০৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে নজরুল ইসলাম খান: ফ্যাসিবাদের পতন হলেও গণতন্ত্র এখনো পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়নি

ময়মনসিংহ বিএনপির সদস্য নবায়ন এবং প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ছবি ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা দীর্ঘ লড়াইয়ে হাজারো মানুষ জীবন দিয়ে, লক্ষ লক্ষ মানুষ জেল-জুলুম সহ্য করে একটা পরিবর্তনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলাম। আজ সেই ক্ষেত্রে জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। এদেশের মানুষ বহু বছর ধরে লড়াই করছে এক দফার দাবিতে। যখন জোট সরকারের অপসারণ এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে।

 

আমাদের এই দাবি একটা অংশ অর্জিত হয়েছে। ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লজ্জাজনক, অপমানকর পলায়ন করতে হয়েছে ফ্যাসিবাদী সরকারকে। কিন্তু আমাদের দাবির মূল উদ্দেশ্য, যে কারনে আমরা ফ্যাসিবাদীর পতন চেয়েছিলাম সে গণতন্ত্র এখনো পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়নি। আর এটা সম্ভব শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। কারন ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে রাষ্ট্র ক্ষমতার হাত বদল হয় না। এই সবগুলো নির্বাচনে সংবিধানতো দুরের কথা কোন আইন পরিবর্তনেরও ক্ষমতা নাই। তাই সেই প্রতিষ্ঠানগুলো গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যম হতে পারে না। মাধ্যম হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যে জাতীয় সংসদ আইন বাঁচাতে পারে, আইন বদলাতে পারে, সংবিধান বদলাতে পারে। সেই সংসদ নির্বাচনের জন্য আমরা দাবি করেছি। আমরা সংস্কারও চাই। আমাদের চেয়ে বেশী সংস্কার বাংলাদেশে আর কেউ কখনো চাইনি।

 

বুধবার সকালে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বিএনপির উদ্যোগে সদস্য নবায়ন এবং প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নগরীর টাউন হল এডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ ও সদস্য ফরম নবায়ন কমিটির সদস্য সচিব এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

 

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়ারেস আলী মামুন ও আবু ওয়াহাব আকন্দ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েতুল্লাহ কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম, সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার রোকন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বর্তমান সরকারের সাফল্য-ব্যার্থতা নিয়ে এখনও প্রশ্ন তুলি নাই। কিন্তু বেশ কিছু বিষয়ে জনগণের মধ্যে কিছু প্রশ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, সরকারে থেকে বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করার। আমাদের ভালো লাগে না, কারণ আমরা সরকারটাকে পছন্দ করি।
তিনি বলেন, আমরা বিস্মিত হই নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল রায় দেওয়ার পরেও প্রশাসনিক ক্ষমতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে যিনি মেয়রের দায়িত্ব পেয়েছেন তাকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে না। সে নির্বাচন কমিশনকে এই অন্তবর্তী সরকার দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিয়োগ দিয়েছেন, সেই নির্বাচন কমিশন তাদের স্বাধীনভাবে মতামত ব্যক্ত করলেও তাদের হুমকি দেয়ার জন্য ও ঘেরাও কর্মসূচি হচ্ছে। বিষয়গুলো ভালো দৃষ্টান্ত না।
তিনি আরো বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের যে ৩১ দফা দিয়েছেন, সেখানে প্রত্যেকটা জায়গায় বলেছি, আমরা ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টি করতে চাই। সে ভারসাম্য শুধু প্রধানমন্ত্রী আর রাষ্ট্রপতির না, বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ, সংসদ, প্রশাসন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, কেন্দ্রী সরকার, স্বায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার অনেক কিছুর মধ্যেই ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা যখন বলি, পরপর দুই বার কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিজ্ঞজনদের পরামর্শ নেওয়ার জন্য, সংসদে একটা উচ্চ কক্ষ করতে হবে। এই ধরণের প্রস্তাবগুলো যখন আমরা করেছি বাংলাদেশের আর কোন রাজনৈতিক দল এ ধরণের প্রস্তাব করে নাই। বিএনপি যখন সংস্কারের প্রস্তাব করে, তখন বহু রাজনৈতিক দল সংস্তারের দন্ত-স-ও উচ্চারণ করে নাই। অনেকেরতো তখন জন্মও হয় নাই। তারা আলোচনা করে বিএনপি সংস্কারের পক্ষে না। তিনি বলেন, বিএনপির জন্মইতো সংস্কারের জন্য। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই বাংলাদেশের রাজনীতি, সমাজ, ইতিহাসে, উন্নয়ন পক্রিয়ায় যে সংস্কারের ধারা জন্ম দিয়েছেন তার চেয়ে বেশী আজ পর্যন্ত আর কে করেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও করেছে।
তিনি বলেন, এই সরকার যতগুলি সংস্কার কমিটি গঠন করেছে, একটা বের করেন যেটা আমাদের ৩১ দফায় নাই। বরং ৩১ দফায় আছে এমন অনেক বিষয় এখনো সংস্কারের কোন প্রস্তাব করা হয় নাই। সংস্কার কমিশন যদি নাও হতো, কোন সমঝোতা যদি না ও হয় আমাদের সুযোগ হলে এই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করবা-ইনশাল্লাহ্।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমারা কখনো গণতন্ত্র হত্যা করি নাই। আমরা কখনোই সামরিক শাসন জারি করি নাই, আমরা কখনোই জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নেই নাই। আমরা সব সময় গণতন্ত্র পূণ: প্রতিষ্ঠা করেছি। ৭৪, ৭৫ এর একদলীয় বাকশালের কবরস্থানের উপর শহিদ জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্রের বাগান রচনা করেছেন। এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই করে বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিএনপি বিচার বিভাগ স্থাধীন করেছে। মিডিয়াগুলোর সস্বাধীনতা অবাধ ও নিশ্চিত করে দিয়েছে। এদেশের রুগ্ম অর্থনীতিকে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে রূপান্তর করেছে বিএনপি।

