নারায়ণগঞ্জের বন্দরে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার থাকা ছাত্রলীগ নেতা সুমন মাত্র তিন ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে অংশ নিলেন নিজের স্ত্রী ও নবজাতক সন্তানের জানাজায়।
সোমবার বিকেলে দড়ি সোনাকান্দা মোড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুমন। চারপাশে স্বজনদের আর্তনাদে মুহূর্তে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
পুলিশ জানায়, সুমন স্থানীয় সোনাকান্দা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী বিস্ফোরক মামলায় গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন সুমনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হাফেজা বেগম। শুক্রবার সংকটজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত নবজাতকটি রোববার বিকেলে মারা যায় এবং রাত আটটার দিকে মৃত্যু হয় হাফেজা বেগমেরও।
পরিবারের এই করুণ অবস্থার প্রেক্ষিতে সুমনকে তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয় প্রশাসন। বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি পুলিশের কড়া পাহারায় নিজ বাড়িতে পৌঁছান। জানাজা শেষে স্ত্রী ও সন্তানের লাশ দাফন শেষে তাকে পুনরায় কারাগারে নেওয়া হয়।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন,
“বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার সুমন তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান। জানাজা শেষে তাকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা বলেন, “স্ত্রীর লাশের পাশে দাঁড়িয়ে সুমনের কান্না দেখে উপস্থিত সবাই কেঁদেছিল।”
সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই প্রশাসনের মানবিক সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন।
স্টাফ রিপোর্টার 























