০৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মদনে বিয়ের প্রলোভনে অফিস সহায়ককে ধর্ষণের অভিযোগ, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি

 

নেত্রকোনার মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের এক নারী অফিস সহায়ককে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একই কলেজের অফিস সহকারী হাফিজুর রহমান রুবেলের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে ওই নারীর কাছ থেকে বিয়ে ও বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

 

জানা গেছে, ২০১০ সালে একই নিয়োগে মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজে যোগদান করেন অফিস সহকারী হাফিজুর রহমান রুবেল ও অভিযোগকারী নারী অফিস সহায়ক। প্রায় তিন বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। অন্যদিকে রুবেলের স্ত্রী কাজের সন্ধানে বিদেশে অবস্থান করছেন। এ সুযোগে রুবেল ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ।

 

অভিযোগকারী নারীর দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রুবেল তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। এর মধ্যে মোটরসাইকেল কেনার জন্য দুই লাখ টাকা এবং বাড়ি নির্মাণের কথা বলে মদন সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে উত্তোলন করা আট লাখ টাকা তাকে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তার। একটি ঋণের জামিনদার হিসেবেও রুবেলের নাম রয়েছে বলে জানান তিনি।

 

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, গত ১০ আগস্ট কলেজ ছুটির পর রুবেল তাকে মিথ্যা কথা বলে কলেজের একটি কক্ষে নিয়ে যান এবং সেখানে ধর্ষণ করেন। এ সময় বিষয়টি কয়েকজনের নজরে এলে তারা দুজনকে একসঙ্গে রেখে ছবি তোলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

ঘটনার পর কলেজ অধ্যক্ষ বিধান চন্দ্র মিত্র অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক আতিকুর রহমান পলাশকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. আজিজুল হক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক জহিরুল হক আসলাম। কমিটি গঠনের প্রায় ১০ দিন পার হলেও প্রতিবেদন এখনও জমা হয়নি।

 

অভিযোগকারী নারী বলেন, ‘আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর রুবেলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়। বিয়ে করবে বলে সে আমার কাছ থেকে বাড়ি ও মোটরসাইকেল কেনার জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকা নিয়েছে। আমার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কও হয়েছে। গত ১০ আগস্ট কলেজের একটি কক্ষে নিয়ে আমাকে ধর্ষণ করে। আমি চাই, সে আমাকে বিয়ে করুক।’

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অফিস সহকারী হাফিজুর রহমান রুবেল। তিনি বলেন, ‘ওই নারীর অভিযোগ মিথ্যা। তার মাথায় সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি অধ্যক্ষ স্যারের সামনে কয়েকজনকে নিয়ে আগেই মীমাংসা হয়েছে। এখন আবার নতুন করে অভিযোগ কেন করা হচ্ছে, তা বুঝতে পারছি না।’

 

তদন্ত কমিটির প্রধান আতিকুর রহমান পলাশ বলেন, ‘ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ১০ দিন আগে অধ্যক্ষ স্যার আমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই অধ্যক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করব।’

 

কলেজ অধ্যক্ষ বিধান চন্দ্র মিত্র বলেন, ‘অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক আতিকুর রহমান পলাশকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ময়মনসিংহে আছি। রোববার কলেজে এসে সরাসরি কথা বলব।’

 

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম বলেন, ‘অফিস সহায়কের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

হালুয়াঘাটে গুমুরিয়া নদীর ভাঙন রোধে গ্রামবাসীর স্মারকলিপি

নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ১৬২, নিখোঁজ পাঁচ শতাধিক

27 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

মদনে বিয়ের প্রলোভনে অফিস সহায়ককে ধর্ষণের অভিযোগ, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি

পোষ্টের সময় : ০৮:৪৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

 

নেত্রকোনার মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের এক নারী অফিস সহায়ককে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একই কলেজের অফিস সহকারী হাফিজুর রহমান রুবেলের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে ওই নারীর কাছ থেকে বিয়ে ও বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

 

জানা গেছে, ২০১০ সালে একই নিয়োগে মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজে যোগদান করেন অফিস সহকারী হাফিজুর রহমান রুবেল ও অভিযোগকারী নারী অফিস সহায়ক। প্রায় তিন বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। অন্যদিকে রুবেলের স্ত্রী কাজের সন্ধানে বিদেশে অবস্থান করছেন। এ সুযোগে রুবেল ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ।

 

অভিযোগকারী নারীর দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রুবেল তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। এর মধ্যে মোটরসাইকেল কেনার জন্য দুই লাখ টাকা এবং বাড়ি নির্মাণের কথা বলে মদন সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে উত্তোলন করা আট লাখ টাকা তাকে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তার। একটি ঋণের জামিনদার হিসেবেও রুবেলের নাম রয়েছে বলে জানান তিনি।

 

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, গত ১০ আগস্ট কলেজ ছুটির পর রুবেল তাকে মিথ্যা কথা বলে কলেজের একটি কক্ষে নিয়ে যান এবং সেখানে ধর্ষণ করেন। এ সময় বিষয়টি কয়েকজনের নজরে এলে তারা দুজনকে একসঙ্গে রেখে ছবি তোলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

ঘটনার পর কলেজ অধ্যক্ষ বিধান চন্দ্র মিত্র অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক আতিকুর রহমান পলাশকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. আজিজুল হক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক জহিরুল হক আসলাম। কমিটি গঠনের প্রায় ১০ দিন পার হলেও প্রতিবেদন এখনও জমা হয়নি।

 

অভিযোগকারী নারী বলেন, ‘আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর রুবেলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়। বিয়ে করবে বলে সে আমার কাছ থেকে বাড়ি ও মোটরসাইকেল কেনার জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকা নিয়েছে। আমার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কও হয়েছে। গত ১০ আগস্ট কলেজের একটি কক্ষে নিয়ে আমাকে ধর্ষণ করে। আমি চাই, সে আমাকে বিয়ে করুক।’

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অফিস সহকারী হাফিজুর রহমান রুবেল। তিনি বলেন, ‘ওই নারীর অভিযোগ মিথ্যা। তার মাথায় সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি অধ্যক্ষ স্যারের সামনে কয়েকজনকে নিয়ে আগেই মীমাংসা হয়েছে। এখন আবার নতুন করে অভিযোগ কেন করা হচ্ছে, তা বুঝতে পারছি না।’

 

তদন্ত কমিটির প্রধান আতিকুর রহমান পলাশ বলেন, ‘ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ১০ দিন আগে অধ্যক্ষ স্যার আমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই অধ্যক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করব।’

 

কলেজ অধ্যক্ষ বিধান চন্দ্র মিত্র বলেন, ‘অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক আতিকুর রহমান পলাশকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ময়মনসিংহে আছি। রোববার কলেজে এসে সরাসরি কথা বলব।’

 

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম বলেন, ‘অফিস সহায়কের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

Share this news as a Photo Card