০৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে আখ খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে শিশু ধর্ষণ: সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপার চেষ্টার অভিযোগ

  • মো. ফরহাদ আলী
  • পোষ্টের সময় : ১১:৪৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
  • ২৩২ ভিউ :

 

ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানাধীন অষ্টধার ইউনিয়নের কাউনিয়া গ্রামে সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম হান্নান সরকার (৫০), যিনি সম্পর্কে শিশুটির ‘দাদা’ হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনার দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে কাউনিয়া গ্রামের ইছহাক সরকারের ছেলে হান্নান সরকার গেন্ডারি (আঁখ) খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই শিশুকে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা খেতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে এক শিশু দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও সাত বছর বয়সী শিশুটি হান্নানের হাতে আটকা পড়ে। সেখানে তাকে পাশবিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযুক্ত হান্নান সরকার বিবাহিত এবং তার এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। শিশুটির পরিবারের সাথে তার আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় সে সুযোগ নিয়ে এই অপকর্মটি করে।

 

এদিকে শিশু ধর্ষণের মতো এই জঘন্য অপরাধের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসা করার জন্য শিশুটির পরিবারকে অব্যাহত চাপ দিয়ে আসছিলেন। এতে শিশুটির দরিদ্র ও অসহায় পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।

 

সমাজের প্রভাবশালী মহলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অবশেষে শিশুটির বাবা তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলায় হান্নান সরকারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “শিশু ধর্ষণের অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

ভুক্তভোগী শিশুটির মা রুজিনা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার অবুঝ মেয়ের ওপর যে অত্যাচার করা হয়েছে, আমি তার সুষ্ঠু বিচার চাই। কোনো সালিশ মানি না, আমি ফাঁসি চাই।

 

এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ট্রাম্পের ৪০ কোটি ডলারের ‘বলরুম প্রকল্প’ আটকে দিলেন আদালত

বাকৃবিতে প্রাণী চিকিৎসক ও গবেষকদের ৩২তম বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধন শনিবার

07 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ময়মনসিংহে আখ খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে শিশু ধর্ষণ: সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপার চেষ্টার অভিযোগ

পোষ্টের সময় : ১১:৪৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

 

ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানাধীন অষ্টধার ইউনিয়নের কাউনিয়া গ্রামে সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম হান্নান সরকার (৫০), যিনি সম্পর্কে শিশুটির ‘দাদা’ হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনার দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে কাউনিয়া গ্রামের ইছহাক সরকারের ছেলে হান্নান সরকার গেন্ডারি (আঁখ) খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই শিশুকে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা খেতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে এক শিশু দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও সাত বছর বয়সী শিশুটি হান্নানের হাতে আটকা পড়ে। সেখানে তাকে পাশবিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযুক্ত হান্নান সরকার বিবাহিত এবং তার এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। শিশুটির পরিবারের সাথে তার আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় সে সুযোগ নিয়ে এই অপকর্মটি করে।

 

এদিকে শিশু ধর্ষণের মতো এই জঘন্য অপরাধের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসা করার জন্য শিশুটির পরিবারকে অব্যাহত চাপ দিয়ে আসছিলেন। এতে শিশুটির দরিদ্র ও অসহায় পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।

 

সমাজের প্রভাবশালী মহলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অবশেষে শিশুটির বাবা তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলায় হান্নান সরকারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “শিশু ধর্ষণের অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

ভুক্তভোগী শিশুটির মা রুজিনা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার অবুঝ মেয়ের ওপর যে অত্যাচার করা হয়েছে, আমি তার সুষ্ঠু বিচার চাই। কোনো সালিশ মানি না, আমি ফাঁসি চাই।

 

এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

Share this news as a Photo Card