যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রামেক শহরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে সড়কের নামকরণের যে সিদ্ধান্তটি সম্প্রতি গৃহীত হয়েছিলো, তা নাটকীয়ভাবে বাতিল করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার হ্যামট্রামেক সিটি কাউন্সিলের এক উত্তপ্ত সভায় এই ঘোষণা দেন মেয়র অ্যাডাম আলহারবি।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের উপস্থিতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামেও একটি রাস্তার নামকরণের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এই নতুন প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে সভায় উপস্থিতদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ ও তর্ক-বিতর্কের শুরু হয়, যা একপর্যায়ে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মেয়র বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ভোটাভুটির সিদ্ধান্ত নেন। ভোটাভুটিতে ২-২ সমতা বিরাজ করলে মেয়র নিজেই বিপক্ষে ভোট প্রদান করেন এবং এর ফলে পূর্বে অনুমোদিত বেগম খালেদা জিয়ার নামে সড়ক নামকরণের সিদ্ধান্তটি বাতিল হয়ে যায়।
সভা শেষে এক ফেসবুক পোস্টে মেয়র অ্যাডাম আলহারবি তার অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান যে, বাঙালি কমিউনিটিসহ শহরের সকল বাসিন্দার প্রতি সম্মান রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, হ্যামট্রামেক শহরটি এখানকার বাসিন্দাদের নিজেদের ঘর এবং এখানকার রাস্তাগুলো মূলত তাদেরই হওয়া উচিত যারা এখানে সরাসরি বসবাস করেন। বিদেশি কোনো রাজনৈতিক নেতার নামে রাস্তার নামকরণ করা হলে তা পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে বিভেদ বা বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে, যা এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ভবিষ্যতে যদি মিশিগানের কোনো বাসিন্দার নামে রাস্তার নামকরণ করতে হয়, তবে কমপক্ষে ১০০ জন স্থানীয় বাসিন্দার স্বাক্ষরসহ আবেদন করতে হবে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে সিটি কাউন্সিলের এক সভায় ৪-২ ভোটে জোসে ক্যাম্পো স্ট্রিট থেকে কনান্ট স্ট্রিট (বাংলাদেশ এভিনিউ) পর্যন্ত প্রায় ৪০০ মিটার দীর্ঘ সড়কটি ‘বেগম খালেদা জিয়া সড়ক’ হিসেবে নামকরণের প্রস্তাবটি পাস হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার শেখ হাসিনার নামেও নামকরণের পাল্টা দাবি ওঠায় পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক জটিলতায় রূপ নেয়। স্থানীয় বিএনপি নেতা কামাল হোসেন লিলু এই সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়াকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, এই বাতিলের খবরটি মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
স্টাফ রিপোর্টার 
























