১০:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালে মর্গে উপচে পড়ছে মরদেহ, মৃতের সংখ্যা ৬২৬

 

নেপালে ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৭৩ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৭৮ জন। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৭৭৭ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

 

বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া মরদেহগুলো বহু দূরের ভাটি অঞ্চলে গিয়ে ভেসে উঠছে। একের পর এক মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয় হাসপাতালগুলোর মর্গে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। মরদেহ সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।

 

রাসুওয়া ও নুওয়াকোট থেকে ভেসে যাওয়া মরদেহ নুওয়াকোট ও ভাটির দিকে চিতওয়ান, তানাহুন, নাওয়ালপরাসি ও অন্যান্য এলাকা থেকেও উদ্ধার করা হয়েছে। নুওয়াকোট, ধাদিং ও নাওয়ালপরাসির মর্গে জায়গা ফুরিয়ে যাওয়ায় কিছু মরদেহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

 

চিতওয়ানে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা হাসপাতালের ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ একটি অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। পোখরার হাসপাতালগুলোর মর্গেও বিভিন্ন জেলা থেকে মরদেহ আসতে থাকায় জায়গা সংকট তৈরি হয়েছে।

 

উদ্ধার হওয়া বিপুলসংখ্যক মরদেহ সামলাতে চিতওয়ানের ভরতপুরে একটি অব্যবহৃত ভবনে অস্থায়ী সংরক্ষণ কেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর চিতওয়ান অংশে ফিশলিং থেকে গোলাঘাট পর্যন্ত ১৩৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

চিতওয়ানের হাসপাতালগুলোর মর্গে একসঙ্গে ৩০ থেকে ৫০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। ধারণক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় অস্থায়ী কেন্দ্রে প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত না হলে বিকল্প হিসেবে দেবঘাটের বৈদ্যুতিক শ্মশান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

 

চিতওয়ানের প্রধান জেলা কর্মকর্তা গণেশ আরিয়াল জানান, ভরতপুর মহানগর কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী কেন্দ্রটি মেরামত ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে প্রস্তুত করছে। মরদেহ সংরক্ষণের জন্য কক্ষের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বসানো হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রাই আইস ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। স্থানীয় শিল্প ও বণিক সমিতিগুলো ড্রাই আইস সরবরাহের খরচ বহনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

 

এদিকে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা রাসুওয়া, নুওয়াকোট, গোর্খা ও অন্যান্য জেলা থেকে চিতওয়ানে আসছেন। অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণ কেন্দ্র প্রস্তুতের সময়ও নিখোঁজ স্বজনদের বিষয়ে তথ্য জানতে সেখানে ভিড় করেন পরিবারের সদস্যরা।

 

ভোটেশকোশী নদীর বন্যায় ভেসে আসা মরদেহে পোখরার মর্গগুলোও পূর্ণ হয়ে উঠছে। বন্যাদুর্গত কয়েকটি জেলার মর্গে জায়গা না থাকায় মরদেহগুলো পোখরায় নেওয়া হয়েছে। তানাহুন, গোর্খা, পূর্ব নাওয়ালপরাসি ও ধাদিং থেকে ৯৩টি মরদেহ পোখরায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

কাস্কির প্রধান জেলা কর্মকর্তা কুমান সিং গুরুং বলেন, হাসপাতালের মর্গগুলোর ধারণক্ষমতা ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে। আপাতত কোনোভাবে মরদেহগুলো রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরও মরদেহ এলে আশপাশের জেলার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

 

পোখরা একাডেমি অব হেলথ সায়েন্সেসের তথ্য কর্মকর্তা সুশীল আরিয়াল জানান, বর্তমানে মর্গে ২ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মরদেহ রাখা হচ্ছে। এ তাপমাত্রায় সাধারণত ১০ দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত মরদেহ সংরক্ষণ করা সম্ভব। এর চেয়ে বেশি সময় সংরক্ষণ করতে হলে হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা বজায় রাখার মতো অবকাঠামো প্রয়োজন। তবে পোখরায় বর্তমানে এ ধরনের সুবিধা নেই।

 

তিনি আরও জানান, নদীর ভাটি অঞ্চল থেকে এখনও মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে। ফলে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

 

বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের রাসুয়া এলাকায় আকস্মিক ঢল নামে। পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির সঙ্গে ভূমিধসের কাদা ও পাথর মিশে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নেপালে ৬২৬ জনের পাশাপাশি তিব্বতে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

রেড ক্রস জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ৩ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তার আবেদন জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে মমতা বিরুদ্ধে মামলা

