দেশের সর্বত্র থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে অংশ নিতে ঠিক নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজধানীর শহীদ মিনার এলাকায় জড়ো হয়েছেন। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী সমাবেশস্থলে উপস্থিত হতে শুরু করেন। তাদের প্রধান দাবি—আসছে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে এবং জানুয়ারি থেকেই তা কার্যকর করতে হবে।
সমাবেশে অংশ নিতে যশোর থেকে আগত শহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছেন। সরকার পে কমিশন গঠন করলেও অর্থ উপদেষ্টার সাম্প্রতিক মন্তব্যে নতুন কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মত দেন। তার ভাষায়, নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছে; এর মধ্যেই গেজেট দিতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
চাকরিজীবীরা মনে করছেন, বেতন কাঠামোর উন্নয়ন কেবল তাদের আর্থিক স্বস্তিই দেবে না, বরং সরকারি সেবার মানও আরও উন্নত হবে। এ কারণে তারা কেন্দ্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি হাতে নিচ্ছেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেকেই বলছেন, টানা অপেক্ষার পরও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না মিললে আরও কঠোর অবস্থানে যেতে তারা বাধ্য হবেন।
এদিকে, দেশের বিভিন্ন বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা থেকে কর্মচারীদের ঢাকার দিকে ছুটে আসার প্রবণতা দেখে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নতুন পে স্কেল দ্রুত কার্যকরের দাবি জানাচ্ছেন।
সম্প্রতি আলোচনায় উঠে এসেছে, পে স্কেলে ৩–৪ গুণ বৃদ্ধির প্রস্তাব না থাকায় অনেক কর্মচারী হতাশ। এছাড়া, কে কোন দায়িত্ব নেবে—এ নিয়ে কমিশনের নিষ্ক্রিয় মনোভাব নিয়েও সমালোচনা চলছে কর্মচারীদের মধ্যে। শ্রমিক নেতারাও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
সমাবেশস্থলে উপস্থিতরা জানিয়েছেন, সময়মতো গেজেট প্রকাশের ঘোষণা এলে তারা আন্দোলন শিথিল করবেন। নইলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচির ডাক দেবেন বলেও সতর্ক করেন।
স্টাফ রিপোর্টার 























