ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৬দিন পেরিয়ে গেলেও ময়মনসিংহ নগরের বিভিন্ন সড়কে ঝুলছে প্রার্থীদের সাঁটানো প্যানা-পোস্টার ও ব্যানার। এতে নষ্ট হচ্ছে শহরের সৌন্দর্য। এনিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও নাগরিক নেতারা। প্যানা-পোস্টারের দিকে নজর যাওয়ায় দুর্ঘটনা আশংকার কথা জানিয়েছেন পরিবহনের চালকরা।
ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনে ৯জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ বিজয় লাভ করেন। এসব প্রার্থীর পোস্টারে চেয়ে রয়েছে শহরের প্রধান সড়ক নতুন বাজার, গাঙ্গিনারপাড়, চরপাড়া, নতুন বাজার, জিলা স্কুল মোড়, টাউন হল মোড়, র্যালীর মোড়। শুধু এসব বড় বড় স্থানে নয় অলিগলিতে ৯ প্রার্থীর শতশত পোস্টার, ব্যানার, বড় বড় বিলোবোর্ড টানানো হয়েছে।
বাগানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে আমাদের এলাকার প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ বিজয়ী হয়েছেন। তিনিসহ বাকি প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের পোস্টার এখনো টানানো থাকায় মনে হচ্ছে নির্বাচন শেষ হয়নি। তবে এসব সরিয়ে নিয়ে শহরের পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে দেয়া উচিত।
ফুটপাতের ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, অন্যান্যবার দেখি নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দিনেই এসব সরিয়ে নেয়া হয়। কিন্তু এবার নির্বাচনের ৫দিন ফেরিয়ে গেলেও তা সরানো হচ্ছে। এতে শহরটিকে নোংরা মনে হচ্ছে।
অটোরিকশা চালক আবুল মিয়া বলেন, শহরের প্রত্যেকটি রাস্তায়, ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, লাঙ্গন, মাথাল এবং একতারার প্রার্থীর প্যানা পোস্টার বেশি। এগলো এখনো পর্যন্ত না সরানোয়, আমাদের নজর প্রায় সময় পোস্টারের দিকে পড়ছে। এতে কখনো জানি দুর্ঘটনা ঘটে বলা যায় না।
সুশানের জন্য নাগরিক সুজন ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, নির্বাচন কমিশন কোন পোস্টার না করার সিদ্ধান্ত নিলেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা পোস্টার করে সাঁটিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্য ছিল শহর যেনো নোংরা না হয়। কিন্তু এখনো দেখা যাচ্ছে বিজয়ী এবং পরাজিত প্রার্থীদের প্যানা-পোস্টার শহর জুড়ে সাঁটানো রয়েছে। যা শহরকে নোংরা করছে। আমরা চাই এগুলো দ্রুত অপসারণের মাধ্যমে শহরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হোক।
ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, প্যানা-পোস্টার সরানোর দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। এটি তারাই করবেন।
মাথাল প্রতীকের প্রার্থী মোস্তুাফিজুর রহমান রাজীব বলেন, আমাদের সাঁটানো প্যানা পোস্টার আমাদেরকেই সরিয়ে নিতে হবে কি না তা আমি অবগত নই। যদি তাই হয় তাহলে আমি আমারগুলো সরিয়ে নেব।
নির্বাচনের ৫দিন পার হলেও নগরী থেকে ব্যানার প্যানা ও ফেস্টুন অপসারণের বিষয়ে খোঁজ নিলে কোন দপ্তরই সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। মসিকের এক দপ্তর আরেক দপ্তরের দায়িত্বের কথা বলে এড়িয়ে যান।
পরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো.মহব্বত আলী বলেন, প্যানা-পোস্টার অপসারণের জন্য অন্য একটি বিভাগ রয়েছে। আমি সেখানকার জালাল উদ্দিন আহমেদকে বলে দিচ্ছি সেগুলো সরানোর জন্য। আশা করছি মঙ্গলবারের মধ্যে সবগুলো অপসারণ হবে।
পরে বাজার শাখার দায়িত্বে থাকা জালাল উদ্দীন আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, এটা রাজস্ব কর্মকর্তার দায়িত্ব। ঐ দপ্তরে যোগাযোগ করেন।
এ বিষয়ে মসিকের রাজস্ব কর্মকর্তা জানান, আমি নতুন এসেছি। তবে কে দায়িত্বে আছেন কর্তৃপক্ষের সাথে খোঁজ নিয়ে কথা বলে জানাচ্ছি।
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিবের দায়িত্বে থাকা সুমনা মজিদকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি রিসিভ করেন নি।
আনিসুর রহমান ফারুক 






















