প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে অবস্থানের পর নেপালে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হংকং হয়ে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।
দেশে ফিরে দেউবা সরাসরি মহারাজগঞ্জে তার ভাড়া করা বাসভবনে উঠবেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সচিব ভানু দেউবা। দেশ ছাড়ার আগে যে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন, ফিরে এসেও সেখানেই থাকবেন তিনি।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা জানিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে নেপাল ছাড়েন ৮০ বছর বয়সী দেউবা। এরপর প্রায় পাঁচ মাস তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। এ সময়ে তার চিকিৎসা ও যাতায়াতের বিস্তারিত তথ্য খুব বেশি প্রকাশ্যে আসেনি।
দেউবা ও তার স্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবা, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের জেন-জি আন্দোলনের সময় গুরুতর আহত হন। আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীরা দেউবার বাসভবনে হামলা চালালে তারা আহত হন। পরে চিকিৎসার জন্য তারা বিদেশে যান।
দেউবা প্রথমে সিঙ্গাপুরে গেলেও পরবর্তী সময়ে হংকংয়ে তাদের অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। তবে কোথায় এবং কী ধরনের চিকিৎসা নিয়েছেন, সে বিষয়ে দেউবা পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার দেউবা একাই নেপালে ফিরেছেন। তার স্ত্রী আরজু রানা দেউবা ও ছেলে জয়বীরের বর্তমান অবস্থান নিয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
দেউবার দেশে ফেরাকে ঘিরে নেপালি কংগ্রেসের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা তাকে স্বাগত জানান। পরে দলীয় নেতাকর্মীরা বাদ্যযন্ত্র ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান।
দেউবার দেশে ফেরার সময়টি নেপালি কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ১৪ থেকে ১৬ আগস্ট দলটির একটি জাতীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে শুক্রবার দেউবার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। তার প্রত্যাবর্তনকে দলীয় নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে চলমান অভ্যন্তরীণ আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হওয়া জেন-জি আন্দোলন দ্রুত দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভে রূপ নেয়। আন্দোলনের সময় ব্যাপক সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির সরকার পতন হয়। পরবর্তী সময়ে নেপালের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে এবং বালেন্দ্র শাহ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
শের বাহাদুর দেউবা নেপালের পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং নেপালি কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি। দেশে ফেরার পর তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দলীয় রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 























