বাংলাদেশ সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করেছে, যা অনুযায়ী গুমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ব্যবস্থা থাকবে। সোমবার লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। আইনটি শুধুমাত্র সাধারণ নাগরিকদের জন্য নয়, বরং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সেনা, নৌবাহিনী, বিমান, পুলিশ এবং বিজিবিসহ সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
নতুন অধ্যাদেশে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এ আইন অনুযায়ী অপরাধ করলে জামিন বা আপসের সুযোগ নেই। গ্রেপ্তারের পর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে’ গোপন রাখা যাবে।
এই অধ্যাদেশের খসড়া ৬ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে। এতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং অভিযোগ দায়েরের ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আইনের আওতায়, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যদি কাউকে গ্রেপ্তার, আটক, অপহরণ বা স্বাধীনতা হরণের পর বিষয়টি অস্বীকার করেন বা অবস্থান/পরিণতি গোপন রাখেন এবং এতে ব্যক্তি আইনগত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে এটি গুম বা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। দায়ী ব্যক্তি সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বনিম্ন ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
সরকার এই আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে চায়। এছাড়া, আইনটি গুমের ঘটনার প্রতি দ্রুত এবং কার্যকর বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার সুযোগ দিচ্ছে।
নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই আইনকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে, তবে তারা ট্রাইব্যুনাল ও আদালতের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
এই আইন কার্যকর হওয়ার পর দেশে গুমের ঘটনা কমতে পারে এবং জনগণের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি বিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে। সরকার আশা করছে, এই পদক্ষেপ দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্টাফ রিপোর্টার 























