০৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমতি ছাড়া ওষুধ পুড়িয়ে বিনষ্টের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি

 

নেত্রকোনার মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পুড়িয়ে বিনষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত স্টোর কিপার তৌকিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।

 

সম্প্রতি এ বিষয়ে দৈনিক যুগান্তরে ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মদনে চুরি ডাকতে স্টোর কিপার গোপনে পুড়িয়ে দিল ওষুধ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করে মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খান বলেন, “স্টোর কিপার তৌকিক বিনা অনুমতিতে হাসপাতালের ওষুধ পুড়িয়ে বিনষ্ট করায় তাকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

অভিযোগ রয়েছে, যেখানে রোগীরা নিয়মিত প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না, সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শত শত বোতল ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের তালিকা প্রস্তুত করে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠিত কমিটির মাধ্যমে তা বিনষ্ট করার বিধান রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, তৌকিক এসব নিয়ম অনুসরণ না করে নিজ দায়িত্বে হাসপাতালের ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পুড়িয়ে দেন।

 

তৌকিক ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ভারপ্রাপ্ত স্টোর কিপারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী গোপনে অন্যত্র সরিয়ে বিক্রি করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হবে।

 

অভিযোগকারীদের দাবি, নিজের অনিয়ম আড়াল করতেই কয়েকদিন আগে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে হাসপাতালের ওষুধের বোতল ভেঙে এবং অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিওও প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ভ্রমণ ও বিদেশযাত্রা সহজ করতে হালুয়াঘাটে আল-এহসান ট্রাভেলসের উদ্বোধন

ত্রিশালে শিক্ষার্থীদের মাঝে ৪ শতাধিক গাছের চারা বিতরণ

14 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমতি ছাড়া ওষুধ পুড়িয়ে বিনষ্টের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি

পোষ্টের সময় : ০৬:২০:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

 

নেত্রকোনার মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পুড়িয়ে বিনষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত স্টোর কিপার তৌকিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।

 

সম্প্রতি এ বিষয়ে দৈনিক যুগান্তরে ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মদনে চুরি ডাকতে স্টোর কিপার গোপনে পুড়িয়ে দিল ওষুধ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করে মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খান বলেন, “স্টোর কিপার তৌকিক বিনা অনুমতিতে হাসপাতালের ওষুধ পুড়িয়ে বিনষ্ট করায় তাকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

অভিযোগ রয়েছে, যেখানে রোগীরা নিয়মিত প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না, সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শত শত বোতল ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের তালিকা প্রস্তুত করে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠিত কমিটির মাধ্যমে তা বিনষ্ট করার বিধান রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, তৌকিক এসব নিয়ম অনুসরণ না করে নিজ দায়িত্বে হাসপাতালের ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পুড়িয়ে দেন।

 

তৌকিক ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ভারপ্রাপ্ত স্টোর কিপারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী গোপনে অন্যত্র সরিয়ে বিক্রি করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হবে।

 

অভিযোগকারীদের দাবি, নিজের অনিয়ম আড়াল করতেই কয়েকদিন আগে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে হাসপাতালের ওষুধের বোতল ভেঙে এবং অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিওও প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 

Share this news as a Photo Card