বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আশরাফুল হক হলে শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী ফিস্ট ‘টেল অব রিডাম্পশন’। বাকৃবিতে প্রথমবারের মতো হাতি নিয়ে ফিস্ট উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়, যা ক্যাম্পাসে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ব্যতিক্রমী এই হল ফিস্ট বৃহস্পতিবার শুরু হয়ে চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোকসজ্জা, আতশবাজি ও গ্র্যান্ড ডিনারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
হলের ৬৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ ফিস্ট উপলক্ষে বিকেলে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আশরাফুল হক হলে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় হাতির উপস্থিতি শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করে, হাতির উপস্থিতি শোভাযাত্রার প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে এবং ক্যাম্পাসজুড়ে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা যায়।
পরে হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হলের হাউস টিউটর জিকেস বর্মন, ইফতেখার জাহান ভুঁইয়া ও ড. মো. শাহিনুর আলম। তাঁদের উপস্থিতিতে কেক কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিস্টের উদ্বোধন করা হয়। এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন হলের সিনিয়র – জুনিয়র শিক্ষার্থীরা।
আয়োজনস্থলজুড়ে ছিল আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা ও আতশবাজির প্রদর্শনী। উদ্বোধন শেষে অনুষ্ঠিত হয় গ্র্যান্ড ডিনার, যেখানে হলের ৬৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে অংশগ্রহণ করেন।
আয়োজকরা জানান, এই ফিস্টের মাধ্যমে তারা নিজেদের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সংহতির বার্তা তুলে ধরতে চেয়েছেন। পাশাপাশি হলের সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করাই ছিল আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করা এবং সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
আয়োজকদের মতে, ফিস্ট উপলক্ষে আয়োজিত হাতিসহ বিভিন্ন প্রাণীর অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হয় এবং এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলাদা উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
হলের সিনিয়র শিক্ষার্থী মো. মিরাজ উদ্দিন বলেন, “আশরাফুল হক হলের ‘টেল অব রিডাম্পশন’ ফিস্ট আমাদের জন্য শুধু একটি আয়োজন নয়, এটি ছিল এক ধরনের মিলনমেলা। বিশেষ করে হাতিসহ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা পুরো ক্যাম্পাসে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। সিনিয়র-জুনিয়র সবাই একসাথে অংশ নেওয়ায় পারস্পরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও হলে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
হলের হাউস টিউটর ড. মো. শাহিনুর আলম বলেন, আজকের এই ফিস্ট দেখে আমার ১০-১১ বছর আগের স্মৃতির কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। ফিস্ট শিক্ষার্থীদের মাঝে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করে। আয়োজনটি সফলভাবে সমাপ্ত হোক এই কামনাই করি।

স্টাফ রিপোর্টার 





















