হলিউডের সিনেমা যদি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে শুটিং করা হয়, তবে সেই সিনেমার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রোববার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দেন, যা দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্পের দাবি, বিদেশি কর ছাড় ও প্রণোদনার কারণে মার্কিন চলচ্চিত্র শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়ছে। তিনি বলেন, “চলচ্চিত্র একটি বার্তা ও প্রচারমাধ্যম, তাই এটি জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হতে পারে।” ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে বিদেশে নির্মিত ও আমদানিকৃত সিনেমার ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক বিষয়টি নিশ্চিত করে এক্স-এ এক পোস্টে লিখেছেন, “আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি।” তবে এ শুল্ক কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প বা লুটনিক।
চলচ্চিত্র নির্মাণে কর সুবিধা ও কম খরচের কারণে গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের দেশগুলোতে শুটিংয়ের প্রবণতা বাড়ে। বিশেষত, লস অ্যাঞ্জেলেসের তুলনায় ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়ায় অনেক নির্মাতা বিদেশমুখী হন। ২০২৩ সালে সম্মানী বাড়ানোর দাবিতে চিত্রনাট্যকার ও অভিনেতাদের ধর্মঘটের পর কিছু নির্মাতা লস অ্যাঞ্জেলেসে ফিরে এলেও সেই গতি ছিল ধীর।
একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি ও দাবানলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নির্মাতারা অন্যত্র যাওয়ার কথা ভাবছেন। ফিল্মএলএয়ের তথ্যে দেখা গেছে, গত এক দশকে লস অ্যাঞ্জেলেসে সিনেমা ও টিভি প্রযোজনা ৪০ শতাংশ কমে গেছে। ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী কনটেন্ট নির্মাণে খরচ হবে প্রায় ২৪৮ বিলিয়ন ডলার বলে পূর্বাভাস দিয়েছে অ্যামপিয়ার অ্যানালিটিক্স।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো যখন তিনি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক আরোপ করে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ জোরদার করেছেন। এতে মার্কিন অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাবেক বাণিজ্য কর্মকর্তা ও সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো উইলিয়াম রেইনশ বলেন, “এই সিদ্ধান্ত মারাত্মক প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে। লাভের চেয়ে ক্ষতির ঝুঁকিই বেশি।” তিনি আরও বলেন, “চলচ্চিত্রের কারণে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে—এই যুক্তি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।”


























