০৫:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রেণিকক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন শিক্ষক, চলছে ক্লাস

 

ঠিক দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিট। তৃতীয় শ্রেণির বাংলা ক্লাস চলছিল। এ সময় শ্রেণিকক্ষেই বেঞ্চের উপর পা তুলে ঘুমাচ্ছিলেন শিক্ষক। সাংবাদিক উপস্থিতি জানতে পেরে আরেক সহকারী শিক্ষক ঘুমন্ত শিক্ষকের ঘুম ভাঙালেন। নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটে।

 

রোববার (২৬ অক্টোবর) খালিয়াজুড়ি উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের নূরপুর বোয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিটে বিদ্যালয়টিতে গেলে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী ১০৭ জনের স্থলে দ্বিতীয় শিফটে পাওয়া যায় মাত্র ২১ জন শিক্ষার্থী। পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। প্রধান শিক্ষকসহ চারজন শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত পাওয়া যায়। তৃতীয় শ্রেণির বাংলা ক্লাস চলাকালীন সহকারী শিক্ষক গোলাম মৌলাকে শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চের উপর পা তুলে চেয়ারে বসে ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। শিশু শিক্ষার্থীরা এলোমেলোভাবে বসে ছিল।

 

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আশরাফুল, নাদিয়া, তাওমিদ জানায়, আমাদের বাংলা ক্লাস চলার সময় স্যার চেয়ারে বসে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে স্যারকে আমরা আর ডাক দিইনি। ম্যাডাম স্যারের ঘুম ভাঙিয়েছেন।

 

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক গোলাম মৌলা জানান, আমার জ্বর। আমি ছুটি নিতে চেয়েছিলাম। তাই চোখে ঘুম এসে গেছে।

 

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক তপন কান্তি সরকার জানান, ভাই, এ সংবাদটি পরিবেশন করবেন না। এতে বিদ্যালয়ের ক্ষতি হবে।

 

এ বিদ্যালয়ে ১০৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দ্বিতীয় শিফটে আছে ২১ জন। এত কম শিক্ষার্থী কেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, চারটি মাদ্রাসা হয়েছে, তাই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম আসে।

 

খালিয়াজুড়ি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান জানান, শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে ক্লাসরুমে ঘুমানোর কোনো সুযোগ নেই। যদি ঘুমিয়ে থাকে, সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল আজম জানান, এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

হাম নিয়ন্ত্রণে আসতে দুই-তিন মাস লাগবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

19 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

শ্রেণিকক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন শিক্ষক, চলছে ক্লাস

পোষ্টের সময় : ০৬:৪৮:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

 

ঠিক দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিট। তৃতীয় শ্রেণির বাংলা ক্লাস চলছিল। এ সময় শ্রেণিকক্ষেই বেঞ্চের উপর পা তুলে ঘুমাচ্ছিলেন শিক্ষক। সাংবাদিক উপস্থিতি জানতে পেরে আরেক সহকারী শিক্ষক ঘুমন্ত শিক্ষকের ঘুম ভাঙালেন। নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটে।

 

রোববার (২৬ অক্টোবর) খালিয়াজুড়ি উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের নূরপুর বোয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিটে বিদ্যালয়টিতে গেলে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী ১০৭ জনের স্থলে দ্বিতীয় শিফটে পাওয়া যায় মাত্র ২১ জন শিক্ষার্থী। পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। প্রধান শিক্ষকসহ চারজন শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত পাওয়া যায়। তৃতীয় শ্রেণির বাংলা ক্লাস চলাকালীন সহকারী শিক্ষক গোলাম মৌলাকে শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চের উপর পা তুলে চেয়ারে বসে ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। শিশু শিক্ষার্থীরা এলোমেলোভাবে বসে ছিল।

 

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আশরাফুল, নাদিয়া, তাওমিদ জানায়, আমাদের বাংলা ক্লাস চলার সময় স্যার চেয়ারে বসে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে স্যারকে আমরা আর ডাক দিইনি। ম্যাডাম স্যারের ঘুম ভাঙিয়েছেন।

 

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক গোলাম মৌলা জানান, আমার জ্বর। আমি ছুটি নিতে চেয়েছিলাম। তাই চোখে ঘুম এসে গেছে।

 

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক তপন কান্তি সরকার জানান, ভাই, এ সংবাদটি পরিবেশন করবেন না। এতে বিদ্যালয়ের ক্ষতি হবে।

 

এ বিদ্যালয়ে ১০৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দ্বিতীয় শিফটে আছে ২১ জন। এত কম শিক্ষার্থী কেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, চারটি মাদ্রাসা হয়েছে, তাই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম আসে।

 

খালিয়াজুড়ি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান জানান, শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে ক্লাসরুমে ঘুমানোর কোনো সুযোগ নেই। যদি ঘুমিয়ে থাকে, সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল আজম জানান, এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

Share this news as a Photo Card