০৯:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না : প্রধানমন্ত্রী

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পৃথিবীতে অনেকগুলো ধর্ম আছে। প্রতি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন। এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা।

 

তিনি বলেন, যেই কয়টি জিনিস এখানে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে, এই নির্দেশনা প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক যিনি যার ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে আমরা সবাই মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ নির্মাণ করতে পারব।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান।

 

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি নাগরিক প্রত্যেকেই যে যার ধর্মীয় রীতি নীতি ও অধিকার বিনা বাধায়-স্বাধীনভাবে অনুসরণ-অনুকরণ ও ভোগ করতে পারে এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যাতে শান্তি এবং নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে তেমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

 

বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি। আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, যা একটু আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমিও জোর দিয়ে আবারও একই কথা বলতে চাই- ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সব ক্ষেত্রে সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রতি মানুষের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই বীর মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের অনুসারী, কে বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী এটি কারো জিজ্ঞাসা ছিলো না। তাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার আমার, আমাদের সবার।

 

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। বাংলাদেশে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সব বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। সুতরাং, আপনারা কেউ নিজেদেরকে কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমার আপনার আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সবাই ‘আমরা বাংলাদেশি’।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জীবনে দুজন প্রিয় মানুষের একজন আমার স্ত্রী, আরেকজন আসিম মুনির: ভ্যান্স

পরীমনির ফুটবলপ্রেমে আর্জেন্টিনা আবহ

21 June 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না : প্রধানমন্ত্রী

পোষ্টের সময় : ০২:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পৃথিবীতে অনেকগুলো ধর্ম আছে। প্রতি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন। এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা।

 

তিনি বলেন, যেই কয়টি জিনিস এখানে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে, এই নির্দেশনা প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক যিনি যার ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে আমরা সবাই মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ নির্মাণ করতে পারব।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান।

 

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি নাগরিক প্রত্যেকেই যে যার ধর্মীয় রীতি নীতি ও অধিকার বিনা বাধায়-স্বাধীনভাবে অনুসরণ-অনুকরণ ও ভোগ করতে পারে এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যাতে শান্তি এবং নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে তেমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

 

বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি। আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, যা একটু আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমিও জোর দিয়ে আবারও একই কথা বলতে চাই- ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সব ক্ষেত্রে সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রতি মানুষের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই বীর মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের অনুসারী, কে বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী এটি কারো জিজ্ঞাসা ছিলো না। তাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার আমার, আমাদের সবার।

 

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। বাংলাদেশে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সব বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। সুতরাং, আপনারা কেউ নিজেদেরকে কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমার আপনার আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সবাই ‘আমরা বাংলাদেশি’।

 

Share this news as a Photo Card