সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন না বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনেও তারেক রহমানের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে, গত ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকে বিষয়টি উঠে আসে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অগ্রগতির ওপরই তারেক রহমানের ভারত সফর নির্ভর করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৫ আগস্ট ভারত থেকে শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়। ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও বক্তব্য দেন। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে অসন্তোষ জানানো হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমানের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্য ট্রিবিউনের দাবি, বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন এবং এ ক্ষেত্রে ভারত সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে জানান। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার অবস্থানে অনড় ছিলেন বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।
বৈঠকের পর দীনেশ ত্রিবেদী দিল্লি ফিরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঢাকার অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ চললেও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। ১০ আগস্ট ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।
ভারত সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের যে অনুরোধ করা হয়েছে, সেটি দেশটির চলমান আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত ইতোমধ্যে দুটি আমন্ত্রণ জানিয়েছে। একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য এবং অন্যটি সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্য। তবে এখন পর্যন্ত সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি বলে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত ও জাপান সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সফরের সময় নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততা এবং দুই দেশের চলমান আলোচনার অগ্রগতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভারতের ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্বে থাকায় ব্রিকসের আউটরিচ সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের অবস্থানও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে, ভারত শেখ হাসিনার বিষয়ে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে অনাগ্রহী। একই সঙ্গে ভারতের পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা ও বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টিকেও দেশটি গুরুত্ব দিচ্ছে।
দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চললেও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, সীমান্ত পরিস্থিতি, বাণিজ্য, পানি বণ্টন, জ্বালানি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় এখনো আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।
সূত্র: দ্য ট্রিবিউন, রয়টার্স
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 