আজ শুধু দেশ ও দেশের জনগণের স্বার্থে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুর করে আজ পর্যন্ত যারাই এদেশের জন্য জীবন দিয়েছে তাদের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধার স্বার্থে আমরা শান্তিপুর্ণ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছি। তিনি বলেন, দলের বদনাম হয় এমন কাউকে সদস্য করা যাবে না, এমন কাউকে নেয়া যাবে না যাতে দলের শুভানুধ্যায়ীরা অসস্তুষ্ট হয়।

 

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

দেওয়ানগঞ্জে মাদ্রাসার জমি উদ্ধার ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে ধস, আটকা বহু মানুষ, সেনা মোতায়েন

28 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ময়মনসিংহে নজরুল ইসলাম খান: ফ্যাসিবাদের পতন হলেও গণতন্ত্র এখনো পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়নি

পোষ্টের সময় : ০৬:৩৮:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা দীর্ঘ লড়াইয়ে হাজারো মানুষ জীবন দিয়ে, লক্ষ লক্ষ মানুষ জেল-জুলুম সহ্য করে একটা পরিবর্তনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলাম। আজ সেই ক্ষেত্রে জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। এদেশের মানুষ বহু বছর ধরে লড়াই করছে এক দফার দাবিতে। যখন জোট সরকারের অপসারণ এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে।

 

আমাদের এই দাবি একটা অংশ অর্জিত হয়েছে। ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লজ্জাজনক, অপমানকর পলায়ন করতে হয়েছে ফ্যাসিবাদী সরকারকে। কিন্তু আমাদের দাবির মূল উদ্দেশ্য, যে কারনে আমরা ফ্যাসিবাদীর পতন চেয়েছিলাম সে গণতন্ত্র এখনো পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়নি। আর এটা সম্ভব শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। কারন ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে রাষ্ট্র ক্ষমতার হাত বদল হয় না। এই সবগুলো নির্বাচনে সংবিধানতো দুরের কথা কোন আইন পরিবর্তনেরও ক্ষমতা নাই। তাই সেই প্রতিষ্ঠানগুলো গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যম হতে পারে না। মাধ্যম হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যে জাতীয় সংসদ আইন বাঁচাতে পারে, আইন বদলাতে পারে, সংবিধান বদলাতে পারে। সেই সংসদ নির্বাচনের জন্য আমরা দাবি করেছি। আমরা সংস্কারও চাই। আমাদের চেয়ে বেশী সংস্কার বাংলাদেশে আর কেউ কখনো চাইনি।

 

বুধবার সকালে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বিএনপির উদ্যোগে সদস্য নবায়ন এবং প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নগরীর টাউন হল এডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ ও সদস্য ফরম নবায়ন কমিটির সদস্য সচিব এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

 

