০২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে খাসজমি-চর-জলাশয়ে সৌরবিদ্যুতের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি

 

ময়মনসিংহ অঞ্চলের অকৃষি খাসজমি, ব্রহ্মপুত্র নদের স্থিতিশীল চর, নির্বাচিত জলাশয় ও সরকারি অব্যবহৃত স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে দেওয়া এ স্মারকলিপিতে ১০০ মেগাওয়াটের সমন্বিত পাইলট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালুরও প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

পরিবেশ ও উন্নয়নবিষয়ক সংগঠন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম এবং অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ স্মারকলিপি প্রদান করে।

 

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানিনির্ভর জ্বালানির বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুতের প্রসার এখন সময়ের দাবি। ময়মনসিংহের অনাবাদি খাসজমি, চরাঞ্চল, জলাশয় এবং সরকারি ভবনের ছাদ নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে।

 

এতে কৃষির ক্ষতি না করে অনাবাদি জমিতে ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র, নির্বাচিত জলাশয়ে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ, চরাঞ্চলে পরীক্ষামূলক সৌর প্রকল্প এবং কৃষিজমিতে ‘অ্যাগ্রিভোলটাইক’ প্রযুক্তি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেলস্টেশন ও বাজারে নেট মিটারিংভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হয়।

 

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ভূমির মালিকানা, বন্যা-নদীভাঙনের ঝুঁকি, সূর্যালোকের প্রাপ্যতা ও বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থা বিবেচনায় একটি ‘ময়মনসিংহ সৌরভূমি ও জলাশয় তথ্যভান্ডার’ তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি গঠনের প্রয়োজন রয়েছে।

 

এ ছাড়া চিহ্নিত একাধিক স্থানে সর্বোচ্চ ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার সমন্বিত পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং চরাঞ্চলে সৌরচালিত সেচ, হিমাগার, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

 

স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম ময়মনসিংহের চেয়ারম্যান সেলিনা বেগম, নেত্রকোনা শাখার সাধারণ সম্পাদক দিলওয়ার খান এবং অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা। তাঁদের মতে, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে ময়মনসিংহে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নন; তারা সমান মর্যাদার নাগরিক: প্রিন্স

আলজেরিয়ায় এতিমখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১১

17 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ময়মনসিংহে খাসজমি-চর-জলাশয়ে সৌরবিদ্যুতের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি

পোষ্টের সময় : ০২:৫২:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

 

ময়মনসিংহ অঞ্চলের অকৃষি খাসজমি, ব্রহ্মপুত্র নদের স্থিতিশীল চর, নির্বাচিত জলাশয় ও সরকারি অব্যবহৃত স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে দেওয়া এ স্মারকলিপিতে ১০০ মেগাওয়াটের সমন্বিত পাইলট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালুরও প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

পরিবেশ ও উন্নয়নবিষয়ক সংগঠন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম এবং অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ স্মারকলিপি প্রদান করে।

 

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানিনির্ভর জ্বালানির বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুতের প্রসার এখন সময়ের দাবি। ময়মনসিংহের অনাবাদি খাসজমি, চরাঞ্চল, জলাশয় এবং সরকারি ভবনের ছাদ নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে।

 

এতে কৃষির ক্ষতি না করে অনাবাদি জমিতে ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র, নির্বাচিত জলাশয়ে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ, চরাঞ্চলে পরীক্ষামূলক সৌর প্রকল্প এবং কৃষিজমিতে ‘অ্যাগ্রিভোলটাইক’ প্রযুক্তি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেলস্টেশন ও বাজারে নেট মিটারিংভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হয়।

 

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ভূমির মালিকানা, বন্যা-নদীভাঙনের ঝুঁকি, সূর্যালোকের প্রাপ্যতা ও বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থা বিবেচনায় একটি ‘ময়মনসিংহ সৌরভূমি ও জলাশয় তথ্যভান্ডার’ তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি গঠনের প্রয়োজন রয়েছে।

 

এ ছাড়া চিহ্নিত একাধিক স্থানে সর্বোচ্চ ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার সমন্বিত পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং চরাঞ্চলে সৌরচালিত সেচ, হিমাগার, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

 

স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম ময়মনসিংহের চেয়ারম্যান সেলিনা বেগম, নেত্রকোনা শাখার সাধারণ সম্পাদক দিলওয়ার খান এবং অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা। তাঁদের মতে, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে ময়মনসিংহে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

 

Share this news as a Photo Card