০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পড়লে জনগণের অনেক ভোগান্তি হয় : স্পিকার

 

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিগত যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) ছিল, তারা জনগণের জন্য তেমন কিছু করতে পারেনি মূলত অভিজ্ঞতার অভাবে। প্রফেসর ইউনূস ভালো ছিলেন, পৃথিবী বিখ্যাত লোক। তাদের পক্ষে দেশের মানুষের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়নি। অর্থনীতির সূচক নিচের দিকে নেমে গিয়েছে। এই যে হামের টিকা নেই, বহু লোক জীবন দিয়েছে। এভাবে অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পড়লে তখন জনগণের অনেক ভোগান্তি হয়।

 

তিনি বলেন, তারা নিরপেক্ষ সরকার ছিল, চেষ্টা করেছে। অভিজ্ঞতার অভাবে তারা সফল হতে পারেনি। তাদেরকে একটা কৃতিত্ব দেই, তারা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করেছে। বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই, তারা একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। দেশ এখন আবার গণতন্ত্রের ট্র্যাকে উঠেছে। আশা করবো এ রাষ্ট্র সুন্দরভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অগ্রসর হবে, জাতি সমৃদ্ধ হবে।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তিন দিনের সরকারি সফরে ভোলায় এসে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্পিকার এসব কথা বলেন।

 

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের লিগেসি হিসেবে কতোগুলো বিষয় এখানে রয়ে গেছে, একটা হলো জুলাই সনদ। কয়েকজন ব্যক্তি তো রাষ্ট্রের সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে না, সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে গণপ্রতিনিধিরা। আপনারা জনগণ যাদেরকে ভোট দিয়ে বানাবেন তারা দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। কিন্তু তারা কিছু উদ্ভট নিয়মও করে গিয়েছে যে- ব্যক্তির নির্দেশে সংবিধান পরিবর্তন হয়ে যায় অটোমেটিকলি।

 

তিনি আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি। তারা জুলাই সনদে সই করেছে, সংসদেও তারা বলেছে যে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। তবে কয়েকটি বিষয়ে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, জনগণ তাদেরকে রায় দিয়েছে। জুলাই সনদেও লেখা আছে যারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, তারা যদি জনগণের ম্যান্ডেট পায় তারা নোট অব ডিসেন্টকে কার্যকর করতে পারবে। মূলত আমি দেখতে পাই সরকার এবং বিরোধীদলের মধ্যে খুব বেশি মতভেদ নেই। অল্প কিছুটা আছে। রাজনৈতিক চাল কিছুটা আছে। আমার মনে হয় সরকার এবং বিরোধী মিলে একটা সমঝোতায় উপনীত হতে পারবে।

 

স্পিকার বলেন, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ছিল মূলত গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের পরই দেখা গেল গণতন্ত্র বিদায় নিলো, এদেশে একদলীয় শাসন ও আমরা দেখেছি। গত ১৬-১৭ বছরে নির্বাচনের নামে কতগুলো প্রহসন মঞ্চস্থ হয়েছে। আমি নিজেই ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা থেকে যখন আমার নির্বাচনী এলাকায় (ভোলা-৩ লালমোহন-তজুমদ্দিন) গেলাম। যাওয়ার পর আমার বাড়িটা পুলিশ ঘিরে রেখেছিল, ১৬ দিন ঘর থেকেই বের হতে পারিনি। সেখান থেকে সন্ত্রাসী নির্বাচিত হয়ে গেল। এভাবেই বাংলাদেশে থেকে গণতন্ত্রকে ঝেটিয়ে বিদায় করা হয়েছিল। অবশেষে জনগণের ত্যাগ তিতিক্ষা বিশেষ করে ছাত্র-যুবক তাদের অভিভাবকরা রাজপথে নেমে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে আবু সাঈদ মুগ্ধ ওয়াসিমদের মতো তরুণরা জীবন দিয়ে দেশে আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। মাফিয়া নেত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে।

 

এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা.শামীম রহমান, জেলা প্রশাসন,পুলিশ ও স্পিকারের সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

