সুন্দরবনের হলদেবুনিয়া টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীরা সম্প্রতি সীমান্তবর্তী নদীতে টহল দিতে গেলে সশস্ত্র জলদস্যুদের মুখোমুখি হন। ১২-১৩ জন দস্যু তাদের ঘিরে ধরে ভবিষ্যতে ওই এলাকায় টহল না দিতে হুমকি প্রদান করে। ফাঁড়ির ইনচার্জ তানভীর হোসেন জানিয়েছেন, অনেক সময় বনকর্মীদের এলাকা ছাড়তে, আটক মৎস্যজীবীদের ছেড়ে দিতে বা মামলা লঘু করতে চাপ দেওয়া হয়।
এই হুমকির কারণে বন বিভাগের কর্মীরা নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন। হলদেবুনিয়া ফাঁড়িতে আগের হামলার সময় অস্ত্র লুটে নেওয়ায় বনরক্ষীরা এখন ইচ্ছামতো টহল দিতে পারছেন না। ৩০ নভেম্বর কয়েকজন জেলেকে আটক করার সময় স্থানীয় প্রভাবশালীরা মামলা লঘু করার চেষ্টা করেন। তবে ইউপি সদস্যরা দাবি করেছেন, তারা কেবল স্থানীয় লোকজনের অনুরোধে মধ্যস্থতা করেছিলেন, হুমকি দেননি।
বুড়িগোয়ালিনী, মরাগাং ও মুন্সিগঞ্জ টহল ফাঁড়িতে বনকর্মীরা নিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। স্পিডবোট ও নৌকায় হামলার পাশাপাশি, শিকারি চক্র ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বনরক্ষীদের ওপর বারবার হামলা চালাচ্ছেন। ২৭ নভেম্বর কল রেকর্ড বিশ্লেষণে জানা গেছে, সুন্দরবন প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বন বিভাগের অভয়ারণ্যে মাছ শিকারের জন্য নৌকা পাঠানোর আবদার জানিয়েছিলেন।
বনরক্ষীরা জানিয়েছেন, জনবল সংকট ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে দায়িত্ব পালনে অসহায়। তাদের ওপর অনৈতিক দাবি নিয়ে আসছেন কিছু কথিত সাংবাদিক, যা বন বিভাগের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন, বনরক্ষীরা সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করছেন। তবে জলদস্যু ও প্রভাবশালীর চাপ এবং স্থানীয় অনৈতিক দাবির কারণে কাজকর্মে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
স্যাতক্ষীরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করে বন বিভাগের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বনরক্ষীরা আশা করছেন, সুষ্ঠু তদন্ত ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হবে এবং সুন্দরবনের টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখা যাবে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















