জামালপুরের বকশীগঞ্জে আদালতের ডিক্রিপ্রাপ্ত ও দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে দখলে থাকা ৭৫ শতাংশ জমি জোরপূর্বক বেদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমির মালিক ও তাদের লোকজনের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আবদুল লতিফ সবুজকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আইরমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জমি দখলের চেষ্টা ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে আইরমারী জামে মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জমির মালিক মাহমুদ এনামুল কবির, রাজু সরকার, মজনু সরকার, হাসান সরকার ও আনোয়ার সরকারসহ স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে জমির মালিক মাহমুদ এনামুল কবির বলেন, আদালতের ডিক্রির মাধ্যমে আইরমারী গ্রামে ৭৫ শতাংশ জমি তারা ৪২ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। একই গ্রামের মৃত আবদুল হালিমের ছেলে লিটন হাসান ও বদরুল হাসান বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ওই জমি নিজেদের বলে দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, শনিবার সকাল ৮টার দিকে লিটন হাসানের চাচাতো ভাই ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা রুকন মিয়া এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আক্কাস আলীর নেতৃত্বে শতাধিক ব্যক্তি তাদের দখলীয় জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলায় আবদুল লতিফ সবুজকে লোহার ফলা দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন মাহমুদ এনামুল কবির। এ সময় তিনিসহ কয়েকজন আহত হন। পরে আহত সবুজকে উদ্ধার করে প্রথমে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আদালতের ডিক্রি ও দীর্ঘদিনের দখল থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। তারা হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মানববন্ধনে আইরমারী গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি 




















