কাশ্মীর সীমান্তে বাড়ছে উত্তেজনা, আতঙ্কে সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা
গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ এক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার পর থেকে নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন অঞ্চলে আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। ভারতের দাবি, এ হামলার পেছনে রয়েছে পাকিস্তানের মদদপুষ্ট গোষ্ঠী। যদিও ইসলামাবাদ এ অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়ে পাল্টা সতর্কতা দিয়েছে—যাতে ভারত যেন এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের অজুহাত না খোঁজে।
ভারতশাসিত কাশ্মীরের সীমান্তঘেঁষা চুরান্দা গ্রামের বাসিন্দারা এক অনিশ্চিত পরিস্থিতি ও উৎকন্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। গ্রামের এক স্কুলশিক্ষক ফারুক আহমেদ জানান, “ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত স্কুলে এলেও অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। সবাই মনে করছেন যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘর্ষ বাঁধতে পারে।”
সাম্প্রতিক অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, এ ধরনের উত্তেজনার জেরে সংঘর্ষ প্রায়শই ঘটে থাকে। দুই দেশের মধ্যে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ইতিপূর্বে একাধিকবার যুদ্ধ হয়েছে এবং সীমান্তে গোলাগুলিও নতুন নয়। এসব কারণে সীমান্তের মানুষদের মধ্যে একধরনের স্থায়ী নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
চুরান্দা গ্রামের ২৫ বছর বয়সী যুবক আব্দুল আজিজ জানান, “আমাদের গ্রামে প্রায় দেড় হাজার মানুষ বসবাস করেন। এখানে ছয়টি বাঙ্কার রয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানি সেনারা তাদের নিজ নিজ অবস্থানে প্রস্তুত। অতীতে এই গ্রামে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাই আমাদের আশঙ্কাও বেশি।”
অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রণরেখার অপর পাশে পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরের চাকোঠি গ্রামেও একই ধরনের উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পাহাড়ের ঢালে বাঙ্কার তৈরি করছেন।
সেই গ্রামের ২২ বছর বয়সী যুবক ফয়জান আনায়াত জানান, সংঘর্ষ শুরু হলেই সবাই বাঙ্কারে আশ্রয় নেয়। তার প্রতিবেশি মোহাম্মদ নাজির বলেন, “আমরা ভয় পাই না। আমাদের তরুণেরা সজাগ রয়েছে।”
পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফ্ফরাবাদে ১০০ কোটি রুপি বরাদ্দ দিয়ে জরুরি তহবিল গঠন করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে দুই মাসের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকাভিত্তিক মাদ্রাসাগুলো ১০ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
কাশ্মীর সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হলে সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষতি দ্রুত মেরামতের জন্য আগেভাগেই যন্ত্রপাতি মজুত রাখা হয়েছে। উদ্ধারকাজে অংশ নিতে সিভিল ডিফেন্স এবং অন্যান্য সংস্থাকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
পাকিস্তান রেড ক্রিসেন্টের কাশ্মীর শাখার প্রধান গুলজার ফাতিমা জানিয়েছেন, সংঘাত তীব্র হলে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। এজন্য তারা অন্তত ৫০০ পরিবারের জন্য জরুরি তাঁবু, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ একটি পূর্ণাঙ্গ ত্রাণশিবির প্রস্তুত রেখেছেন।






















