০৫:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাম রোগের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নারী চিকিৎসকের হাতে লাঞ্চিত সাংবাদিক

 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নারী চিকিৎসকের হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক আবু সালেহ মো. মুসাসহ বেশ কয়েকজন।

 

আবু সালেহ মো. মুসা ইনডডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি, দৈনিক ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস পত্রিকার সম্পাদক, দৈনিক যায়যায়দিনের ময়মনসিংহ ব্যুরো প্রধান, ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সাধারণ সম্পাদক। দেশ টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান কাউসার মিয়া, ইনডডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান সুমন আহমেদ, ময়মনসিংহ আঞ্চলিক অনলাইন টেলিভিশন আঙ্গর টিভির প্রতিনিধি শাওন ও জহিরুল ও লাঞ্চিত হন।

 

রবিবার (২৯ মার্চ) বিকালে সাড়ে ৪ টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।

 

সুত্র জানায়, দেশব্যাপী হাম রোগের ব্যাপক প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এমন সংবাদ সংগ্রহ করতে যান আবু সালেহ মো. মুসাসহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। সংবাদ সংগ্রহ করতে হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের পরিস্থিতি জানতে চেয়ে ইন্টারভিউ নিতে চান আবু সালেহ মো. মুসা। এসময় কোন প্রকার উস্কানি ছাড়াই নারী চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নিতে চায়। একই সাথে ওই নারী চিকিৎসক চিৎকার করে গার্ড ও আনসারদের ডেকে সাংবাদিকদের হাসপাতাল বের করে দেয়ার নির্দেশ দেন।

 

সাংবাদিক আবু সালেহ মো. মুসা বলেন, আমি হাসপাতাল কতৃপক্ষের যথাযখ অনুমতি নিয়ে হাম রোগের তথ্য সংগ্রহ করতে যাই। সম্প্রতি হাম রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় অফিসের এসাইনম্যান্ট করতে হাসপাতালে যাই। হাসপাতালে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের পরিস্থিতি জানতে চেয়ে ইন্টারভিউ নিতে চান আবু সালেহ মো. মুসা। এসময় কোন প্রকার উস্কানি ছাড়াই নারী চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নিতে চায়। একই সাথে ওই নারী চিকিৎসক চিৎকার করে গার্ড ও আনসারদের ডেকে সাংবাদিক কর্মীদের হাসপাতাল বের করে দেয়ার নির্দেশ দেন। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সাংবাদিকতা করাটাই দায়। আমি কতৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। যদি কোন ব্যবস্থা না নেয়। তাহলে আমরা কঠোর কর্মসুচি ঘোষণা করব।

 

ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায় বলেন, বিষয়টি খুব দু:খজনক। আমরা ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সাথে ওই নারী চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছি। আশা করি হাসপাতাল কতৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবো।

 

ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমরা সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা আশা করি হাসপাতাল কতৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকতার নিরাপদ পরিবেশ তৈরী করবেন।

 

সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহ’র সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনা অনাকাঙ্খিত ও দু:খজনক। এটা সাংবাদিকতা পেশার জন্য হুমকি স্বরুপ। আমরা সাংবাদিকরা সকলের সহযোগীতা কামনা করি।

 

এবিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। সাংবাদিক আবু সালেহ মো. মুসা আমার অনুমতি নিয়েই হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। তার সাথে যে ঘটনা ঘটেছে, অনাকাঙ্খিত এবং আমি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছি। প্রয়োজনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

বকশীগঞ্জে কৃষি বিভাগের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

সংগীত উৎসবে মদ নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স

21 June 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

হাম রোগের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নারী চিকিৎসকের হাতে লাঞ্চিত সাংবাদিক

পোষ্টের সময় : ০৭:৪৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নারী চিকিৎসকের হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক আবু সালেহ মো. মুসাসহ বেশ কয়েকজন।

 

আবু সালেহ মো. মুসা ইনডডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি, দৈনিক ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস পত্রিকার সম্পাদক, দৈনিক যায়যায়দিনের ময়মনসিংহ ব্যুরো প্রধান, ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সাধারণ সম্পাদক। দেশ টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান কাউসার মিয়া, ইনডডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান সুমন আহমেদ, ময়মনসিংহ আঞ্চলিক অনলাইন টেলিভিশন আঙ্গর টিভির প্রতিনিধি শাওন ও জহিরুল ও লাঞ্চিত হন।

 

রবিবার (২৯ মার্চ) বিকালে সাড়ে ৪ টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।

 

সুত্র জানায়, দেশব্যাপী হাম রোগের ব্যাপক প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এমন সংবাদ সংগ্রহ করতে যান আবু সালেহ মো. মুসাসহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। সংবাদ সংগ্রহ করতে হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের পরিস্থিতি জানতে চেয়ে ইন্টারভিউ নিতে চান আবু সালেহ মো. মুসা। এসময় কোন প্রকার উস্কানি ছাড়াই নারী চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নিতে চায়। একই সাথে ওই নারী চিকিৎসক চিৎকার করে গার্ড ও আনসারদের ডেকে সাংবাদিকদের হাসপাতাল বের করে দেয়ার নির্দেশ দেন।

 

সাংবাদিক আবু সালেহ মো. মুসা বলেন, আমি হাসপাতাল কতৃপক্ষের যথাযখ অনুমতি নিয়ে হাম রোগের তথ্য সংগ্রহ করতে যাই। সম্প্রতি হাম রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় অফিসের এসাইনম্যান্ট করতে হাসপাতালে যাই। হাসপাতালে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের পরিস্থিতি জানতে চেয়ে ইন্টারভিউ নিতে চান আবু সালেহ মো. মুসা। এসময় কোন প্রকার উস্কানি ছাড়াই নারী চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নিতে চায়। একই সাথে ওই নারী চিকিৎসক চিৎকার করে গার্ড ও আনসারদের ডেকে সাংবাদিক কর্মীদের হাসপাতাল বের করে দেয়ার নির্দেশ দেন। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সাংবাদিকতা করাটাই দায়। আমি কতৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। যদি কোন ব্যবস্থা না নেয়। তাহলে আমরা কঠোর কর্মসুচি ঘোষণা করব।

 

ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায় বলেন, বিষয়টি খুব দু:খজনক। আমরা ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সাথে ওই নারী চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছি। আশা করি হাসপাতাল কতৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবো।

 

ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমরা সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা আশা করি হাসপাতাল কতৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকতার নিরাপদ পরিবেশ তৈরী করবেন।

 

সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহ’র সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনা অনাকাঙ্খিত ও দু:খজনক। এটা সাংবাদিকতা পেশার জন্য হুমকি স্বরুপ। আমরা সাংবাদিকরা সকলের সহযোগীতা কামনা করি।

 

এবিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। সাংবাদিক আবু সালেহ মো. মুসা আমার অনুমতি নিয়েই হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। তার সাথে যে ঘটনা ঘটেছে, অনাকাঙ্খিত এবং আমি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছি। প্রয়োজনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Share this news as a Photo Card