১২:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি মহাপরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে নেত্রকোনায় নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ 

 

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ (ইপিএসএমপি ২০২৫) অবিলম্বে বাতিল করে ১০০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক গ্রিন গ্রিডে রূপান্তরের দাবিতে নেত্রকোনায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন।

 

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে জেলার একটি মাঠে বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি)-এর উদ্যোগে এবং অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-ময়মনসিংহ ও উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর সহ-আয়োজনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (২০২৬–২০৫০) কোনো জনশুনানি, স্বচ্ছ পরামর্শ বা নাগরিক অংশগ্রহণ ছাড়াই প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।

 

অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (২০২৬–২০৫০) প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনসম্পৃক্ততা, নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত। জনশুনানি ও স্বচ্ছ পরামর্শ ছাড়াই এই পরিকল্পনা অনুমোদনের চেষ্টা পূর্ববর্তী সরকারের অস্বচ্ছ ও কর্তৃত্ববাদী নীতিনির্ধারণের পুনরাবৃত্তি মাত্র।”

 

জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতার আশঙ্কায় বক্তারা জানান, মহাপরিকল্পনায় ‘এনার্জি ট্রানজিশন’-এর কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রকৃত নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ মাত্র ১৭ শতাংশ। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৫.৮ গিগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ২৫.২ গিগাওয়াট করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৫ বছর পরও এলএনজি, কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরতা থাকবে প্রায় ৫০ শতাংশ।

 

এছাড়া হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া কো-ফায়ারিং ও কার্বন ক্যাপচার (সিসিএস)-এর মতো ব্যয়বহুল ও পরীক্ষামূলক প্রযুক্তিকে সমাধান হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়াবে বলে দাবি করা হয়।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৫০ সালে বাংলাদেশের কার্বন নিঃসরণ হবে ১৮৬.৩ MtCO₂e, যা দেশের এনডিসি লক্ষ্য এবং ‘শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য কার্বন’ দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পাশাপাশি শ্রমিক পুনর্বাসন, নারী ও লিঙ্গভিত্তিক ন্যায্যতা, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের বিষয়গুলো পরিকল্পনায় উপেক্ষিত রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

 

নাগরিক সমাজের দাবি, ইপিএসএমপি ২০২৫ অবিলম্বে স্থগিত ও বাতিল, নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ জাতীয় পরামর্শ, জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে ১০০% নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ, ন্যায্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিতকরণ।

 

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেন, এসব দাবি উপেক্ষা করা হলে খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ বাংলাদেশের ইতিহাসে পরিণত হবে আরেকটি জনবিরোধী, অস্বচ্ছ এবং দায়মুক্তিমূলক নথি, যা দেশের জনগণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

১৫ আগস্ট ঘিরে ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা, তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি

বকশীগঞ্জে ব্রিজের এপ্রোচ ধসে বন্ধ ভারী যান চলাচল, মেরামতে উপজেলা প্রশাসন

13 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

জ্বালানি মহাপরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে নেত্রকোনায় নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ 

পোষ্টের সময় : ০৫:৪৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

 

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ (ইপিএসএমপি ২০২৫) অবিলম্বে বাতিল করে ১০০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক গ্রিন গ্রিডে রূপান্তরের দাবিতে নেত্রকোনায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন।

 

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে জেলার একটি মাঠে বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি)-এর উদ্যোগে এবং অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-ময়মনসিংহ ও উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর সহ-আয়োজনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (২০২৬–২০৫০) কোনো জনশুনানি, স্বচ্ছ পরামর্শ বা নাগরিক অংশগ্রহণ ছাড়াই প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।

 

অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (২০২৬–২০৫০) প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনসম্পৃক্ততা, নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত। জনশুনানি ও স্বচ্ছ পরামর্শ ছাড়াই এই পরিকল্পনা অনুমোদনের চেষ্টা পূর্ববর্তী সরকারের অস্বচ্ছ ও কর্তৃত্ববাদী নীতিনির্ধারণের পুনরাবৃত্তি মাত্র।”

 

জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতার আশঙ্কায় বক্তারা জানান, মহাপরিকল্পনায় ‘এনার্জি ট্রানজিশন’-এর কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রকৃত নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ মাত্র ১৭ শতাংশ। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৫.৮ গিগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ২৫.২ গিগাওয়াট করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৫ বছর পরও এলএনজি, কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরতা থাকবে প্রায় ৫০ শতাংশ।

 

এছাড়া হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া কো-ফায়ারিং ও কার্বন ক্যাপচার (সিসিএস)-এর মতো ব্যয়বহুল ও পরীক্ষামূলক প্রযুক্তিকে সমাধান হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়াবে বলে দাবি করা হয়।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৫০ সালে বাংলাদেশের কার্বন নিঃসরণ হবে ১৮৬.৩ MtCO₂e, যা দেশের এনডিসি লক্ষ্য এবং ‘শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য কার্বন’ দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পাশাপাশি শ্রমিক পুনর্বাসন, নারী ও লিঙ্গভিত্তিক ন্যায্যতা, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের বিষয়গুলো পরিকল্পনায় উপেক্ষিত রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

 

নাগরিক সমাজের দাবি, ইপিএসএমপি ২০২৫ অবিলম্বে স্থগিত ও বাতিল, নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ জাতীয় পরামর্শ, জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে ১০০% নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ, ন্যায্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিতকরণ।

 

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেন, এসব দাবি উপেক্ষা করা হলে খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ বাংলাদেশের ইতিহাসে পরিণত হবে আরেকটি জনবিরোধী, অস্বচ্ছ এবং দায়মুক্তিমূলক নথি, যা দেশের জনগণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

 

Share this news as a Photo Card