হালুয়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রম

ইয়াবার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান, ফুলপুরে আটক ১ 

10 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পড়লে জনগণের অনেক ভোগান্তি হয় : স্পিকার

পোষ্টের সময় : ০৫:৪৩:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

 

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিগত যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) ছিল, তারা জনগণের জন্য তেমন কিছু করতে পারেনি মূলত অভিজ্ঞতার অভাবে। প্রফেসর ইউনূস ভালো ছিলেন, পৃথিবী বিখ্যাত লোক। তাদের পক্ষে দেশের মানুষের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়নি। অর্থনীতির সূচক নিচের দিকে নেমে গিয়েছে। এই যে হামের টিকা নেই, বহু লোক জীবন দিয়েছে। এভাবে অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পড়লে তখন জনগণের অনেক ভোগান্তি হয়।

 

তিনি বলেন, তারা নিরপেক্ষ সরকার ছিল, চেষ্টা করেছে। অভিজ্ঞতার অভাবে তারা সফল হতে পারেনি। তাদেরকে একটা কৃতিত্ব দেই, তারা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করেছে। বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই, তারা একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। দেশ এখন আবার গণতন্ত্রের ট্র্যাকে উঠেছে। আশা করবো এ রাষ্ট্র সুন্দরভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অগ্রসর হবে, জাতি সমৃদ্ধ হবে।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তিন দিনের সরকারি সফরে ভোলায় এসে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্পিকার এসব কথা বলেন।

 

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের লিগেসি হিসেবে কতোগুলো বিষয় এখানে রয়ে গেছে, একটা হলো জুলাই সনদ। কয়েকজন ব্যক্তি তো রাষ্ট্রের সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে না, সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে গণপ্রতিনিধিরা। আপনারা জনগণ যাদেরকে ভোট দিয়ে বানাবেন তারা দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। কিন্তু তারা কিছু উদ্ভট নিয়মও করে গিয়েছে যে- ব্যক্তির নির্দেশে সংবিধান পরিবর্তন হয়ে যায় অটোমেটিকলি।

 

তিনি আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি। তারা জুলাই সনদে সই করেছে, সংসদেও তারা বলেছে যে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। তবে কয়েকটি বিষয়ে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, জনগণ তাদেরকে রায় দিয়েছে। জুলাই সনদেও লেখা আছে যারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, তারা যদি জনগণের ম্যান্ডেট পায় তারা নোট অব ডিসেন্টকে কার্যকর করতে পারবে। মূলত আমি দেখতে পাই সরকার এবং বিরোধীদলের মধ্যে খুব বেশি মতভেদ নেই। অল্প কিছুটা আছে। রাজনৈতিক চাল কিছুটা আছে। আমার মনে হয় সরকার এবং বিরোধী মিলে একটা সমঝোতায় উপনীত হতে পারবে।

 

স্পিকার বলেন, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ছিল মূলত গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের পরই দেখা গেল গণতন্ত্র বিদায় নিলো, এদেশে একদলীয় শাসন ও আমরা দেখেছি। গত ১৬-১৭ বছরে নির্বাচনের নামে কতগুলো প্রহসন মঞ্চস্থ হয়েছে। আমি নিজেই ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা থেকে যখন আমার নির্বাচনী এলাকায় (ভোলা-৩ লালমোহন-তজুমদ্দিন) গেলাম। যাওয়ার পর আমার বাড়িটা পুলিশ ঘিরে রেখেছিল, ১৬ দিন ঘর থেকেই বের হতে পারিনি। সেখান থেকে সন্ত্রাসী নির্বাচিত হয়ে গেল। এভাবেই বাংলাদেশে থেকে গণতন্ত্রকে ঝেটিয়ে বিদায় করা হয়েছিল। অবশেষে জনগণের ত্যাগ তিতিক্ষা বিশেষ করে ছাত্র-যুবক তাদের অভিভাবকরা রাজপথে নেমে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে আবু সাঈদ মুগ্ধ ওয়াসিমদের মতো তরুণরা জীবন দিয়ে দেশে আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। মাফিয়া নেত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে।

 

এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা.শামীম রহমান, জেলা প্রশাসন,পুলিশ ও স্পিকারের সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

Share this news as a Photo Card