বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক পুনর্গঠনে গঙ্গার পানির ন্যায্য বণ্টনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, ন্যায্যতা ও জলবায়ু সহনশীলতার ভিত্তিতে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রথম পরীক্ষা হতে পারে।
ভারতের টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ৭ ও ৮ এপ্রিল প্রথমবার ভারত সফরে গিয়ে তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং জ্বালানিমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরি-এর সঙ্গে বৈঠক করেন।
ভারত সফর শেষে তিনি পোর্ট লুইস-এ আয়োজিত ভারত মহাসাগর সম্মেলন-এ অংশ নেন। সেখানেই তিনি এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুই দেশের সম্পর্ক ও গঙ্গার পানিবণ্টন প্রসঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন।
১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা জল ভাগাভাগি চুক্তি চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। তবে চুক্তি থাকা সত্ত্বেও শুষ্ক মৌসুমে পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে দুই দেশের মধ্যে।
খলিলুর রহমান বলেন, গঙ্গার পানি বাংলাদেশের জীবিকা, কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই একটি সংশোধিত বা নতুন চুক্তি জরুরি, যা হবে ন্যায্যতা ও জলবায়ু সহনশীলতার ভিত্তিতে। তিনি আরও বলেন, পানির সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত না হলে দেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি উল্লেখ করেন, যেহেতু দুই দেশই সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী, তাই গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি হবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রথম পরীক্ষা।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কিছুটা নিম্নমুখী হলেও নতুন সরকারের অধীনে তা স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ভিসা সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান,বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা চালু করেছে এবং ভারতও শিগগিরই একই পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশাবাদী।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 






















