০৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহ মেডিকেলে ছাত্রদলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুরুতর আহত ২

 

মোটরসাইকেলে তেল ভরা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে (মমেক) ছাত্রদলের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১২টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

সংঘর্ষে জড়ানো পক্ষ দুটির একটি মেডিকেল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ ও অপর পক্ষ সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপের অনুসারী। এ ঘটনায় গুরুতর আহতরা হলেন নুরে জাওয়াদের অনুসারী মীর হামিদুর ও তানভীর আব্দুল্লাহর অনুসারী মো. ‍মুয়াজ। আটক একজনের নাম নাফিউল ইসলাম বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনার সূত্রপাত। এ সময় মো. আমানুল্লাহ মুয়াজ সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ গ্রুপের কর্মী মীর হামিদুরের রুমে যান। সেখানে বাইকে তেল ভরাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে মীর হামিদুর প্রথমে মুয়াজকে আঘাত করেন। এরপর ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং হামিদুর ও তার সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে রুম থেকে বের করে দেন।

 

পরে মীর হামিদুর চা খেতে বাইরে গেলে মুয়াজ একটি স্টিলের পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে হামিদুরের গ্রুপের সদস্যরা মুয়াজকে ধাওয়া করলে তিনি একটি রুমে ঢুকে নিজেকে আটকে রাখেন। এরপর মুয়াজকে উদ্ধার করতে তার গ্রুপের সদস্যরা এগিয়ে এলে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন পরিস্থিতি আংশিক নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহত হামিদুরকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

ঘটনার পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের উপস্থিতিতেও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলমান থাকে। এ সময় পুলিশের সামনেই ব্যাপক আক্রমণের শিকার হন আমানুল্লাহ ‍মুয়াজ। পরে তাকে ‍উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাজমুল আলম খানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আটককৃতের নাম জানাতে পারেননি তিনি।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

থাইল্যান্ডের স্কুলে শিক্ষার্থীর গুলিতে শিক্ষক নিহত, আহত ১০

মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানির অভিযোগে নান্দাইলে সংবাদ সম্মেলন

06 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ময়মনসিংহ মেডিকেলে ছাত্রদলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুরুতর আহত ২

পোষ্টের সময় : ১০:২৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

 

মোটরসাইকেলে তেল ভরা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে (মমেক) ছাত্রদলের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১২টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

সংঘর্ষে জড়ানো পক্ষ দুটির একটি মেডিকেল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ ও অপর পক্ষ সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপের অনুসারী। এ ঘটনায় গুরুতর আহতরা হলেন নুরে জাওয়াদের অনুসারী মীর হামিদুর ও তানভীর আব্দুল্লাহর অনুসারী মো. ‍মুয়াজ। আটক একজনের নাম নাফিউল ইসলাম বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনার সূত্রপাত। এ সময় মো. আমানুল্লাহ মুয়াজ সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ গ্রুপের কর্মী মীর হামিদুরের রুমে যান। সেখানে বাইকে তেল ভরাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে মীর হামিদুর প্রথমে মুয়াজকে আঘাত করেন। এরপর ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং হামিদুর ও তার সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে রুম থেকে বের করে দেন।

 

পরে মীর হামিদুর চা খেতে বাইরে গেলে মুয়াজ একটি স্টিলের পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে হামিদুরের গ্রুপের সদস্যরা মুয়াজকে ধাওয়া করলে তিনি একটি রুমে ঢুকে নিজেকে আটকে রাখেন। এরপর মুয়াজকে উদ্ধার করতে তার গ্রুপের সদস্যরা এগিয়ে এলে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন পরিস্থিতি আংশিক নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহত হামিদুরকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

ঘটনার পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের উপস্থিতিতেও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলমান থাকে। এ সময় পুলিশের সামনেই ব্যাপক আক্রমণের শিকার হন আমানুল্লাহ ‍মুয়াজ। পরে তাকে ‍উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাজমুল আলম খানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আটককৃতের নাম জানাতে পারেননি তিনি।

 

Share this news as a Photo Card