০৬:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাকৃবিতে দুই ছাত্রদল নেতাকে ঘিরে সমালোচনা, ছাত্রলীগ পুনর্বাসন ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ

 

ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ছাত্রদল শাখার দুই নেতাকে ঘিরে তুমুল সমালোচনা চলছে। ছাত্রলীগকে পুনর্বাসন সহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ডে অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে-বাহিরে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তীব্র প্রতিবাদ।

 

সর্বশেষ ২০২১ সালের ১৬ জুন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখার ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আতিকুর রহমানকে আহবায়ক এবং শফিকুল ইসলামকে সদস্য সচিব করা হয়। ৫ আগস্টের পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করার অভিযোগ উঠে সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম এবং যুগ্ম আহবায়ক তরিকুল ইসলাম তুষারের বিরুদ্ধে। শুধু পুনর্বাসন নয় ছাত্রদলের আগামীর কমিটিতে নিজেদের পদ নিশ্চিত করতে অনৈতিক লেনদেনেরও অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে তুমুল সমালোচনা চলছে।

 

গত ৪ জুলাই বাকৃবি পরিবার গ্রুপে সাবেক আওয়ামী লীগের ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলামের ভাইয়ের ছবি পোস্ট করে লিখা হয় আওয়ামী পরিবার থেকে আগত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফিক। রক্তে আওয়ামী লীগ মাংসে বিএনপি পিও শফিক ভাই। ১৫ বছর আওয়ামী লীগের থেকে সুবিধা নেয়া শফিক ভাই আসছে এখন চাকরি দিতে। আওয়ামী লীগের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান।

গত ১৪ মে বাকৃবি পরিবার গ্রুপে যুগ্ম আহবায়ক তরিকুল ইসলাম তুষারকে নিয়ে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে লেখা হয় ছাত্রদলের তুষার কি সংকর জাতের ছাত্রদল নেতা? আসলেই কি সে ছাত্রদল নেতা? নাকি সে শিবির বা ছাত্রলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করতেছে। প্রোগ্রাম করতেছে ছাত্রদলের ব্যানারে অথচ তার দুই পাশে দুই ছাত্রলীগের ক্যাডার, তারপর ওই ছাত্রদলের প্রোগ্রামে দেখি এক শিবির নেতাও আছে। ভালোই কম্বিনেশন মিলাইলো তুষার ভাই। এইভাবে ছাত্রদলের ব্যানারে নিষিদ্ধ সংগঠনের ক্যাডার নিয়ে আর কয়দিন রাজনীতি করবেন ভাই? উত্তর দিয়ে যান।

আরেকটি পোস্টে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনেরও অভিযোগ করা হয় তুষারের বিরুদ্ধে।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ময়মনসিংহ গ্রুপে একজন লিখেন ব্রেকিং নিউজ ২৫ লক্ষ টাকার বিনিময় রফাদফা হল বাকৃবি সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফিকের সদস্য সচিব থেকে আহবায়ক হওয়ার চুক্তি।

 

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখার যুগ্ম আহবায়ক তরিকুল ইসলাম তুষার বলেন, সামনে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষনা করা হবে। আমি সভাপতি প্রার্থী। তাই আমার প্রতিপক্ষরা নানা ভাবে অপপ্রচার করছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখার সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, আমরা পাঁচ ভাই এরমধ্যে তিন ভাই বিএনপি এবং দুই ভাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। বিএনপির দুর্দিনে মাঠে থেকে জেল জুলুম খেটেছি। আমি সভাপতি প্রার্থী হওয়ায় নানা ষড়যন্ত্র চলছে। বিভিন্ন গ্রুপে যা লিখা হচ্ছে তাঁর কোন সত্যতা নেই। ছবি এডিট করে এগুলো করা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সালাম রাসেল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি ঘিরে যা হচ্ছে আসলে তা বলার মত নয়। একটি পক্ষ ছাত্রলীগের কিছু ছেলে পেলেকে নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি করছে। শুনা যাচ্ছে তাদেরকে কমিটিতে পদ দেয়া হবে। মূলত তা যদি হয় তাহলে তাদের লক্ষ্য ছাত্রদলকে ধ্বংস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে টেন্ডার বাণিজ্য করা। এসব বিষয় নিয়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে লেখালিখি হচ্ছে তা দেখে সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে শরীরে রক্তক্ষরণ হয়।

 

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম বলেন, কমিটি কবে হবে না হবে তা বলা যাচ্ছে না। যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে কমিটি দেওয়ার পূর্বে বিচার বিবেচনা করা হবে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

নান্দাইলে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ময়মনসিংহ রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ এএসআই ঈশ্বরগঞ্জের শাহ আলম

