০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন্দুয়ায় মাংসের দোকানে মরা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ, নমুনা সংগ্রহ

 

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাটির নিচে পুঁতে রাখা মাংস ১০ দিন পরও তুলনামূলক অক্ষত থাকা এবং এর রং অস্বাভাবিক সাদা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের পর রোববার মাটির নিচে পুঁতে রাখা ওই মাংসের নমুনা সংগ্রহ করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়। এখন ল্যাব পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা।

 

অভিযোগ উঠেছে, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সনাটি ইউনিয়নের আকালপাড়া গ্রামের প্রবাস চন্দ্র সূত্রধরের একটি গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে গরুটিকে গোয়ালঘরে জবাই করে এক দালালের মাধ্যমে কেন্দুয়া পৌরশহরের মাংস ব্যবসায়ী আরাধনের কাছে বিক্রি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে কেন্দুয়া ও গৌরীপুরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আরাধন মাংস কেনার কথা স্বীকার করেন। তার দাবি, এক দালালের মাধ্যমে তিনি ওই গরুর প্রায় ৫০ কেজি মাংস ৬ হাজার টাকায় কিনেছিলেন। পরে গরুটির মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরে মাংস মাটিতে পুঁতে রাখেন। এরপর গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে মাটির নিচ থেকে মাংস তুলে দেখানো হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে মাংসের প্রকৃত অবস্থা ও সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

 

স্থানীয়দের প্রশ্ন, ২ সেপ্টেম্বরের ঘটনা হলে ১২ সেপ্টেম্বর মাটির নিচ থেকে উত্তোলনের পরও মাংস এতটা অক্ষত কীভাবে থাকল। মাংসের রংও অস্বাভাবিকভাবে সাদা দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাও।

 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান বলেন, ২ সেপ্টেম্বরের ঘটনা হিসেবে ১২ সেপ্টেম্বর মাটির নিচ থেকে মাংস উত্তোলন করা হলে সাধারণত সেটি আরও পচে যাওয়ার কথা। মাংসের রং ও অবস্থা দেখে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছে। মাংসটি আগে ফ্রিজিং করা হয়েছিল কি না, সেটিও পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। মাংসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা ল্যাবে পাঠানো হবে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর মাংসটির প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

এদিকে ঘটনাটি সামনে আসার পর কেন্দুয়ার মাংসের বাজারে পশু জবাইয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দুয়া পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রায় এক ডজন মাংসের দোকান রয়েছে। এসব দোকানে প্রতিদিন গড়ে ৯ থেকে ১০টি গরু ও ছাগল জবাই করা হয়। শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনে এ সংখ্যা আরও বাড়ে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

নিয়ম অনুযায়ী, পশু জবাইয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সুস্থতার ছাড়পত্র দেওয়ার কথা থাকলেও কেন্দুয়ার বাজারগুলোতে এ কার্যক্রম নিয়মিত হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে জবাই করা পশু অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত ছিল কি না, তা যাচাইয়ের সুযোগ অনেক ক্ষেত্রেই থাকছে না বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

 

কেন্দুয়া বাজারের মাংস ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরা গরুর মাংস বিক্রির যে অভিযোগ ছড়িয়েছে, ওই ব্যবসায়ী তার ভাই। তিনি মূলত খাসির মাংসের ব্যবসা করেন এবং মাঝে মধ্যে গরু জবাই করেন। সাংবাদিক ও প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের লোকজনের সামনে মাটির নিচে পুঁতে রাখা মাংস উত্তোলন করে দেখানো হয়েছে।

 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান আরও বলেন, কোনো মাংস ব্যবসায়ীরই লাইসেন্স নেই। প্রতিদিন বাজারে গিয়ে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার মতো পর্যাপ্ত জনবলও নেই। বিভিন্ন সময় মাংস ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলেও অনেকেই ব্যস্ততার অজুহাতে এতে অংশ নিতে চান না। অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশুর মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হলে তা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, তারা সরল বিশ্বাসে মাংসের দোকান থেকে মাংস কেনেন। কোনো ব্যবসায়ী অসুস্থ বা মৃত পশুর মাংস বিক্রি করে থাকলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ভূইয়া মজুন বলেন, বিষয়টি কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখছেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সানজিদা চৌধুরী বলেন, আলোচিত বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।

 

তবে ল্যাবে পাঠানো মাংসটি প্রবাস চন্দ্র সূত্রধরের সেই গরুরই কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষার ফল পাওয়া গেলে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

হালুয়াঘাটে ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন সহায়তা প্রদান

গোবিন্দশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান হতে চান তরুণ সমাজসেবক মোশারফ

