রাজধানীতে আবারও বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনার খবর সামনে এসেছে। এবার ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, একজন প্রতারকের হাতে পড়ে তিনি প্রায় ১২ লাখ টাকা খুইয়েছেন। প্রতারক নিজেকে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তথা সচিব পরিচয়ে তুলে ধরে একাধিক কৌশলে এই টাকা আত্মসাৎ করেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে প্রতারক চাকরি, কাজ এবং ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আশ্বাস দেন যে, সরকারি প্রভাব খাটিয়ে সহজেই বড় অঙ্কের ব্যাংক ঋণ এনে দেওয়া সম্ভব হবে। এই বিশ্বাস দেখিয়ে প্রতারক ধাপে ধাপে টাকা আদায় করে নেয়। শুরুতে “প্রোফাইল মেকিং চার্জ” নামে কিছু টাকা নেয়া হয়, এরপর বিভিন্ন অগ্রিম খরচের অজুহাতে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে আরও অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়।
প্রতারক নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচিব পদবির পরিচয়ে প্রোফাইল চালাতেন। সেখানে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ ব্যক্তির সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে তিনি আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতেন। এতে সাধারণ মানুষ তাকে সহজেই সত্যিকারের সরকারি কর্মকর্তা ভেবে বসত।
অবশেষে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো ঋণ বা কাজের ব্যবস্থা হয়নি। তখন ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত প্রতারককে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের প্রতারণা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। বিশেষত চাকরি কিংবা ঋণের আশায় অনেকেই প্রতারকের ফাঁদে পড়ছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, কোনো সুযোগ পাওয়ার আগে অগ্রিম টাকা চাওয়া হলে তা প্রতারণারই লক্ষণ হতে পারে। সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রলোভনে না পড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে, আধুনিক প্রযুক্তি আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে। তাই সচেতনতা এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে বিশ্বাস করা নিরাপদ নয়।
স্টাফ রিপোর্টার 




















