১০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর শীর্ষে ময়মনসিংহ, বর্ষার শুরুতেই বাড়ছে উদ্বেগ

 

বর্ষার শুরুতেই ময়মনসিংহ বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে দেশের সর্বোচ্চ মৃত্যুর তালিকায় রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, যা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সমান এবং দেশের সর্বোচ্চ।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১০ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৮১৫ জন। এর মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ২৩৬ জন। যদিও আক্রান্তের সংখ্যায় বিভাগটি শীর্ষে নয়, তবে মৃত্যুর হার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচজন করে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চারজন, বরিশাল বিভাগে চারজন, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগে তিনজন করে এবং ঢাকা বিভাগের (সিটি এলাকার বাইরে) ও রাজশাহী বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গুর চেনা চিত্র বদলে গেছে। আগে ডেঙ্গুকে মৌসুমি রোগ হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে এটি বছরজুড়েই স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। থেমে থেমে বৃষ্টি, জমে থাকা পানি এবং অনুকূল তাপমাত্রার কারণে এডিস মশার বিস্তার বেড়ে যাচ্ছে।

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তারিকুল ইসলাম লিমনের মতে, বর্তমানে দুই-তিন দিন পরপর বৃষ্টি এবং পরে রোদ ওঠার কারণে বিভিন্ন পাত্রে পানি জমে থাকছে, যা এডিস মশার প্রজননের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করছে। এছাড়া জুন-জুলাই মাসে বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা মশার বংশবৃদ্ধির জন্য উপযোগী থাকায় লার্ভা থেকে পূর্ণাঙ্গ মশায় রূপান্তর আরও দ্রুত হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, আগে ধারণা করা হতো এডিস মশা শুধু ভোর বা সন্ধ্যায় কামড়ায়। কিন্তু নগর এলাকায় কৃত্রিম আলোর আধিক্যের কারণে এখন রাতেও এডিস মশার সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকায় এ বছর এডিস মশার ঘনত্ব আগের বছরের তুলনায় বেশি পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী দুই মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষকে নিজেদের বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

 

এদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু ফগিং বা ধোঁয়া ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মশার উৎস ধ্বংস, লার্ভা নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগী ব্যবস্থাপনায় আরও প্রস্তুত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে চলতি বর্ষা মৌসুমে ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

মাদকসেবনের অভিযোগে কারাদণ্ড, ময়মনসিংহে ছাত্রদল নেতা আনিসুর বহিষ্কার

সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

12 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর শীর্ষে ময়মনসিংহ, বর্ষার শুরুতেই বাড়ছে উদ্বেগ

পোষ্টের সময় : ১২:৫৭:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

 

বর্ষার শুরুতেই ময়মনসিংহ বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে দেশের সর্বোচ্চ মৃত্যুর তালিকায় রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, যা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সমান এবং দেশের সর্বোচ্চ।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১০ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৮১৫ জন। এর মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ২৩৬ জন। যদিও আক্রান্তের সংখ্যায় বিভাগটি শীর্ষে নয়, তবে মৃত্যুর হার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচজন করে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চারজন, বরিশাল বিভাগে চারজন, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগে তিনজন করে এবং ঢাকা বিভাগের (সিটি এলাকার বাইরে) ও রাজশাহী বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গুর চেনা চিত্র বদলে গেছে। আগে ডেঙ্গুকে মৌসুমি রোগ হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে এটি বছরজুড়েই স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। থেমে থেমে বৃষ্টি, জমে থাকা পানি এবং অনুকূল তাপমাত্রার কারণে এডিস মশার বিস্তার বেড়ে যাচ্ছে।

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তারিকুল ইসলাম লিমনের মতে, বর্তমানে দুই-তিন দিন পরপর বৃষ্টি এবং পরে রোদ ওঠার কারণে বিভিন্ন পাত্রে পানি জমে থাকছে, যা এডিস মশার প্রজননের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করছে। এছাড়া জুন-জুলাই মাসে বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা মশার বংশবৃদ্ধির জন্য উপযোগী থাকায় লার্ভা থেকে পূর্ণাঙ্গ মশায় রূপান্তর আরও দ্রুত হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, আগে ধারণা করা হতো এডিস মশা শুধু ভোর বা সন্ধ্যায় কামড়ায়। কিন্তু নগর এলাকায় কৃত্রিম আলোর আধিক্যের কারণে এখন রাতেও এডিস মশার সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকায় এ বছর এডিস মশার ঘনত্ব আগের বছরের তুলনায় বেশি পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী দুই মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষকে নিজেদের বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

 

এদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু ফগিং বা ধোঁয়া ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মশার উৎস ধ্বংস, লার্ভা নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগী ব্যবস্থাপনায় আরও প্রস্তুত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে চলতি বর্ষা মৌসুমে ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

 

Share this news as a Photo Card