১০:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর শতবর্ষী রাজবাড়ি ধ্বংসে বিতর্ক

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • পোষ্টের সময় : ১০:২৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২১৫ ভিউ :

 

রাজশাহীর দরগাপাড়ায় একটি শতবর্ষী রাজবাড়ি ভাঙার সময় স্থানীয়রা প্রত্নতত্ত্ব দপ্তরের হস্তক্ষেপ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ধ্বংসকাজের সময় বাড়ির মেঝে খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসে জলভর্তি সুড়ঙ্গ, যা প্রাচীনকালে বায়ু চলাচল বা নিরাপত্তার জন্য তৈরি করা হতে পারে।

 

বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন দিঘাপতিয়ার রাজা হেমেন্দ্র নারায়ণ রায়ের ছেলে সন্দীপ কুমার রায়। জনশ্রুতি অনুযায়ী, পুঠিয়ার মহারানী হেমন্তকুমারী থাকাকালীন এই দোতলা রাজবাড়িটি রাজপরিবারের বাসভবন হিসেবে ব্যবহার হতো। রাজপরিবার চলে যাওয়ার পর বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। পরে এখানে কুটির শিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেছিলেন ভাষাসংগ্রামী মনোয়ারা রহমান। তার আগে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এম আতাউর রহমানও এই বাড়িতে বসবাস করেছেন।

 

সম্প্রতি বোয়ালিয়া থানা ভূমি অফিস নিলামে বাড়িটি ১ লাখ ৫২ হাজার টাকায় বিক্রি করে। নিলামের ক্রেতা মতিউর রহমান শ্রমিকদের দিয়ে বাড়িটি ভাঙতে শুরু করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহল ও ঐতিহ্য সংরক্ষণবাদীরা অভিযোগ করেছেন, হেরিটেজ মূল্য যাচাই না করে রাজবাড়িটি ধ্বংস করা হয়েছে।

 

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান বলেন, “রাজশাহী অঞ্চলে বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা হারিয়েছে, এই রাজবাড়ি সংরক্ষণ করা হলে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যেত।” রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মহিনুল হাসান জানান, “ভবনটি পরিত্যক্ত ছিল এবং ধ্বংসপ্রবণ হয়ে পড়েছিল। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবিষ্যতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

সচেতন মহল মনে করছেন, রাজবাড়ি সংরক্ষণে প্রশাসন এবং প্রত্নতত্ত্ব দপ্তরের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুড়ঙ্গ ও প্রাচীন স্থাপত্যকে সঠিকভাবে যাচাই করে সংরক্ষণ করা গেলে এটি শুধু ঐতিহাসিক মূল্যই রাখত না, বরং রাজশাহীর সাংস্কৃতিক ও পর্যটন সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পেত।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ফ্যাসিবাদের ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান দেশকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে দিয়েছেন: প্রিন্স

ছিলেন মমতার ঘনিষ্ঠ, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রীর আত্মহত্যা

17 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

রাজশাহীর শতবর্ষী রাজবাড়ি ধ্বংসে বিতর্ক

পোষ্টের সময় : ১০:২৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

 

রাজশাহীর দরগাপাড়ায় একটি শতবর্ষী রাজবাড়ি ভাঙার সময় স্থানীয়রা প্রত্নতত্ত্ব দপ্তরের হস্তক্ষেপ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ধ্বংসকাজের সময় বাড়ির মেঝে খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসে জলভর্তি সুড়ঙ্গ, যা প্রাচীনকালে বায়ু চলাচল বা নিরাপত্তার জন্য তৈরি করা হতে পারে।

 

বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন দিঘাপতিয়ার রাজা হেমেন্দ্র নারায়ণ রায়ের ছেলে সন্দীপ কুমার রায়। জনশ্রুতি অনুযায়ী, পুঠিয়ার মহারানী হেমন্তকুমারী থাকাকালীন এই দোতলা রাজবাড়িটি রাজপরিবারের বাসভবন হিসেবে ব্যবহার হতো। রাজপরিবার চলে যাওয়ার পর বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। পরে এখানে কুটির শিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেছিলেন ভাষাসংগ্রামী মনোয়ারা রহমান। তার আগে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এম আতাউর রহমানও এই বাড়িতে বসবাস করেছেন।

 

সম্প্রতি বোয়ালিয়া থানা ভূমি অফিস নিলামে বাড়িটি ১ লাখ ৫২ হাজার টাকায় বিক্রি করে। নিলামের ক্রেতা মতিউর রহমান শ্রমিকদের দিয়ে বাড়িটি ভাঙতে শুরু করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহল ও ঐতিহ্য সংরক্ষণবাদীরা অভিযোগ করেছেন, হেরিটেজ মূল্য যাচাই না করে রাজবাড়িটি ধ্বংস করা হয়েছে।

 

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান বলেন, “রাজশাহী অঞ্চলে বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা হারিয়েছে, এই রাজবাড়ি সংরক্ষণ করা হলে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যেত।” রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মহিনুল হাসান জানান, “ভবনটি পরিত্যক্ত ছিল এবং ধ্বংসপ্রবণ হয়ে পড়েছিল। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবিষ্যতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

সচেতন মহল মনে করছেন, রাজবাড়ি সংরক্ষণে প্রশাসন এবং প্রত্নতত্ত্ব দপ্তরের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুড়ঙ্গ ও প্রাচীন স্থাপত্যকে সঠিকভাবে যাচাই করে সংরক্ষণ করা গেলে এটি শুধু ঐতিহাসিক মূল্যই রাখত না, বরং রাজশাহীর সাংস্কৃতিক ও পর্যটন সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পেত।

 

Share this news as a Photo Card