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়ারেস আলী মামুন ও আবু ওয়াহাব আকন্দ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েতুল্লাহ কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম, সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার রোকন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বর্তমান সরকারের সাফল্য-ব্যার্থতা নিয়ে এখনও প্রশ্ন তুলি নাই। কিন্তু বেশ কিছু বিষয়ে জনগণের মধ্যে কিছু প্রশ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, সরকারে থেকে বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করার। আমাদের ভালো লাগে না, কারণ আমরা সরকারটাকে পছন্দ করি।
তিনি বলেন, আমরা বিস্মিত হই নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল রায় দেওয়ার পরেও প্রশাসনিক ক্ষমতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে যিনি মেয়রের দায়িত্ব পেয়েছেন তাকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে না। সে নির্বাচন কমিশনকে এই অন্তবর্তী সরকার দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিয়োগ দিয়েছেন, সেই নির্বাচন কমিশন তাদের স্বাধীনভাবে মতামত ব্যক্ত করলেও তাদের হুমকি দেয়ার জন্য ও ঘেরাও কর্মসূচি হচ্ছে। বিষয়গুলো ভালো দৃষ্টান্ত না।
তিনি আরো বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের যে ৩১ দফা দিয়েছেন, সেখানে প্রত্যেকটা জায়গায় বলেছি, আমরা ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টি করতে চাই। সে ভারসাম্য শুধু প্রধানমন্ত্রী আর রাষ্ট্রপতির না, বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ, সংসদ, প্রশাসন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, কেন্দ্রী সরকার, স্বায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার অনেক কিছুর মধ্যেই ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা যখন বলি, পরপর দুই বার কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিজ্ঞজনদের পরামর্শ নেওয়ার জন্য, সংসদে একটা উচ্চ কক্ষ করতে হবে। এই ধরণের প্রস্তাবগুলো যখন আমরা করেছি বাংলাদেশের আর কোন রাজনৈতিক দল এ ধরণের প্রস্তাব করে নাই। বিএনপি যখন সংস্কারের প্রস্তাব করে, তখন বহু রাজনৈতিক দল সংস্তারের দন্ত-স-ও উচ্চারণ করে নাই। অনেকেরতো তখন জন্মও হয় নাই। তারা আলোচনা করে বিএনপি সংস্কারের পক্ষে না। তিনি বলেন, বিএনপির জন্মইতো সংস্কারের জন্য। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই বাংলাদেশের রাজনীতি, সমাজ, ইতিহাসে, উন্নয়ন পক্রিয়ায় যে সংস্কারের ধারা জন্ম দিয়েছেন তার চেয়ে বেশী আজ পর্যন্ত আর কে করেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও করেছে।
তিনি বলেন, এই সরকার যতগুলি সংস্কার কমিটি গঠন করেছে, একটা বের করেন যেটা আমাদের ৩১ দফায় নাই। বরং ৩১ দফায় আছে এমন অনেক বিষয় এখনো সংস্কারের কোন প্রস্তাব করা হয় নাই। সংস্কার কমিশন যদি নাও হতো, কোন সমঝোতা যদি না ও হয় আমাদের সুযোগ হলে এই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করবা-ইনশাল্লাহ্।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমারা কখনো গণতন্ত্র হত্যা করি নাই। আমরা কখনোই সামরিক শাসন জারি করি নাই, আমরা কখনোই জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নেই নাই। আমরা সব সময় গণতন্ত্র পূণ: প্রতিষ্ঠা করেছি। ৭৪, ৭৫ এর একদলীয় বাকশালের কবরস্থানের উপর শহিদ জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্রের বাগান রচনা করেছেন। এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই করে বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিএনপি বিচার বিভাগ স্থাধীন করেছে। মিডিয়াগুলোর সস্বাধীনতা অবাধ ও নিশ্চিত করে দিয়েছে। এদেশের রুগ্ম অর্থনীতিকে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে রূপান্তর করেছে বিএনপি।

আজ শুধু দেশ ও দেশের জনগণের স্বার্থে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুর করে আজ পর্যন্ত যারাই এদেশের জন্য জীবন দিয়েছে তাদের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধার স্বার্থে আমরা শান্তিপুর্ণ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছি। তিনি বলেন, দলের বদনাম হয় এমন কাউকে সদস্য করা যাবে না, এমন কাউকে নেয়া যাবে না যাতে দলের শুভানুধ্যায়ীরা অসস্তুষ্ট হয়।

 

 

Share this news as a Photo Card