১০:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমাজের সকল বয়সের মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে: প্রিন্স

 

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, “পাঠাগার আন্দোলনকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে হবে। সমাজের সকল বয়সের মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বই মানুষের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করে, চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করে। একটি জ্ঞানভিত্তিক, মননশীল ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে পাঠাগার আন্দোলনকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।

 

শনিবার হালুয়াঘাট সাধারণ পাঠাগারের বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

হালুয়াঘাট সাধারণ পাঠাগারের সভাপতি মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক আলিমুল ইসলাম,সহ-সাধারণ সম্পাদক সোহেল আল আজাদ, পাঠাগার সম্পাদক মোহাইমেনুল ইসলাম রবিন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক নুরুজ্জামান হেলাল,শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহাব উদ্দিন রতন,সদস্য হোসনে আরা নীলু, প্রভাষক খালেদুজ্জামান আউলিয়া সহ হালুয়াঘাট সাধারণ পাঠাগারের নেতৃবৃন্দ।

 

সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, আজকের এই পুরস্কার শুধু একটি সনদ বা সম্মাননা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের মেধা, পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার স্বীকৃতি। একটি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনই সাফল্যের শেষ নয়; বরং এটি আরও বড় স্বপ্ন দেখার এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।

 

তিনি বলেন, একটি পাঠাগার শুধু বই রাখার স্থান নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, চিন্তা ও মনন বিকাশের কেন্দ্র। বই মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি করে, যুক্তিবোধ তৈরি করে, সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে শেখায় এবং একজন মানুষকে মানবিক ও বিবেকবান হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

 

প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে শিশু-কিশোর ও তরুণদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত আসক্তি থেকে নতুন প্রজন্মকে বের করে এনে বই, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও সৃজনশীল জ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

 

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—প্রতিটি এলাকায় পাঠাগার, প্রতিটি ঘরে বই এবং প্রতিটি মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস।” শুধু শিশু-কিশোর নয়, তরুণ, মধ্যবয়স্ক ও প্রবীণ—সব বয়সের মানুষকে পাঠাগারমুখী করতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যাতে সহজে বই পড়ার সুযোগ পায়, সে উদ্যোগও নিতে হবে।

 

সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আরও বলেন, একটি জাতির প্রকৃত অগ্রগতি শুধু অবকাঠামো নির্মাণে নয়; জ্ঞান, বিবেক, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরির মধ্যেই নিহিত। তাই একটি আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তুলতে পাঠাগার ও বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই।

 

অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ, ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেন।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে মমতা বিরুদ্ধে মামলা

কিশোরগঞ্জ-জামালপুরের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

28 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

সমাজের সকল বয়সের মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে: প্রিন্স

পোষ্টের সময় : ০৬:২৮:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

 

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, “পাঠাগার আন্দোলনকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে হবে। সমাজের সকল বয়সের মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বই মানুষের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করে, চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করে। একটি জ্ঞানভিত্তিক, মননশীল ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে পাঠাগার আন্দোলনকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।

 

শনিবার হালুয়াঘাট সাধারণ পাঠাগারের বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

হালুয়াঘাট সাধারণ পাঠাগারের সভাপতি মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক আলিমুল ইসলাম,সহ-সাধারণ সম্পাদক সোহেল আল আজাদ, পাঠাগার সম্পাদক মোহাইমেনুল ইসলাম রবিন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক নুরুজ্জামান হেলাল,শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহাব উদ্দিন রতন,সদস্য হোসনে আরা নীলু, প্রভাষক খালেদুজ্জামান আউলিয়া সহ হালুয়াঘাট সাধারণ পাঠাগারের নেতৃবৃন্দ।

 

সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, আজকের এই পুরস্কার শুধু একটি সনদ বা সম্মাননা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের মেধা, পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার স্বীকৃতি। একটি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনই সাফল্যের শেষ নয়; বরং এটি আরও বড় স্বপ্ন দেখার এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।

 

তিনি বলেন, একটি পাঠাগার শুধু বই রাখার স্থান নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, চিন্তা ও মনন বিকাশের কেন্দ্র। বই মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি করে, যুক্তিবোধ তৈরি করে, সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে শেখায় এবং একজন মানুষকে মানবিক ও বিবেকবান হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

 

প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে শিশু-কিশোর ও তরুণদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত আসক্তি থেকে নতুন প্রজন্মকে বের করে এনে বই, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও সৃজনশীল জ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

 

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—প্রতিটি এলাকায় পাঠাগার, প্রতিটি ঘরে বই এবং প্রতিটি মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস।” শুধু শিশু-কিশোর নয়, তরুণ, মধ্যবয়স্ক ও প্রবীণ—সব বয়সের মানুষকে পাঠাগারমুখী করতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যাতে সহজে বই পড়ার সুযোগ পায়, সে উদ্যোগও নিতে হবে।

 

সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আরও বলেন, একটি জাতির প্রকৃত অগ্রগতি শুধু অবকাঠামো নির্মাণে নয়; জ্ঞান, বিবেক, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরির মধ্যেই নিহিত। তাই একটি আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তুলতে পাঠাগার ও বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই।

 

অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ, ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেন।

 

Share this news as a Photo Card