ময়মনসিংহ জেলায় তিন দিনের ভারি বৃষ্টিতে ৩ হাজার ৩৮৪ হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, সবজি ও ভুট্টা।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রির) বিকালে ময়মনসিংহ জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা (কৃষি) ড. উম্মে হাবিবা দৈনিক রুপালী বাংলাদেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার ইশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর, উচাখিলা, সরিষা ও আঠারবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের বোরো ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব অঞ্চলেরও মূল কারণ জলাবদ্ধতা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ২০ নহাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। যার মধ্যে ৮০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
জেলা কৃষি অফিস সুত্র জানায়, জেলার ১৩ উপজেলায় তিন দিনের ভারি বৃষ্টিতে ৩ হাজার ৩৮৪ হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব ফসরের মধ্যে রয়েছে ধান, সবজি ও ভুট্টা। তবে, আজকের পর বৃষ্টি না হলে এসব ফসল ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।
রজিবপুর ইউনিয়নের বিল খেরুয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, এক বোরো ধানের ফসল দিয়াই আমাদের সারা বছরের খোরাকি(খাবারের চাল) ওঠে। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা মেঘে( বৃষ্টিতে) সব বোরো ধানের ক্ষেত এহন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ৪৫ কাঠা বোরো ধানের জমির ওপর দিয়ে যাচ্ছে পানির স্রোত। মনে হচ্ছে এসব জমির ধান আর ঘরে তুলতে পারবো না। এহন আমরা সারা বছর খাইয়্যাম কি?
পানিতে তলিয়ে যাওয়া বোরো ধানের জমির পাশে বিষণ্ণ মনে বসে ধানক্ষেত দেখছিলেন একই গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন,আমাদের এলাকায় বছরে একটা ফসলেই হয়, তা হলো বোরোধানের আবাদ। এই এক ফসলের ওপরেই আমাদের সারা বছরের খাবার ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের আর্থিক যোগান নির্ভরশীল। কিন্তু এবার ভারি বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন সারা বছর কীভাবে চলবে, তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। যদি সরকার থেকে কোন আর্থিক সুবিধা ও ঋণের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে আমাদের জন্য ভালো হতো।
আল-আমিন, সাইফুল ইসলাম, আজিজুল হকসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, খেরুয়া বিলের পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। যেকারণে বৃষ্টির পানিতে শতশত একর বোরোধানের জমি তলিয়ে গেছে। বিল খেরুয়ার সংযোগ খালটি খনন করা হলে জলাবদ্ধ নিরসন হবে। কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল সুরক্ষা পাবে। তাই আমরা দ্রুত খালটি খননের দাবি জানাচ্ছি।
কৃষকেরা জানান, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে এলাকার নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমিও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ধান কাটার মৌসুমে হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসল ঘরে তুলতে না পেরে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
এদিকে, ঝোড়ো হাওয়ার তাণ্ডবে উজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে অনেক এলাকা অন্ধকারে ডুবে আছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা, যাদের পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ফারজানা আজাদ সুমি বলেন, প্রায় ৮০ হেক্টর জমির ধান ইতিমধ্যে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। গত তিন দিনেরভারী বৃষ্টির পানিতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদি দুই-একদিনের মধ্যপ এসব জমির পানি নেমে যায়। তাহলে ধানের কোন ক্ষতি হবে না। এছাড়া প্রত্যেক এলাকায় মাঠ কর্মীরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা (কৃষি) ড. উম্মে হাবিবা বলেন, তিন দিনের ভারি বৃষ্টিতে ৩ হাজার ৩৮৪ হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব ফসরের মধ্যে রয়েছে ধান, সবজি ও ভুট্টা। তবে, আর যদি বৃষ্টি নানহয়। তাহলে এসব ফসল ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

স্টাফ রিপোর্টার 