12 September 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

কেন্দুয়ায় মাংসের দোকানে মরা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ, নমুনা সংগ্রহ

পোষ্টের সময় : ১০:৩৩:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাটির নিচে পুঁতে রাখা মাংস ১০ দিন পরও তুলনামূলক অক্ষত থাকা এবং এর রং অস্বাভাবিক সাদা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের পর রোববার মাটির নিচে পুঁতে রাখা ওই মাংসের নমুনা সংগ্রহ করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়। এখন ল্যাব পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা।

 

অভিযোগ উঠেছে, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সনাটি ইউনিয়নের আকালপাড়া গ্রামের প্রবাস চন্দ্র সূত্রধরের একটি গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে গরুটিকে গোয়ালঘরে জবাই করে এক দালালের মাধ্যমে কেন্দুয়া পৌরশহরের মাংস ব্যবসায়ী আরাধনের কাছে বিক্রি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে কেন্দুয়া ও গৌরীপুরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আরাধন মাংস কেনার কথা স্বীকার করেন। তার দাবি, এক দালালের মাধ্যমে তিনি ওই গরুর প্রায় ৫০ কেজি মাংস ৬ হাজার টাকায় কিনেছিলেন। পরে গরুটির মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরে মাংস মাটিতে পুঁতে রাখেন। এরপর গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে মাটির নিচ থেকে মাংস তুলে দেখানো হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে মাংসের প্রকৃত অবস্থা ও সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

 

স্থানীয়দের প্রশ্ন, ২ সেপ্টেম্বরের ঘটনা হলে ১২ সেপ্টেম্বর মাটির নিচ থেকে উত্তোলনের পরও মাংস এতটা অক্ষত কীভাবে থাকল। মাংসের রংও অস্বাভাবিকভাবে সাদা দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাও।

 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান বলেন, ২ সেপ্টেম্বরের ঘটনা হিসেবে ১২ সেপ্টেম্বর মাটির নিচ থেকে মাংস উত্তোলন করা হলে সাধারণত সেটি আরও পচে যাওয়ার কথা। মাংসের রং ও অবস্থা দেখে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছে। মাংসটি আগে ফ্রিজিং করা হয়েছিল কি না, সেটিও পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। মাংসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা ল্যাবে পাঠানো হবে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর মাংসটির প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

এদিকে ঘটনাটি সামনে আসার পর কেন্দুয়ার মাংসের বাজারে পশু জবাইয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দুয়া পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রায় এক ডজন মাংসের দোকান রয়েছে। এসব দোকানে প্রতিদিন গড়ে ৯ থেকে ১০টি গরু ও ছাগল জবাই করা হয়। শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনে এ সংখ্যা আরও বাড়ে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

নিয়ম অনুযায়ী, পশু জবাইয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সুস্থতার ছাড়পত্র দেওয়ার কথা থাকলেও কেন্দুয়ার বাজারগুলোতে এ কার্যক্রম নিয়মিত হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে জবাই করা পশু অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত ছিল কি না, তা যাচাইয়ের সুযোগ অনেক ক্ষেত্রেই থাকছে না বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

 

কেন্দুয়া বাজারের মাংস ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরা গরুর মাংস বিক্রির যে অভিযোগ ছড়িয়েছে, ওই ব্যবসায়ী তার ভাই। তিনি মূলত খাসির মাংসের ব্যবসা করেন এবং মাঝে মধ্যে গরু জবাই করেন। সাংবাদিক ও প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের লোকজনের সামনে মাটির নিচে পুঁতে রাখা মাংস উত্তোলন করে দেখানো হয়েছে।

 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান আরও বলেন, কোনো মাংস ব্যবসায়ীরই লাইসেন্স নেই। প্রতিদিন বাজারে গিয়ে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার মতো পর্যাপ্ত জনবলও নেই। বিভিন্ন সময় মাংস ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলেও অনেকেই ব্যস্ততার অজুহাতে এতে অংশ নিতে চান না। অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশুর মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হলে তা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, তারা সরল বিশ্বাসে মাংসের দোকান থেকে মাংস কেনেন। কোনো ব্যবসায়ী অসুস্থ বা মৃত পশুর মাংস বিক্রি করে থাকলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ভূইয়া মজুন বলেন, বিষয়টি কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখছেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সানজিদা চৌধুরী বলেন, আলোচিত বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।

 

তবে ল্যাবে পাঠানো মাংসটি প্রবাস চন্দ্র সূত্রধরের সেই গরুরই কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষার ফল পাওয়া গেলে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

 

Share this news as a Photo Card