০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে অপ্রাপ্য নথিতে জন্মনিবন্ধন না হওয়ায় ঝুঁকিতে শিশুরা : বাড়ছে পাচারের শঙ্কা

 

ময়মনসিংহ জেলায় জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ায় জটিলতা এবং ‘অপ্রাপ্য অপশন প্রয়োগ না হওয়ার কারণে হতদরিদ্র ও স্মৃতিপূর্ণ পরিবারের শিশুরা নাগরিক পরিচয় এবং প্রাখ্য নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিস্থিতি অভ্যন্তরীণ শিশু পাচার ও বাণিজ্যিক যৌন শোষণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিখে উদ্বেগজনকভাবে

মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে বিকল্প পদ্ধতিতে (অপ্রাপ্য অপশন) নিবন্ধন করতে অনাগ্রাহ দেখাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে স্থানীয় নিবন্ধন কর্মকর্তারা জানান, এ বিষয়ে Office of the Registrar General থেকে তাদের কাছে কোনো স্পষ্ট নির্দেশন। বা অফিস আদেশ পৌঁছেনি। ফলে তারা ঝুঁকি এড়াতে এখন আবেদনগুলো গ্রহণ করছেন না

তবে বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। সংশ্লিষ্ট আইন ও নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিবন্ধক প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে সন্তুষ্ট হলে বিকল্প প্রমাণের ভিত্তিতেও জন্মনিবন্ধন করার সুযোগ রয়েছে কিন্তু মাঠপর্যায়ে এই বিধান কার্যকর না হওয়ায় জন্মনিবন্ধনবিহীন শিশুর সংখ্যা বাড়ছে, যা তাদেরকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মনিবন্ধন না থাকলে শিশুরা সহজেই পরিচয়বিহীন হয়ে পড়ে, যা পাচারচক্রের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করে। ইতোমধ্যে অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু নোটারি পাবলিক ও যঘটোকপি দোকানের মাধ্যমে ভুয়া বা অনিয়মিত উপায়ে জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করা হচ্ছে। এসব সনদ ব্যবহার করে শিশুদের দেশের ভেতরেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তীতে বাণিজ্যিক যৌন শোষণে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, ময়মনসিংহকে ধরা হয় এমন একটি অঞ্চল, যেখান থেকে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বিভিন্ন প্রলোভনে সংগ্রহ করা হয়, যা পাচারচক্রকে আরও সক্রিয় করে তুলছে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, “অপ্রাপ্য অপশন” কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে অনেক শিশুকে ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। এর পাশাপাশি তাদের প্রাপ্য নাগরিক অধিকার ও সরকারি বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচীতে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা সহজসাধ্য হবে। এজন্য মাঠপর্যায়ের নিবন্ধন কর্মকর্তাদের জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা, প্রশিক্ষণ এবং জবাবদিহিতা জরুরি।

এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বিশেষ করে Office of the Registrar General থেকে স্পষ্ট সার্কুলার জারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, জন্মনিবন্ধন শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়। এটি একটি শিশুর পরিচয়, অবিকার এবং সুরক্ষার প্রথম ধাপ। এই ধাপটি ব্যাহত হলে, তার প্রভাব পড়ে শিশুর পুরো জীবনে।

তবে এই বিষয়ে বেসরকারি সংগঠন রুপান্তর এর জেলা সমন্বয়কারী কামরুজ্জামান রানা বলেন, ময়মনসিংহে এরকম অভ্যন্তরীণ যৌণ পাচার ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের নিয়ে কাজ করছে। একই সাথে যাদের জন্মনিবন্ধন নেই, তাদের সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রদানে ও সরকারী সেবা পেতে সহায়তা করে যাচ্ছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

হালুয়াঘাটে খরস্রোতা পাহাড়ী নদী ভাঙ্গন রক্ষার দাবিতে মতবিনিময় সভা

সংবাদটা যেনো বস্তুনিষ্ট, সত্য ও নিরপেক্ষ হয়: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী 

