চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই সৌদি আরবে অন্তত ১০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত দু’জন সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে। তারা বিদেশে বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং সন্ত্রাসী সংগঠনে যুক্ত থাকার দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এ বছর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৯ জনের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের অভিযোগ ছিল এবং অন্তত ৪৩ জনই ছিলেন বিদেশি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সৌদি আরবে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ধারাবাহিকতার তীব্র সমালোচনা করেছে।
মানবাধিকার সংগঠন রিপ্রিভের প্রধান জিদ বাসিউনি বলেন, সৌদি আরব নিজেকে একটি ইতিবাচক কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরলেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি উপেক্ষা করা হচ্ছে। তিনি জানান, অর্ধেকের বেশি মৃত্যুদণ্ড প্রাণঘাতী নয়—এমন অপরাধে কার্যকর হয়েছে।
সৌদি আরব ২০২২ সালের শেষ দিকে মাদক সংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা পুনরায় শুরু করে। সেই বছর দেশটিতে অন্তত ৩৩৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৭০।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সম্প্রতি এক বিবৃতিতে সৌদিতে মাদক সংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের ‘উদ্বেগজনক বৃদ্ধির’ কঠোর সমালোচনা করেছে। দেশটি বিশ্বে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে শীর্ষে রয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ সংস্কার পরিকল্পনার সঙ্গে এই মৃত্যুদণ্ডের প্রবণতা সাংঘর্ষিক। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, জনশৃঙ্খলা রক্ষায় মৃত্যুদণ্ড অপরিহার্য এবং তা সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শেষে কার্যকর করা হয়।






















