পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের আসুরিয়া সোতা খালের ওপর নির্মিত বক্স কালভার্ট সেতুটি এখন স্থানীয়দের দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেতুটি নির্মাণ করলেও এখনো তা ব্যবহারের উপযোগী হয়নি।
সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এলাকাবাসী প্রতিদিনই বাঁশ ও কাঠের মই বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হচ্ছেন। বিশেষ করে কোমলমতি শিশু, স্কুল ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীরা পড়ছে চরম বিপদের মুখে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্প শেষ হলেও সংযোগ রাস্তা না করায় পুরো সেতুটি এখন অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া হোক, নইলে এটি সরকারী অর্থের অপচয় হিসেবে পরিণত হবে। কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের প্রতিদিনই এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষার সময় সেতুর দুই প্রান্ত কাদায় ডুবে যায়, ফলে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাহার আলী মৃধা বলেন, “এলজিইডি অফিস ও ঠিকাদারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। শুকনো মৌসুম শুরু হলে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হবে।”
ঠিকাদার ইমরান হোসেন জানান, “বর্ষা মৌসুমে মাটির সংকট থাকায় কাজ সম্ভব হয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে এলে কাজ শুরু করা হবে।”
দুমকি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “ঠিকাদারকে কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি শুকনো মৌসুমেই সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হবে।”
এলাকাবাসী আশা করছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেতুটি যেন সত্যিকার অর্থে যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত করে দেয়। অন্যথায় এই কাঠের মই নির্ভর ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল শিশুদের জীবনের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।
স্টাফ রিপোর্টার 