21 September 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

বাকৃবিতে দুই ছাত্রদল নেতাকে ঘিরে সমালোচনা, ছাত্রলীগ পুনর্বাসন ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ

পোষ্টের সময় : ০৬:১৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

 

ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ছাত্রদল শাখার দুই নেতাকে ঘিরে তুমুল সমালোচনা চলছে। ছাত্রলীগকে পুনর্বাসন সহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ডে অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে-বাহিরে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তীব্র প্রতিবাদ।

 

সর্বশেষ ২০২১ সালের ১৬ জুন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখার ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আতিকুর রহমানকে আহবায়ক এবং শফিকুল ইসলামকে সদস্য সচিব করা হয়। ৫ আগস্টের পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করার অভিযোগ উঠে সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম এবং যুগ্ম আহবায়ক তরিকুল ইসলাম তুষারের বিরুদ্ধে। শুধু পুনর্বাসন নয় ছাত্রদলের আগামীর কমিটিতে নিজেদের পদ নিশ্চিত করতে অনৈতিক লেনদেনেরও অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে তুমুল সমালোচনা চলছে।

 

গত ৪ জুলাই বাকৃবি পরিবার গ্রুপে সাবেক আওয়ামী লীগের ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলামের ভাইয়ের ছবি পোস্ট করে লিখা হয় আওয়ামী পরিবার থেকে আগত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফিক। রক্তে আওয়ামী লীগ মাংসে বিএনপি পিও শফিক ভাই। ১৫ বছর আওয়ামী লীগের থেকে সুবিধা নেয়া শফিক ভাই আসছে এখন চাকরি দিতে। আওয়ামী লীগের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান।

গত ১৪ মে বাকৃবি পরিবার গ্রুপে যুগ্ম আহবায়ক তরিকুল ইসলাম তুষারকে নিয়ে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে লেখা হয় ছাত্রদলের তুষার কি সংকর জাতের ছাত্রদল নেতা? আসলেই কি সে ছাত্রদল নেতা? নাকি সে শিবির বা ছাত্রলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করতেছে। প্রোগ্রাম করতেছে ছাত্রদলের ব্যানারে অথচ তার দুই পাশে দুই ছাত্রলীগের ক্যাডার, তারপর ওই ছাত্রদলের প্রোগ্রামে দেখি এক শিবির নেতাও আছে। ভালোই কম্বিনেশন মিলাইলো তুষার ভাই। এইভাবে ছাত্রদলের ব্যানারে নিষিদ্ধ সংগঠনের ক্যাডার নিয়ে আর কয়দিন রাজনীতি করবেন ভাই? উত্তর দিয়ে যান।

আরেকটি পোস্টে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনেরও অভিযোগ করা হয় তুষারের বিরুদ্ধে।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ময়মনসিংহ গ্রুপে একজন লিখেন ব্রেকিং নিউজ ২৫ লক্ষ টাকার বিনিময় রফাদফা হল বাকৃবি সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফিকের সদস্য সচিব থেকে আহবায়ক হওয়ার চুক্তি।

 

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখার যুগ্ম আহবায়ক তরিকুল ইসলাম তুষার বলেন, সামনে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষনা করা হবে। আমি সভাপতি প্রার্থী। তাই আমার প্রতিপক্ষরা নানা ভাবে অপপ্রচার করছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখার সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, আমরা পাঁচ ভাই এরমধ্যে তিন ভাই বিএনপি এবং দুই ভাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। বিএনপির দুর্দিনে মাঠে থেকে জেল জুলুম খেটেছি। আমি সভাপতি প্রার্থী হওয়ায় নানা ষড়যন্ত্র চলছে। বিভিন্ন গ্রুপে যা লিখা হচ্ছে তাঁর কোন সত্যতা নেই। ছবি এডিট করে এগুলো করা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সালাম রাসেল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি ঘিরে যা হচ্ছে আসলে তা বলার মত নয়। একটি পক্ষ ছাত্রলীগের কিছু ছেলে পেলেকে নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি করছে। শুনা যাচ্ছে তাদেরকে কমিটিতে পদ দেয়া হবে। মূলত তা যদি হয় তাহলে তাদের লক্ষ্য ছাত্রদলকে ধ্বংস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে টেন্ডার বাণিজ্য করা। এসব বিষয় নিয়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে লেখালিখি হচ্ছে তা দেখে সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে শরীরে রক্তক্ষরণ হয়।

 

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম বলেন, কমিটি কবে হবে না হবে তা বলা যাচ্ছে না। যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে কমিটি দেওয়ার পূর্বে বিচার বিবেচনা করা হবে।

 

Share this news as a Photo Card