প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, সাম্প্রতিক সহিংস কিছু ঘটনার কারণে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি স্পষ্ট করে জানান, গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদির ঘটনাটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা মাত্র এবং এর সঙ্গে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের নিরাপত্তা ঝুঁকির কোনো সম্পর্ক নেই।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সিইসি বলেন, দেশে মাঝেমধ্যে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, যা নতুন নয়। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার কিংবা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডের কথাও সবাই জানে। সুতরাং বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনার ভিত্তিতে সার্বিক পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ঠিক নয়।
নির্বাচনকে ঘিরে জনমনে যেসব দুশ্চিন্তা ও সংশয় রয়েছে, তা দূর করার আহ্বান জানিয়ে নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্ধারিত সময়েই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই। আমরা জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি জানান, সম্প্রতি শীর্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কমিশনের বৈঠক হয়েছে। সেখানে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো কমিশনকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, অতীতের তুলনায় বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি অনেক ভালো। সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারছে, স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সিইসি বলেন, এবারের নির্বাচন ঐতিহাসিক হতে যাচ্ছে। কারণ এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ব্যালট চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং কারাবন্দিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন উপহার দেওয়াই কমিশনের লক্ষ্য।
স্টাফ রিপোর্টার 
