কিশোরগঞ্জ-জামালপুরের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

28 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

নেপালে মর্গে উপচে পড়ছে মরদেহ, মৃতের সংখ্যা ৬২৬

পোষ্টের সময় : ০১:৩৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

 

নেপালে ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৭৩ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৭৮ জন। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৭৭৭ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

 

বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া মরদেহগুলো বহু দূরের ভাটি অঞ্চলে গিয়ে ভেসে উঠছে। একের পর এক মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয় হাসপাতালগুলোর মর্গে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। মরদেহ সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।

 

রাসুওয়া ও নুওয়াকোট থেকে ভেসে যাওয়া মরদেহ নুওয়াকোট ও ভাটির দিকে চিতওয়ান, তানাহুন, নাওয়ালপরাসি ও অন্যান্য এলাকা থেকেও উদ্ধার করা হয়েছে। নুওয়াকোট, ধাদিং ও নাওয়ালপরাসির মর্গে জায়গা ফুরিয়ে যাওয়ায় কিছু মরদেহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

 

চিতওয়ানে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা হাসপাতালের ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ একটি অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। পোখরার হাসপাতালগুলোর মর্গেও বিভিন্ন জেলা থেকে মরদেহ আসতে থাকায় জায়গা সংকট তৈরি হয়েছে।

 

উদ্ধার হওয়া বিপুলসংখ্যক মরদেহ সামলাতে চিতওয়ানের ভরতপুরে একটি অব্যবহৃত ভবনে অস্থায়ী সংরক্ষণ কেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর চিতওয়ান অংশে ফিশলিং থেকে গোলাঘাট পর্যন্ত ১৩৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

চিতওয়ানের হাসপাতালগুলোর মর্গে একসঙ্গে ৩০ থেকে ৫০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। ধারণক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় অস্থায়ী কেন্দ্রে প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত না হলে বিকল্প হিসেবে দেবঘাটের বৈদ্যুতিক শ্মশান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

 

চিতওয়ানের প্রধান জেলা কর্মকর্তা গণেশ আরিয়াল জানান, ভরতপুর মহানগর কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী কেন্দ্রটি মেরামত ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে প্রস্তুত করছে। মরদেহ সংরক্ষণের জন্য কক্ষের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বসানো হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রাই আইস ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। স্থানীয় শিল্প ও বণিক সমিতিগুলো ড্রাই আইস সরবরাহের খরচ বহনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

 

এদিকে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা রাসুওয়া, নুওয়াকোট, গোর্খা ও অন্যান্য জেলা থেকে চিতওয়ানে আসছেন। অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণ কেন্দ্র প্রস্তুতের সময়ও নিখোঁজ স্বজনদের বিষয়ে তথ্য জানতে সেখানে ভিড় করেন পরিবারের সদস্যরা।

 

ভোটেশকোশী নদীর বন্যায় ভেসে আসা মরদেহে পোখরার মর্গগুলোও পূর্ণ হয়ে উঠছে। বন্যাদুর্গত কয়েকটি জেলার মর্গে জায়গা না থাকায় মরদেহগুলো পোখরায় নেওয়া হয়েছে। তানাহুন, গোর্খা, পূর্ব নাওয়ালপরাসি ও ধাদিং থেকে ৯৩টি মরদেহ পোখরায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

কাস্কির প্রধান জেলা কর্মকর্তা কুমান সিং গুরুং বলেন, হাসপাতালের মর্গগুলোর ধারণক্ষমতা ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে। আপাতত কোনোভাবে মরদেহগুলো রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরও মরদেহ এলে আশপাশের জেলার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

 

পোখরা একাডেমি অব হেলথ সায়েন্সেসের তথ্য কর্মকর্তা সুশীল আরিয়াল জানান, বর্তমানে মর্গে ২ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মরদেহ রাখা হচ্ছে। এ তাপমাত্রায় সাধারণত ১০ দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত মরদেহ সংরক্ষণ করা সম্ভব। এর চেয়ে বেশি সময় সংরক্ষণ করতে হলে হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা বজায় রাখার মতো অবকাঠামো প্রয়োজন। তবে পোখরায় বর্তমানে এ ধরনের সুবিধা নেই।

 

তিনি আরও জানান, নদীর ভাটি অঞ্চল থেকে এখনও মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে। ফলে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

 

বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের রাসুয়া এলাকায় আকস্মিক ঢল নামে। পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির সঙ্গে ভূমিধসের কাদা ও পাথর মিশে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নেপালে ৬২৬ জনের পাশাপাশি তিব্বতে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

রেড ক্রস জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ৩ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তার আবেদন জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

Share this news as a Photo Card