28 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ময়মনসিংহে অপ্রাপ্য নথিতে জন্মনিবন্ধন না হওয়ায় ঝুঁকিতে শিশুরা : বাড়ছে পাচারের শঙ্কা

পোষ্টের সময় : ০৩:৫৪:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

 

ময়মনসিংহ জেলায় জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ায় জটিলতা এবং ‘অপ্রাপ্য অপশন প্রয়োগ না হওয়ার কারণে হতদরিদ্র ও স্মৃতিপূর্ণ পরিবারের শিশুরা নাগরিক পরিচয় এবং প্রাখ্য নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিস্থিতি অভ্যন্তরীণ শিশু পাচার ও বাণিজ্যিক যৌন শোষণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিখে উদ্বেগজনকভাবে

মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে বিকল্প পদ্ধতিতে (অপ্রাপ্য অপশন) নিবন্ধন করতে অনাগ্রাহ দেখাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে স্থানীয় নিবন্ধন কর্মকর্তারা জানান, এ বিষয়ে Office of the Registrar General থেকে তাদের কাছে কোনো স্পষ্ট নির্দেশন। বা অফিস আদেশ পৌঁছেনি। ফলে তারা ঝুঁকি এড়াতে এখন আবেদনগুলো গ্রহণ করছেন না

তবে বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। সংশ্লিষ্ট আইন ও নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিবন্ধক প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে সন্তুষ্ট হলে বিকল্প প্রমাণের ভিত্তিতেও জন্মনিবন্ধন করার সুযোগ রয়েছে কিন্তু মাঠপর্যায়ে এই বিধান কার্যকর না হওয়ায় জন্মনিবন্ধনবিহীন শিশুর সংখ্যা বাড়ছে, যা তাদেরকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মনিবন্ধন না থাকলে শিশুরা সহজেই পরিচয়বিহীন হয়ে পড়ে, যা পাচারচক্রের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করে। ইতোমধ্যে অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু নোটারি পাবলিক ও যঘটোকপি দোকানের মাধ্যমে ভুয়া বা অনিয়মিত উপায়ে জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করা হচ্ছে। এসব সনদ ব্যবহার করে শিশুদের দেশের ভেতরেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তীতে বাণিজ্যিক যৌন শোষণে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, ময়মনসিংহকে ধরা হয় এমন একটি অঞ্চল, যেখান থেকে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বিভিন্ন প্রলোভনে সংগ্রহ করা হয়, যা পাচারচক্রকে আরও সক্রিয় করে তুলছে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, “অপ্রাপ্য অপশন” কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে অনেক শিশুকে ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। এর পাশাপাশি তাদের প্রাপ্য নাগরিক অধিকার ও সরকারি বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচীতে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা সহজসাধ্য হবে। এজন্য মাঠপর্যায়ের নিবন্ধন কর্মকর্তাদের জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা, প্রশিক্ষণ এবং জবাবদিহিতা জরুরি।

এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বিশেষ করে Office of the Registrar General থেকে স্পষ্ট সার্কুলার জারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, জন্মনিবন্ধন শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়। এটি একটি শিশুর পরিচয়, অবিকার এবং সুরক্ষার প্রথম ধাপ। এই ধাপটি ব্যাহত হলে, তার প্রভাব পড়ে শিশুর পুরো জীবনে।

তবে এই বিষয়ে বেসরকারি সংগঠন রুপান্তর এর জেলা সমন্বয়কারী কামরুজ্জামান রানা বলেন, ময়মনসিংহে এরকম অভ্যন্তরীণ যৌণ পাচার ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের নিয়ে কাজ করছে। একই সাথে যাদের জন্মনিবন্ধন নেই, তাদের সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রদানে ও সরকারী সেবা পেতে সহায়তা করে যাচ্ছে।

 

Share this news as a Photo Card