রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে সাধারণ মানুষ পুলিশ ভেরিফিকেশন বাতিলের ফলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। ধামরাইয়ের মিম আক্তারের মতো অনেকেই গত কয়েক বছরে পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় পুলিশের অনিয়ম ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। অতীতে নামের বানান ভুলের অজুহাত দেখিয়ে পুলিশ বড় অঙ্কের টাকা দাবি করত, যা দিতে বাধ্য হতো আবেদনকারীরা।
পাসপোর্ট অফিসে সরেজমিন দেখা যায়, এবার কাউন্টারগুলোয় আগের মতো উপচেপড়া ভিড় নেই। পুলিশ ভেরিফিকেশন বাতিল হওয়ায় আবেদনকারীরা দ্রুত ও সহজভাবে পাসপোর্ট পাচ্ছেন। আগারগাঁও অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় এক লাখ আবেদনকারী এখন অপেক্ষা ছাড়াই পাসপোর্ট পেতে সক্ষম হয়েছেন।
রাজধানীর মিরপুরের আলামিন বলছেন, পুলিশ তদন্ত ব্যতীত পাসপোর্ট প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়েছে। তিনি মনে করেন, নাগরিক হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেই যথেষ্ট। যদি কেউ ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকে, সেক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাসপোর্ট আবেদন পরবর্তী পুলিশি তদন্ত প্রয়োজনীয় নয়।
নাজমুন নাহার অর্পিতা জানালেন, আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করা দরকার হলেও পুলিশের হয়রানি এবং বেআইনি প্রক্রিয়া অগ্রহণযোগ্য। মেহেদী হাসান বলেন, পুলিশের প্রক্রিয়া শিথিল হওয়ায় পাসপোর্টের জন্য যে ধাপ হয়রানি তৈরি করত, তা বন্ধ হয়েছে।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক শিহাব উদ্দিন খান জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই হয়ে গেলে নতুন পাসপোর্টের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন আর লাগবে না। আগে বহু আবেদনকারীর পাসপোর্ট পুলিশের বিলম্বিত প্রতিবেদন কারণে আটকে থাকত। এখন নিয়ম পরিবর্তনের ফলে দালাল-প্রতারকের সুযোগও কমেছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, অনলাইনে যাচাইকৃত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া পাসপোর্ট দেওয়া হবে।
পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় এই সংস্কার সাধারণ মানুষকে সময় ও অর্থ বাঁচিয়েছে এবং প্রশাসনিক সহজলভ্যতা বৃদ্ধি করেছে।
স্টাফ রিপোর্টার 
























