছে। রেলপথটির ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শম্ভুগঞ্জ, গৌরীপুর, শ্যামগঞ্জ ও পূর্বধলার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী ট্রেনে চলাচল করতেন।
চাকরিজীবী সুমন্ত শর্মা বলেন, “জারিয়া ট্রেনই ছিল আমাদের প্রধান ভরসা। এখন বিকল্প পরিবহনে যেতে দ্বিগুণ সময় ও খরচ লাগছে।” ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী আল নোমান খান যোগ করেন, “আগে ট্রেনে ক্লাসে যেতাম, এখন বাসে যাওয়া কঠিন ও ব্যয়সাপেক্ষ।”
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, দুটি ট্রেনই ইঞ্জিন সংকটে বন্ধ রয়েছে। ময়মনসিংহ স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, “ইঞ্জিন পাওয়া মাত্রই ট্রেনগুলো চালু করা হবে।”
স্থানীয় যাত্রীরা দ্রুত ট্রেন চালুর দাবি জানিয়ে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।
স্টাফ রিপোর্টার 























