শেরপুর জেলার মানুষের কাছে পরিচিত ও প্রিয় মুখ চিকিৎসক ডা. মোঃ আসাদুজ্জামান। নিষ্ঠা, মানবিকতা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীল চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই চিকিৎসা অঙ্গনে নিজের একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে শেরপুর জেলার পাঁচ উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলার মানুষের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত থেকে তিনি অর্জন করেছেন রোগী ও সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা। অনন্য সেবার মাধ্যমে নিজেকে একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন মানুষের হৃদয়ে।
চিকিৎসা পেশায় যোগদানের পর থেকেই ডা. আসাদুজ্জামান অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। জুনিয়র কনসালটেন্ট পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে তিনি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শেরপুর জেলা হাসপাতালে সহকারী অধ্যাপক (ইন সিটু) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই পদোন্নতিকে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, শেরপুর জেলার মানুষের জন্যও গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, ২০১৪ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই ডা. আসাদুজ্জামান শেরপুরের মানুষের সঙ্গে চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে নিবিড়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। কর্মস্থলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজন ও অসহায় রোগীদের প্রতিও তিনি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে এসেছেন।
ডা. আসাদুজ্জামানের সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিকগুলোর একটি হলো তাঁর মানবিক আচরণ। স্থানীয়দের ভাষ্য, দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের অনেকেই তাঁর কাছ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেয়েছেন। আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের প্রতি তাঁর সহানুভূতিশীল আচরণ তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
রোগীদের সঙ্গে তাঁর ব্যবহারও অত্যন্ত আন্তরিক। জটিল চিকিৎসাবিষয়গুলো রোগীদের বোঝার মতো করে ব্যাখ্যা করা, ধৈর্য ধরে রোগীর কথা শোনা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার কারণে অনেক রোগীর কাছেই তিনি একজন আস্থার চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়দের মতে, একজন চিকিৎসকের কাছে শুধু চিকিৎসাজ্ঞান থাকলেই হয় না; রোগীর প্রতি মমতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতাও প্রয়োজন। এসব গুণের সমন্বয় ডা. আসাদুজ্জামানের মধ্যে দেখা যায় বলেই তিনি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
শেরপুরের গর্ব ডা. আসাদুজ্জামানের সাফল্য ও পদোন্নতিতে নকলা উপজেলার মানুষও আনন্দিত ও গর্বিত। পারিবারিকভাবেও নকলা উপজেলার সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি নকলা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মরহুম মতিন আজাদের মেয়ের জামাতা।
এ কারণে নকলার মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়ে উঠেছে। অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন, সাদাসিধে চলাফেরা ও বিনয়ী আচরণের কারণে তিনি স্থানীয় মানুষের কাছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। চিকিৎসক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করলেও তাঁর ব্যক্তিত্বে অহংকারের ছাপ নেই—এমনটাই মনে করেন তাঁর পরিচিতজনেরা।
কর্মজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও নকলাসহ শেরপুরের মানুষের সঙ্গে চিকিৎসাসেবার সম্পর্ক ধরে রেখেছেন ডা. আসাদুজ্জামান। শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে সরকার নির্ধারিত সময়ে দায়িত্ব পালনের পর অন্য সময়ে শেরপুর শহরের নারায়ণপুর এলাকায় অবস্থিত আধুনিক প্যাথলজী অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন।
জুনিয়র কনসালটেন্ট থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে তাঁর পদোন্নতিতে শুভাকাঙ্ক্ষী, রোগী ও পরিচিতজনেরা আনন্দিত। তবে তাঁর কর্মজীবনের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য স্থানীয়দের শুভকামনা থাকবে সবসময়।
চিকিৎসা পেশায় ডা. আসাদুজ্জামানের সাফল্য আরও বিস্তৃত হোক, দেশের মানুষের কল্যাণে তাঁর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগুক—এটাই শেরপুরবাসীর প্রত্যাশা।
নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি 






















