শেরপুরের নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের বেনিরগ্রুপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। বিদ্যালয়টিতে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী মাত্র ১১ জন। অথচ সেখানে কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন ৫ জন। তবে বাস্তবচিত্র আরও হতাশাজনক-বিদ্যালয়ের গেটে তালা ঝুলছে, অনুপস্থিত শিক্ষক-কর্মচারীরা, নেই কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি।
সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলছে। কোনো ক্লাস চলমান নয়, নেই শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর কোনো সাড়া। অথচ দেশে কোনো ধরনের কর্মবিরতি বা ছুটি ঘোষণা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এক শিক্ষক জানান, ‘আমরা এখনো পাঠ্যবই পাইনি।’ তবে স্থানীয়রা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয় বন্ধ রেখে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন। তিনি বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না এবং শিক্ষকদেরও যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেন না। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চরমভাবে শিক্ষাবঞ্চিত হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিদ্যালয় বন্ধ রাখার বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং বিভিন্ন অজুহাত দিতে থাকেন। পরবর্তীতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাকে ফোন করলে, তিনি প্রথমে শিক্ষা কর্মকর্তাকেই চিনতে পারেননি যা আরও বিস্ময় সৃষ্টি করে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, প্রধান শিক্ষক একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং আগেও পুলিশের হাতে জুয়া খেলতে গিয়ে আটক হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি অধিকাংশ সময় ব্যস্ত থাকেন জমি মাপা ও ব্যক্তিগত কাজে।
বছরের পর বছর ধরে এমন অনিয়ম চললেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি দ্রুত তদন্ত করে দায়ী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়টিকে শিক্ষার উপযোগী করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।




















