ইরানকে যুদ্ধে পরাজিত করার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার নিউইয়র্কের নাসাও জেলা পুলিশ একাডেমির এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরানকে যুদ্ধে পরাজিত করার পর, বরং খুব খারাপভাবে পরাজিত করার পর, শিগগিরই তিনি হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এই বিশ্বের জন্য আমরা কত বড় একটি কাজ করতে যাচ্ছি, তা অবশ্যই আপনাদের স্মরণে রাখতে হবে। শুধু আপনাদের নয়, পুরো বিশ্ববাসীকেও তা স্মরণে রাখতে হবে।’
ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা অবরোধ অব্যাহত রাখার কথাও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এই অবরোধ থামবে না। এটা ইস্পাতের দেয়াল।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনার জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সূচনা হয়।
যুদ্ধের প্রথম দিনই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করে ইরান। এর জবাবে এপ্রিল মাসে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
প্রায় তিন মাস পর ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হামলার পর দুই দেশের মধ্যে ফের উত্তেজনা বাড়ে।
এরপর ১৩ জুলাই ইরান ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে হরমুজ প্রণালিতে আবারও অবরোধ জারি করে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে এ পরিস্থিতিই চলমান।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের অবস্থান হলো—এই জলপথ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। অন্য দেশের জাহাজ এ পথ ব্যবহার করতে চাইলে ইরান সরকারকে টোল দিতে হবে।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ হিসেবে দায়িত্ব নেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং সেখান থেকে টোল আদায় করবে।
১৩ জুলাই ইরান ইসলামাবাদ সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র দায়িত্ব পালন করবে এবং এ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে ২০ শতাংশ টোল আদায় করা হবে। তবে পরে তিনি ওই ঘোষণা থেকে সরে আসেন।
এদিকে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ইরান কোনো হুমকিতে ভয় পায় না এবং শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমেও দেশটিকে ভয় দেখানো সম্ভব নয়।
তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রণালিটি কেবল ইরানের সিদ্ধান্তেই বন্ধ বা খোলা হবে।
ঘরিবাবাদি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নিয়ে ‘অলীক কল্পনা’ ত্যাগ করতে হবে। তা না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: আলজাজিরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 























