০৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা ছাড়াই শেষ হলো ট্রাম্প–পুতিনের ঐতিহাসিক বৈঠক

 

বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখোমুখি বৈঠক। যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ঘিরে ছিল আন্তর্জাতিক মহলের প্রবল আগ্রহ। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে অনেকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

 

এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় আলাস্কায়, যেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে আলোচনায় বসেন ট্রাম্প ও পুতিন। উদ্দেশ্য ছিল মূলত ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান খোঁজা এবং দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে সাজানোর পথ তৈরি করা। ট্রাম্প বৈঠককে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে অভিহিত করলেও, শেষ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসেনি। মূল কারণ হিসেবে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইউক্রেন এবং ইউরোপকেই নিতে হবে।

 

বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে কথা বলেন পুতিন। তিনি জানান, আলোচনা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি এনেছে এবং কিছু বিষয়ে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। তবে কোন কোন বিষয়ে সেই সম্মতি হয়েছে তা খোলাসা করেননি। তার ভাষায়, “যদি দীর্ঘস্থায়ী কোনো চুক্তি করতে হয়, তাহলে ইউক্রেনে হামলার মূল কারণগুলো সমাধান করতে হবে।”Travel guides

 

একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আভাস দেন তিনি এবং আশা প্রকাশ করেন যে এই বৈঠক শুধু ইউক্রেন সমস্যা সমাধানের শুরু নয়, বরং রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাস্তবসম্মত ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক ফিরিয়ে আনবে। পুতিন আরও দাবি করেন, যদি ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকতেন তাহলে হয়ত তিনি কখনো ইউক্রেনে হামলা চালাতেন না।

 

পুতিনের বক্তব্য শেষে ট্রাম্প বলেন, “আমরা অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি। বেশিরভাগ বিষয়ে একমত হয়েছি। তবে কিছু বড় বিষয়ে একমত হতে পারিনি। তাই কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। তবে অগ্রগতি হয়েছে।” তিনি জানান, এ বৈঠকের ব্যাপারে তিনি খুব শিগগির ন্যাটো এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে অবহিত করবেন।

 

সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে পুতিন ট্রাম্পকে মস্কো সফরের আমন্ত্রণ জানান। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, তারও মনে হয় মস্কোতে বৈঠক হতে পারে। তবে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বা পুতিন কেউই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেননি। সাংবাদিকরা চিৎকার করে প্রশ্ন করলেও তারা সেগুলো এড়িয়ে যান।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ময়মনসিংহের চর বিনপাড়ায় টিকাদান কেন্দ্র চালু

জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের স্বার্থে কাজের আহ্বান এমপি ওয়াহাবের

05 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা ছাড়াই শেষ হলো ট্রাম্প–পুতিনের ঐতিহাসিক বৈঠক

পোষ্টের সময় : ০৯:১৯:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

 

বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখোমুখি বৈঠক। যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ঘিরে ছিল আন্তর্জাতিক মহলের প্রবল আগ্রহ। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে অনেকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

 

এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় আলাস্কায়, যেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে আলোচনায় বসেন ট্রাম্প ও পুতিন। উদ্দেশ্য ছিল মূলত ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান খোঁজা এবং দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে সাজানোর পথ তৈরি করা। ট্রাম্প বৈঠককে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে অভিহিত করলেও, শেষ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসেনি। মূল কারণ হিসেবে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইউক্রেন এবং ইউরোপকেই নিতে হবে।

 

বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে কথা বলেন পুতিন। তিনি জানান, আলোচনা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি এনেছে এবং কিছু বিষয়ে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। তবে কোন কোন বিষয়ে সেই সম্মতি হয়েছে তা খোলাসা করেননি। তার ভাষায়, “যদি দীর্ঘস্থায়ী কোনো চুক্তি করতে হয়, তাহলে ইউক্রেনে হামলার মূল কারণগুলো সমাধান করতে হবে।”Travel guides

 

একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আভাস দেন তিনি এবং আশা প্রকাশ করেন যে এই বৈঠক শুধু ইউক্রেন সমস্যা সমাধানের শুরু নয়, বরং রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাস্তবসম্মত ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক ফিরিয়ে আনবে। পুতিন আরও দাবি করেন, যদি ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকতেন তাহলে হয়ত তিনি কখনো ইউক্রেনে হামলা চালাতেন না।

 

পুতিনের বক্তব্য শেষে ট্রাম্প বলেন, “আমরা অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি। বেশিরভাগ বিষয়ে একমত হয়েছি। তবে কিছু বড় বিষয়ে একমত হতে পারিনি। তাই কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। তবে অগ্রগতি হয়েছে।” তিনি জানান, এ বৈঠকের ব্যাপারে তিনি খুব শিগগির ন্যাটো এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে অবহিত করবেন।

 

সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে পুতিন ট্রাম্পকে মস্কো সফরের আমন্ত্রণ জানান। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, তারও মনে হয় মস্কোতে বৈঠক হতে পারে। তবে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বা পুতিন কেউই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেননি। সাংবাদিকরা চিৎকার করে প্রশ্ন করলেও তারা সেগুলো এড়িয়ে যান।

 

Share this news as a Photo Card