বিয়ের বাড়িতে চলছিল আনন্দ উৎসব দুমদাম । এর মধ্যে শনিবার সকালে সাত বছরের শিশু বাড়ির পাশে গোবিন্দশ্রী বাজারে ঘুরতে যায়। সেখানেই ঘটে বিপত্তি। শিশুটিকে ১০ টাকার সিগারেট আনতে পাঠায় গোবিন্দশ্রী গ্রামের দুলালের বখাটে পুত্র ( ১৮) পলাশ। সিগারেট নিয়ে আসার পর সাত বছরের শিশুটি নিয়ে গোবিন্দশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে বলাৎকার করে পলাশ।
পরে শিশুটি বাড়ি ফিরে যায়। তার পড়নে থাকা হাফপ্যান্টে রক্ত দেখতে পায় তার নানী। রক্ত দেখে শিশুটির কাছে বিষয়টি নানী জানতে গেলে শিশুটিকে বখাটে পলাশ বলাৎকার করেছে বলে জানায়। শিশুটির মামার পরিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের থাকায় বখাটে পলাশের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়েের করতে সাহস পায়নি। পরে শিশুর নির্যাতনের বিচার চেয়ে বাজারের কয়েক জনের কাছে জানায় শিশুটির মামারা। বাজারের লোকজন অবগত হলে সোমবার সকাালে আবারও বখাটে পলাশকে বাজারে দেখতে পায় তারা। বাজারে দেখতে পেয়ে বাজার কমিটির কয়েকজন পলাশকে মারপিট করে বাজার থেকে বের করে দেয়। এদিকে শিশুটিকে স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে গোবিন্দশ্রী বাজারের পল্লী চিকিৎসক মো: খায়রুল ইসলাম জানান, এ ঘটনার পর তার নানী ও মামা শিশুটি নিয়ে আমার কাছে আসে। আমি কাপর খুলে দেখতে পাই পায়ুপথ রক্ত, কিছু অংশ ছিড়ে গেছে। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা করেছি।
এ বিষয়ে শিশুটির নানী জানান,শুক্রবার আমার ছেলের বিয়ে গেছে। সবাই কিন্তু বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত। বাড়িতে আত্মীয় স্বজন আসছে। বাড়ির পাশেই আমাদের বাজার। সেখানেই ঘুরতে গেছিল আমার সাত বছর বয়সী নাতি ও বাজার থেকে আসার পর বলল তাকে একজন সিগারেট আনতে পাঠাইছিল এবং তাকে ১০ টাকা দিয়েছিল এখন আবার ৯০ টাকা দিতে হবে তাই তাকে মারপিট করেছে। পরে তাকে ৯০ টাকা আমি দেই। কিছুক্ষণ পর আমার নাতি বাড়িতে ফিরে আসলে তার প্যান্টে রক্ত দেখতে পাই। রক্ত কেন কি হয়েছে? পরে কাপর খুলে দেখি তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। বাজারে নিয়ে পল্লী চিকিৎসকের মাধ্যে সাধারণ চিকিৎসা করিয়াছি। আমরা গরীব মানুষ এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ ব্যাপারে বখাটে পলাশ জানায়, আমি তাকে সিগারেট আনতে ঠিকেই দোকানে পাঠাই ছিলাম। তাকে আমি এমন কাজ করিনি। আজ আমি আবার বাজারে গেলে ভুট্টো ভাই আমাকে মারপিট করে বাজার থেকে বের করে দিয়েছে।
ভুট্টো জানায়, আমরা শোনেছি পলাশ শিশুটিকে নির্যাতন করেছে। তাই আজকে তাকে পেয়ে কয়েকটা কিল-ঘুষি দিয়ে বাজার থেকে বের করে দিয়েছি। ভিকটিমের পরিবার যদি কোন আইনের সহযোগিতা নেয় তাইলে আমরা তার পক্ষে আছি।
মদন থানার ওসি সালাউদ্দিন করিম জানান, এ নিয়ে এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 


















