ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার আউলাতলী দক্ষিণপাড়া এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিবেশীদের হামলায় এক কিশোর ও তার মা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত কিশোরের মা মোছাঃ শ্রাবনী আক্তার বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জানুয়ারি বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বাড়ির সামনে শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিবেশী মোঃ আইয়ুব আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা শ্রাবনী আক্তারকে গালিগালাজ করেন। এ সময় তার ছেলে সিনহা (১৬) প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক বাড়ির ভেতরে নিয়ে গিয়ে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধর করে। এতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। হামলার সময় তার কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে শ্রাবনী আক্তারকেও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহত মা-ছেলেকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। স্বজনদের বরাতে জানা যায়, সিনহার মাথায় গভীর আঘাত লেগে সাতটি সেলাই দিতে হয়েছে।
ভুক্তভোগী শ্রাবনী আক্তার বলেন, পোলাপান খেলাধুলা করতেছিল। কী নিয়ে কথা-কাটাকাটি হইছে আমি জানি না। হঠাৎ ওরা গালাগালি শুরু করে। আমার ছেলে জিজ্ঞেস করতেই ওর শার্টের কলার ধরে বাড়ির ভেতরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও মারধর করে ফেলে দেয়।
প্রতিবেশী শরীফা আক্তার বলেন, হঠাৎ কান্নাকাটি শুনে এসে দেখি শ্রাবণী মাটিতে পড়ে আছে এবং তার ছেলের মাথা দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে।
তবে অভিযুক্ত পক্ষের মাসুদ রানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের সঙ্গে আগে থেকেই জমিজমা নিয়ে ঝামেলা ছিল। ঘটনার দিন তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে মা-ছেলে আমাদের ওপর হামলা করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারটি জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে তারা প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






















